সমাজসেবা অধিদপ্তরের নিয়োগকে ঘিরে অর্থ লেনদেন, প্রশ্নপত্র ফাঁস, স্বজনপ্রীতি ও অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগ উঠেছে অধিদপ্তরের প্রশাসন-২ শাখার সাবেক কর্মকর্তা এবং বর্তমানে শরীয়তপুর জেলা কার্যালয়ের উপপরিচালক আব্দুর রশিদের বিরুদ্ধে। তাঁর বিরুদ্ধে অভিযোগ, দীর্ঘদিন একটি প্রভাবশালী নিয়োগ সিন্ডিকেটের মাধ্যমে বিভিন্ন পদে চাকরি দেওয়ার নামে প্রার্থীদের কাছ থেকে লাখ লাখ টাকা নেওয়া হয়েছে। সম্প্রতি ফাঁস হওয়া একটি অডিও রেকর্ডেও নিয়োগ ও রাজনৈতিক প্রভাব নিয়ে কথা বলতে শোনা যায়। তবে অডিওটির কণ্ঠ ও বক্তব্যের সত্যতা নিশ্চিত করে আব্দুর রশিদের চাচাত ভাই রেজাউল ইসলাম বলেন,চাকরি তো আর ফ্রী ফ্রী হয় না।চাকরি নেয়ার সময় কিছু টাকা খরচ করতে হয়।
আব্দুর রশিদ বগুড়ার শেরপুর উপজেলার সুঘাট ইউনিয়নের সাতারা গ্রামে।
অভিযোগ রয়েছে, আব্দুর রশিদের প্রভাবে তাঁর ভাই, ভাগিনা, ভাতিজাসহ সাতজন সমাজসেবা অধিদপ্তরে চাকরি পেয়েছেন।
জানা যায়, ২০১৭ সাল থেকে সমাজসেবা অধিদপ্তরের প্রশাসন-২ শাখায় কর্মরত থাকার সময় আব্দুর রশিদকে ঘিরে একটি নিয়োগ সিন্ডিকেট সক্রিয় ছিল। অভিযোগ অনুযায়ী,অফিস সহকারী, গাড়িচালকসহ বিভিন্ন পদে নিয়োগের জন্য প্রার্থীর কাছ থেকে পদভেদে ১০ থেকে ১৫ লাখ টাকা পর্যন্ত নেওয়া হতো । টাকা সংগ্রহ, প্রার্থী বাছাই এবং নিয়োগের বিভিন্ন ধাপে আলাদা ব্যক্তিরা কাজ করতেন বলেও সূত্রের দাবি।
২০১৯ সালে সমাজসেবা অধিদপ্তরের একটি নিয়োগ পরীক্ষা বাতিলের ঘটনাও নতুন করে আলোচনায় এসেছে। ওই পরীক্ষায় প্রায় সাত লাখ প্রার্থী অংশ নেওয়ার কথা ছিল। প্রশ্নপত্র ফাঁসের অভিযোগের পর পরীক্ষা বাতিল করা হয়।
অভিযোগকারীদের কেউ কেউ দাবি করছেন, প্রশাসন-২ শাখায় নিয়োগসংক্রান্ত প্রভাবশালী কর্মকর্তাদের ভূমিকা খতিয়ে দেখা প্রয়োজন।
সম্প্রতি ছড়িয়ে পড়া অডিও রেকর্ডে আব্দুর রশিদ স্থানীয় প্রভাবশালী রাজনৈতিক নেতাদের আশীর্বাদে প্রভাব বিস্তারের কথাও রয়েছে।
অডিওতে তিনি আরও দাবি করেন, বিগত বছরগুলোতে দলীয় বিবেচনা ছাড়া কাউকে নিয়োগ দেওয়া হয়নি এবং জুনিয়র ব্যাচের অনেকেই দলীয় কর্মী ছিলেন।
আব্দুর রশিদের বিরুদ্ধে সবচেয়ে বেশি অভিযোগ তাঁর স্বজনদের চাকরি পাওয়া নিয়ে। অভিযোগকারীদের দাবি, তাঁর প্রভাব কাজে লাগিয়ে ভাই, ভাগিনা, ভাতিজাসহ নিকটাত্মীয়দের কয়েকজন সমাজসেবা অধিদপ্তরে চাকরি পেয়েছেন।
বিশেষ করে ভাতিজার প্রতিবন্ধী কোটায় গাড়িচালক পদে নিয়োগের বিষয়টি নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। আব্দুর রশিদের গ্রামের বাড়ি বগুড়ার শেরপুর উপজেলার সাতারা গ্রামে। অভিযোগ রয়েছে, চাকরিজীবনে তিনি চকরাজীব, ক্যালাদহ, কাশিয়াবালা ও রাজাপুর এলাকায় কয়েক একর জমি কিনেছেন। আব্দুর রশিদের প্রতিবেশী কামরুল ইসলাম, হারেজ ও খালেক জানান,তার বাবার ২-৩ বিঘা জমি ছিল।
আব্দুর রশিদ ২০১৭ সালের পর গ্রামে কয়েক একর জমি কিনেছে অভিযোগের বিষয়ে শরীয়তপুর জেলা কার্যালয়ের উপপরিচালক আব্দুর রশিদের বক্তব্য জানতে একাধিকবার যোগাযোগ করা হলে তিনি ফোন রিসিভ করেন নি। তার ফোনে ক্ষুদে বার্তা দিয়ে বক্তব্য জানতে চাইলেও তিনি সাড়া দেননি।