সৌদি আরব, তুরস্ক ও পাকিস্তানকে নিয়ে গঠিত ‘মক্কা প্যাক্ট’-কে নিজেদের বিরুদ্ধে মনে করে না ইরান। একইসঙ্গে এই জোটে যুক্ত হওয়ার বিষয়ে বাংলাদেশের কোনো সিদ্ধান্তে তেহরানের কোনো উদ্বেগ নেই।
বুধবার পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবিরের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ শেষে সাংবাদিকদের এসব কথা জানান বাংলাদেশে নিযুক্ত ইরানের রাষ্ট্রদূত ড. জলিল রহিমি জাহানাবাদি। বাংলাদেশের ভারসাম্যপূর্ণ পররাষ্ট্রনীতির প্রশংসা করে তিনি বলেন, আপনাদের সরকারের আন্তর্জাতিক ও নিরাপত্তা বিষয়ক কোনো সিদ্ধান্তই ইরানের জন্য শঙ্কার কারণ হবে না। এ সময় তিনি বাংলাদেশের সঙ্গে রাজনৈতিক, বাণিজ্যিক ও সাংস্কৃতিক সম্পর্ক আরও জোরদারে আগ্রহ প্রকাশ করেন।
অন্যদিকে, পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির এ অঞ্চলের মানুষের স্বার্থে দ্রুত উত্তেজনা প্রশমন এবং টেকসই শান্তির আশা প্রকাশ করেন।
আঞ্চলিক নিরাপত্তার বিষয়ে ইরানি রাষ্ট্রদূত জানান, সাম্প্রতিক যুদ্ধ পরিস্থিতি স্পষ্ট করেছে, মার্কিন সামরিক ঘাঁটির উপস্থিতি মানেই নিরাপত্তার নিশ্চয়তা নয়। ফলে দেশগুলো এখন যুক্তরাষ্ট্রের ওপর নির্ভর না করে নিজেদের নিরাপত্তায় নিজেরাই স্বাবলম্বী হতে চাইছে। মক্কা চুক্তি তারই একটি ভালো উদাহরণ। পাকিস্তান ও সৌদি আরবকে নিয়ে গঠিত এই নতুন নিরাপত্তা বলয়কে ইরান কোনো হুমকি হিসেবে দেখে না।
গত ৭ আগস্ট সৌদি আরব, পাকিস্তান ও তুরস্ক আনুষ্ঠানিকভাবে ‘মক্কা যৌথ প্রতিরক্ষা চুক্তি’ বা ‘মক্কা চুক্তি’ স্বাক্ষর করে। বাংলাদেশ এখনো আনুষ্ঠানিক কোনো আমন্ত্রণ না পেলেও এই উদ্যোগকে ইতিবাচক হিসেবেই দেখছে।
গত মঙ্গলবার পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম জানান, মক্কা চুক্তিতে যোগ দেওয়ার আমন্ত্রণ পেলে জাতীয় স্বার্থকে সবার আগে অগ্রাধিকার দেওয়া হবে এবং পরিস্থিতি মূল্যায়ন করে তবেই সিদ্ধান্ত নেবে বাংলাদেশ।