সিরাজগঞ্জের উল্লাপাড়া উপজেলার ভদ্রকোল গ্রামে আয়নাল হকের উদ্যোগে গঠিত কথিত একটি ‘মাদকবিরোধী কমিটি’ নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে নানা প্রশ্ন ও অসন্তোষের সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, মাদক নির্মূলের উদ্দেশ্যে কমিটি গঠনের কথা বলা হলেও বাস্তবে কমিটির কার্যক্রম নিয়ে স্বচ্ছতা নেই। বরং প্রকৃত মাদক ব্যবসায়ীকে শেল্টার দিয়ে সাধারণ মানুষকে ভয়ভীতি দেখানো, সালিশ-বৈঠকের নামে অর্থ আদায়, জমি সংক্রান্ত বিরোধ মীমাংসার কথা বলে টাকা নেওয়াসহ বিভিন্ন অভিযোগ উঠেছে এই কমিটির বিরুদ্ধে।
স্থানীয়দের দাবি, আয়নাল হক নিজের ইচ্ছামতো ওই কমিটি গঠন করেছেন। এতে স্থানীয় জনপ্রতিনিধি কিংবা সংশ্লিষ্ট থানা পুলিশের কোনো আনুষ্ঠানিক অনুমোদন বা সম্পৃক্ততা নেই। ফলে কথিত এই কমিটির বৈধতা ও কার্যক্রম নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন স্থানীয়রা।
জানা যায়, উল্লাপাড়া উপজেলার ভদ্রকোল গ্রামের মৃত মফিজ আকন্দর ছেলে আয়নাল হক। আয়নাল হকের রাজনৈতিক কোন পরিচয় বা পদ পদবী নেই, যখন যে দল ক্ষমতায় যায়, তখন সেই দলের ব্যানার ফেস্টুন দিয়ে অফিস তৈরি করেন। ক্ষমতার পালাবদলের সঙ্গে সঙ্গে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের ব্যানারে অবস্থান নেওয়ার অভিযোগও করেছেন কেউ কেউ। তার নেতৃত্বে গঠিত তথাকথিত এই মাদকবিরোধী কমিটিতে নিষিদ্ধ সংগঠন আওয়ামী লীগ নেতাকর্মী ও একাধিক মামলার আসামিদের নিয়ে কমিটির ব্যানারে এলাকায় প্রভাব বিস্তার করছেন। মাদক নির্মূলের উদ্দেশ্যে কমিটি গঠনের কথা বলা হলেও বাস্তবতা ভিন্ন, এলাকার চিহ্নিত এক নারী মাদক ব্যবসায়ীকে শেল্টার দিয়ে সাধারণ মানুষকে মামলার ভয়ভীতি দেখানো, হুমকি, সালিশ-বৈঠক, জমি সংক্রান্ত বিরোধ মীমাংসা, পারিবারিক কলহ নিষ্পত্তির নামে অর্থ আদায়সহ বিভিন্ন অভিযোগ উঠেছে এই কমিটির বিরুদ্ধে।
স্থানীয় এক যুবক বলেন, ‘‘মাদক মামলায় জড়িয়ে দেওয়ার ভয় দেখানো হচ্ছে, বিভিন্ন বিরোধে হস্তক্ষেপ এবং সালিশ-বৈঠক, জমি সংক্রান্ত বিরোধ নিষ্পত্তির কথা বলে বিভিন্ন রকম ধান্দা করছেন তারা। সালমা খাতুনের বিরুদ্ধে দীর্ঘদিন ধরে মাদক ব্যবসার অভিযোগ থাকলেও কথিত মাদকবিরোধী কমিটির পক্ষ থেকে তার বিরুদ্ধে দৃশ্যমান কোনো উদ্যোগ নেয়নি।’’
স্থানীয় একাধিক বাসিন্দা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, এলাকায় মাদক নির্মূলের নামে কোনো কমিটি হলে তারা সেটিকে স্বাগত জানাবেন। প্রকৃত মাদকবিরোধী কার্যক্রম পরিচালনা করতে হলে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সঙ্গে সমন্বয় করে কাজ করতে হবে। কিন্তু সেই কমিটির কার্যক্রম যেন কোনো ব্যক্তিগত স্বার্থে ব্যবহার না হয়, সেটিই তাদের দাবি।
স্থানীয় এক মুরুব্বি জানান, বিভিন্ন সময় এই কমিটির কয়েকজন সদস্যকে সালমার বাড়িতে বিভিন্ন অনুষ্ঠানে অংশ নিতে দেখা যায়। এ নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে নানা আলোচনা রয়েছে। তাদের প্রশ্ন—যদি কমিটি সত্যিই মাদকবিরোধী কার্যক্রম পরিচালনা করে থাকে, তাহলে প্রকাশ্যে যাদের বিরুদ্ধে মাদক ব্যবসার অভিযোগ রয়েছে, তাদের বিষয়ে কেন কোনো কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে না?
তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে অস্বীকার করে আয়নাল হক বলেন, ‘‘আমি কোন মাদক ব্যবসায়ীকে শেল্টার দিচ্ছিনা। আমি সালমা নামের কাহকে চিনিনা, সালমা আমার কিছু হয়না।’’
কথিত মাদকবিরোধী কমিটির কার্যক্রম নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন স্থানীয় ইউপি সদস্য শাহ আলম সর্দার। তিনি বলেন, “এরা কিসের মাদক নির্মূল করবে? মাদক নির্মূল করবে পুলিশ-প্রশাসন। ওরাই তো বিভিন্ন অনিয়মের সঙ্গে জড়িত। এই কমিটির লোকজনের বিরুদ্ধে প্রতিদিন আমার কাছে বিচার আসে। যারা নিজেরাই অনৈতিক কর্মকাণ্ডে জড়িত, তারা কীভাবে সমাজের ভালো করবে।”
এ বিষয়ে উল্লাপাড়া মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মেহেদী হাসান বলেন, এ ধরনের কোনো অভিযোগ আমাদের কাছে আসেনি। আপনি বিষয়টি জানালেন। আমরা বিষয়টি খতিয়ে দেখে তদন্ত করব। অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।