সোমবার, ০৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০১:৫২ অপরাহ্ন
সর্বশেষ
সংবাদ প্রকাশের পর ডিমলা খাদ্য গুদামের সেই দুই কর্মকর্তা স্ট্যান্ড রিলিজ ভদ্রকোলে মাদকবিরোধী কমিটি, ব্যবসায়ীকে শেল্টার দিয়ে সাধারণ মানুষকে হয়রানি কাজিপুর নবাগত ইউএনওর সঙ্গে  উপজেলা দুর্নীতি প্রতিরোধ কমিটির মতবিনিময় ৫৯ ম্যাচ পর গোলহীন বায়ার্ন মিউনিখ কাশ্মীরের ডাল লেকে ৪১ দেশের সিনেমা নিয়ে বসছে চলচ্চিত্র উৎসব চাঁপাইনবাবগঞ্জে স্কুল ফিডিংয়ের খাবার খেয়ে অসুস্থ ১০ শিশু ইউপি নির্বাচনের তফসিল চলতি সেপ্টেম্বরেই : ইসি আনোয়ারুল সিরাজগঞ্জে অনুষ্ঠিত হলো ‘সুজন’স সার্চ ফর সোশ্যাল হিরো’ রাজশাহীর ক্রীড়া গৌরব ফেরাতে বহুমুখী উন্নয়ন পরিকল্পনা ভূমিমন্ত্রীর ব্যবসায় উন্নতির দোয়া
নোটিশ:
তথ্য ও প্রচার মন্ত্রণালয় নিবন্ধনকৃত অনলাইন নিউজ পোর্টাল দ্য পিপলস্ নিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকে সারা দেশে জেলা প্রতিনিধি নিয়োগ করা হবে। মোবাইল: ০১৭১১-১১৬২৫৭, ০১৭১২-৪০৭২৮২ ' ই-মেইল : thepeopelesnews24@gmail.com

৩৬ হাজার ফুট উচ্চতায় বিকল এয়ার ইন্ডিয়ার তিন হাইড্রোলিক ব্যবস্থা, আহত ২৪

অনলাইন ডেস্ক: / ১২ বার দেখা হয়েছে
আপডেট : রবিবার, ৬ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
-সংগৃহীত ছবি

প্রাথমিক প্রতিবেদনে আরও যা উঠে এল

৩৬ হাজার ফুট উচ্চতায় উড়ছিল এয়ার ইন্ডিয়ার একটি এয়ারবাস এ-৩২০ নিও। হঠাৎ কয়েক সেকেন্ডের ব্যবধানে বিমানের তিনটি হাইড্রোলিক ব্যবস্থা বিকল হয়ে যায়। এতে স্বয়ংক্রিয় উড্ডয়ন নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা বন্ধ হয়ে যায়, দুই সেকেন্ডের জন্য ‘স্টল’ সতর্কসংকেতও চালু হয়। এরপর বিমানটি হঠাৎ ৩৭২ ফুট ওপরে উঠে আবার ২৯২ ফুট নিচে নেমে যায়। এ ঘটনায় ২৪ জন আহত হন।

ফুকেট থেকে দিল্লিগামী এয়ার ইন্ডিয়ার এআই ২৩৭৯ ফ্লাইটে এ ঘটনা ঘটে। বিমান দুর্ঘটনা তদন্ত ব্যুরোর (এএআইবি) প্রাথমিক প্রতিবেদনে এসব তথ্য উঠে এসেছে।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, বিমানটির নিবন্ধন নম্বর ভিটি-ইএক্সও। ২০১৮ সালে তৈরি আট বছর বয়সী এয়ারবাস এ-৩২০ নিওটিতে সেদিন ১৩৭ জন যাত্রী, ছয়জন কেবিনকর্মী ও দুজন পাইলট ছিলেন। ফুকেট থেকে উড্ডয়নের সময় কোনো অস্বাভাবিকতার কথা জানা যায়নি।

ভারতীয় স্থানীয় সময় সকাল ৯টা ৩২ মিনিট ৪৩ সেকেন্ডে বিমানটি ৩৬ হাজার ফুট উচ্চতায় থাকার সময় প্রথমে সবুজ হাইড্রোলিক ব্যবস্থায় চাপ কমে যাওয়ার বিষয়টি শনাক্ত হয়। এর মাত্র চার সেকেন্ড পর নীল ও হলুদ হাইড্রোলিক ব্যবস্থাও বিকল হয়ে যায়।

এয়ারবাস এ-৩২০ বিমানে সবুজ, নীল ও হলুদ—তিনটি পৃথক হাইড্রোলিক ব্যবস্থা থাকে। এসব ব্যবস্থা বিমানের বিভিন্ন নিয়ন্ত্রণ পৃষ্ঠ পরিচালনায় প্রয়োজনীয় শক্তি সরবরাহ করে। একটি ব্যবস্থা বিকল হলেও অন্য দুটি সচল থাকার কথা। ফলে তিনটি ব্যবস্থা একই সময়ে বিকল হয়ে যাওয়ার ঘটনাকে অত্যন্ত বিরল বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

তিন হাইড্রোলিক ব্যবস্থা বিকল হওয়ার পর ৯টা ৩২ মিনিট ৪৮ সেকেন্ডে বিমানের স্বয়ংক্রিয় উড্ডয়ন নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা বন্ধ হয়ে যায়। একই সময় একটানা সতর্কসংকেত বাজতে থাকে। এর তিন সেকেন্ড পর দুই সেকেন্ডের জন্য ‘স্টল’ সতর্কসংকেত চালু হয়।

এএআইবির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ‘বিমানটি উচ্চতার অস্বাভাবিক পরিবর্তনের মুখে পড়ে। এ সময় প্রথমে এটি নির্ধারিত ৩৬ হাজার ফুট উচ্চতার চেয়ে ৩৭২ ফুট ওপরে উঠে যায়। পরে ২৯২ ফুট নিচে নেমে আসে।’

ঘটনার সময় বিমানে নিরাপত্তা বেল্ট বাঁধার সংকেত বন্ধ ছিল। ফলে হঠাৎ বিমানটি ওপরে উঠে আবার নিচে নেমে যাওয়ার সময় কিছু যাত্রী ও কেবিনকর্মী আসন থেকে ছিটকে গিয়ে বিমানের ছাদ ও মাথার ওপরের মালপত্র রাখার তাকের সঙ্গে ধাক্কা খান। এতে ২৪ জন আহত হন। কেবিনের বিভিন্ন অংশও ক্ষতিগ্রস্ত হয়।

তবে কয়েক সেকেন্ডের মধ্যেই হাইড্রোলিক ব্যবস্থাগুলো আবার সচল হতে শুরু করে। প্রথমে নীল ব্যবস্থা ফিরে আসে। এরপর হলুদ ও সবুজ ব্যবস্থাও সচল হয়। ফলে বিমানের উড্ডয়ন নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা স্বাভাবিকভাবে কাজ করতে শুরু করে।

ঘটনার সময় বিমান চালাচ্ছিলেন সহকারী পাইলট। পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার চেষ্টা করার পর প্রধান পাইলট নিয়ন্ত্রণ নেন। পরে তাঁরা দিল্লির উদ্দেশে উড্ডয়ন চালিয়ে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেন। পথে কাছের কোনো বিমানবন্দরে অবতরণ করা হয়নি।

এখনো জানা যায়নি মূল কারণ

এএআইবির প্রাথমিক প্রতিবেদনে তিনটি হাইড্রোলিক ব্যবস্থা কী কারণে কয়েক সেকেন্ডের ব্যবধানে বিকল হয়েছিল, তার কোনো কারণ জানানো হয়নি। কেন ব্যবস্থাগুলো আবার এত দ্রুত সচল হয়ে গেল, সেটিও স্পষ্ট করা হয়নি।

তদন্তকারীরা বিমানের হাইড্রোলিক ব্যবস্থার বিভিন্ন যন্ত্রাংশ, হাইড্রোলিক তরল, জ্বালানি ও তেলের নমুনা সংগ্রহ করেছেন। পাশাপাশি রক্ষণাবেক্ষণ ও পরিচালন-সংক্রান্ত নথি এবং দিল্লি ও কলকাতার বিমান চলাচল নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষের তথ্যও সংগ্রহ করা হয়েছে।

বিমানের উড্ডয়ন তথ্য রেকর্ডার ও ককপিটের কথোপকথনের রেকর্ডারও খুলে নিয়ে বিশ্লেষণ করা হচ্ছে। এয়ারবাসের নিয়োগ করা প্রযুক্তি বিশেষজ্ঞরাও ১৩ থেকে ১৫ আগস্ট বিমানটি পরীক্ষা করেন।

এএআইবি জানিয়েছে, তদন্ত এখনো চলছে। চূড়ান্ত প্রতিবেদনে দুর্ঘটনার সম্ভাব্য কারণ ও সংশ্লিষ্ট অন্যান্য বিষয় বিস্তারিতভাবে তুলে ধরা হবে।

পাইলটদের মাদক পরীক্ষার ফল নিয়েও প্রশ্ন

দিল্লিতে অবতরণের পর দুই পাইলটের উড্ডয়ন-পরবর্তী চিকিৎসা পরীক্ষা করা হয়। তাঁদের শ্বাস-পরীক্ষার ফল সন্তোষজনক ছিল। পাশাপাশি বিশেষ কিটের মাধ্যমে মাদক জাতীয় পদার্থ শনাক্তের পরীক্ষাও করা হয়।

প্রধান পাইলটের প্রাথমিক পরীক্ষার ফল ‘নেতিবাচক নয়’ হিসেবে পাওয়া যায়। পরে নিশ্চিতকরণ পরীক্ষার জন্য তাঁর রক্তের নমুনা পরীক্ষাগারে পাঠানো হয়। সহকারী পাইলটের দুটি পরীক্ষার ফলই নেতিবাচক এসেছে।

তবে প্রাথমিক প্রতিবেদনে পাইলটের মাদক পরীক্ষার ফলের সঙ্গে বিমানের হাইড্রোলিক ব্যবস্থা বিকল হওয়ার ঘটনার কোনো সম্পর্ক রয়েছে কি না, তা বলা হয়নি। তদন্তকারীরা প্রযুক্তিগত ও অন্যান্য বিষয় খতিয়ে দেখছেন।

এএআইবি অন্তর্বর্তীকালীন নিরাপত্তা সুপারিশ হিসেবে পাইলটদের মাদক জাতীয় পদার্থের অপব্যবহার প্রতিরোধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার কথা বলেছে।

এয়ার ইন্ডিয়ার এক মুখপাত্র জানিয়েছেন, তদন্তের কাজে প্রতিষ্ঠানটি পূর্ণ সহযোগিতা করছে। সংশ্লিষ্ট পরিচালন, রক্ষণাবেক্ষণ ও প্রযুক্তিগত নথিতে তদন্তকারীদের প্রবেশাধিকার দেওয়া হয়েছে। ঘটনার পর নিরাপত্তাকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিয়ে সব পাইলটের স্বেচ্ছামূলক শতভাগ পরীক্ষা শুরু করেছে এয়ার ইন্ডিয়া।

এদিকে সাবেক পাইলট ও বিমান বিশেষজ্ঞরা বলেছেন, প্রাথমিক প্রতিবেদনে তিনটি হাইড্রোলিক ব্যবস্থা কীভাবে এত দ্রুত বিকল হলো—এটাই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন। তাঁদের মতে, এই ঘটনার প্রযুক্তিগত কারণ চূড়ান্ত তদন্তেই স্পষ্ট হবে।

সূত্র: নিউজ১৮, টাইমস অব ইন্ডিয়া


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই বিভাগের আরও খবর