বৃহস্পতিবার, ১৫ অক্টোবর ২০২৬, ০৮:২৬ অপরাহ্ন
সর্বশেষ
হিন্দু ভাই-বোনরা বুক উঁচু করে চলবেন, পাশে আছি: হুইপ দুলু রাত পোহালেই শুরু হবে ষষ্ঠী পূজা; ৮৩৬ মন্ডপে বাঁজবে ঢাক ও কাঁশির শব্দ কাজিপুরে এলপিজি গ্যাস সিলিন্ডারের দুটি  দোকানে অর্থদণ্ড সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির বন্ধনে জয়পুরহাটে উৎসবের আমেজ: মণ্ডপে মণ্ডপে ঢাকের কাঠি আর আরতির উল্লাস এডওয়ার্ড ফিটনেস ক্লাব পাবনার ১৬তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী পালন বিজিবির অভিযানে প্রায় ২ কোটি ৮০ লাখ টাকার বিদেশি কয়েন সহ আটক ২ সলঙ্গায় প্রশংসায় ভাসছে আব্দুল করিম শিরাজী সেচ্ছাশ্রমে ১২ শ মিটার চলাচল অনুপযোগী মেঠো পথ মেরামত কুড়িগ্রামে মাদকাসক্ত ছেলের ছুরিকাঘাতে মায়ের মৃত্যু, বাবা গুরুতর আহত নওগাঁয় ১২০ বস্তা ডিএপি সার পাচার আটক করলেন স্থানীয়রা উল্লাপাড়ায় ছাগল গাছ খাওয়াকে কেন্দ্র করে বসতবাড়িতে হামলা-ভাঙচুর: নারীসহ আহত ৩
নোটিশ:
তথ্য ও প্রচার মন্ত্রণালয় নিবন্ধনকৃত অনলাইন নিউজ পোর্টাল দ্য পিপলস্ নিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকে সারা দেশে জেলা প্রতিনিধি নিয়োগ করা হবে। মোবাইল: ০১৭১১-১১৬২৫৭, ০১৭১২-৪০৭২৮২ ' ই-মেইল : thepeopelesnews24@gmail.com

রাত পোহালেই শুরু হবে ষষ্ঠী পূজা; ৮৩৬ মন্ডপে বাঁজবে ঢাক ও কাঁশির শব্দ

নওগাঁ প্রতিনিধি : / ৪৩ বার দেখা হয়েছে
আপডেট : বৃহস্পতিবার, ১৫ অক্টোবর, ২০২৬

রাত পোহালেই শুরু হতে যাচ্ছে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের সবচেয়ে বড় ধর্মীয় উৎসব শারদীয় দুর্গাপূজা। ১৬অক্টোবর ষষ্ঠী পূজার মধ্য দিয়ে শুরু হবে বড় এই উৎসবের আমেজ। এবার নওগাঁর ৮৩৬টি মন্ডপে বাঁজবে শঙ্খ, শোনা যাবে ঢাক-ঢোল, কাঁশি ও বাঁশির শব্দ। তাই দেবদুর্গাকে পরিপূর্ণ রুপ দিতে চলছে শেষ মূহুর্তের প্রস্তুতি।
এবার সপ্তমী দু্ই দিন হওয়ায় আগামী ১৬অক্টোবর শুক্রবার থেকে ২১অক্টোবর বুধবার ৬দিন ব্যাপী শারদীয় দুর্গা পূজা অনুষ্ঠিত হবে। কয়েক ঘন্টা পরেই এবার দেবীদুর্গা মর্তলোকে আগমন ঘটকে(ঘোড়ায়) চড়ে, আর গমণ করবেন নৌকায়। তাই মাকে স্বাগত জানাতে প্রস্তুতি নিচ্ছেন জেলার সকল শ্রেণী পেশার মানুষ। আর শান্তিপূর্ণভাবে উৎসব উদযাপনের আশায় আছেন উত্তরের এই জেলার সনাতন ধর্মাবলম্বীরা। এজন্য ব্যস্ত সময় পার করছেন প্রতিমা গড়ার কারিগররা।
এবার এ জেলায় ৮৩৬টি মন্ডপে শারদীয় দুর্গা পূজা অনুষ্ঠিত হতে চলছে। এরমধ্যে নওগাঁ সদর উপজেলায় ৭০টি এবং পৌরসভায় ৫৮টি, মহাদেবপুর উপজেলায় ১৬০টি, মান্দায় ১২৬টি, বদলগাছীতে ১০৮টি, পত্নীতলায় ৮৪টি, নিয়ামতপুরে ৫৫টি, আত্রাইয়ে ৫৪টি, রানীনগরে ৫০টি, ধামইরহাটে ৩২টি, সাপাহারে ২০টি এবং পোরশা উপজেলায় ১৯টি মন্ডপে পূজা অনুষ্ঠিত হবে।
গত বছর ৮০১টি মন্ডপে শারদীয় দুর্গা পূজা অনুষ্ঠিত হয়েছিল এ জেলায়। তার আগের বছর ৮১৯টি মন্ডপে পূজা অনুষ্ঠিত হয়েছিল। এবার এবছর জেলায় বাড়তি ৩৫টি মন্ডপে পূজা অনুষ্ঠিত হতে চলেছে।
জেলার একাধিক উপজেলার বিভিন্ন পূজামন্ডপ ঘুরে দেখা গেছে, কাঁদা-মাটি, বাঁশ, খড়, সুতলি দিয়ে শৈল্পিক ছোঁয়ায় তিলতিল করে তৈরি করেছে দেবীদূর্গার প্রতিমা। রাত-দিন শক্ত মাটি নরম করে দেবী দুর্গার সাথে নিপুণ হাতে গড়ে তুলেছে কার্তিক, গণেশ, লক্ষ্মী, সরস্বতী আর অসুরের প্রতিমা। প্রতিমা তৈরির কাজ শেষ। এখন দেবীদুর্গাকে পরিপূর্ণ রুপ দিতে রং তুলির আঁচড়ে ব্যস্ত মৃৎশিল্পীরা। স্থানীয় শিল্পী ছাড়াও বিভিন্ন স্থান থেকে আগত শিল্পীরা এখানে রং তুলিতে জানান দিচ্ছেন তাদের হাতের নৈপুণ্য।
অন্যদিকে প্রতিমার পাশাপাশি বাদ্যযন্ত্র ঠিক ও তৈরী করতে ব্যস্ত সময় পার করছে ঢাক-ঢোল, কাঁশি ও বাঁশির কারিগররা। এছাড়া মন্ডপ গুলোতে চলছে সাজসজ্জার প্রস্তুতি।
আয়োজকরা জানিয়েছেন, শান্তিপূর্ণ ও উৎসবমুখর পরিবেশে পূজা উদযাপনের জন্য প্রয়োজনীয় সব প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে। তাই প্রস্তুত আছে জেলা পূজা উদযাপন ফ্রন্ট ও পূজা উদযাপন কমিটির নেতারা। আর শান্তিপূর্ণ ও সুষ্ঠভাবে পূজা সম্পন্ন করতে প্রস্তুত আছে জেলা প্রশাসন ও পুলিশসহ আইন শৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা। আলোকসজ্জা ও মন্দির গুলোতে নিরাপত্তা নিশ্চিতে সিসিটিভি ক্যামেরা স্থাপনসহ বিদ্যুতের বিকল্প হিসেবে জেনারেটরের ব্যাবস্থা রাখা হয়েছে। সার্বজনীন এ দুর্গাপূজাকে উৎসব মুখোর করতে বিগত বছর গুলোর চেয়ে এবছর সরকারি বরাদ্দে একশ’কেজি চাল বৃদ্ধি করা হয়েছে। শান্তিপুর্ন ও নির্বিঘ্নে সনাতন ধর্মাবলম্বী মানুষরা যেন ৬ দিনব্যাপী তাদের বৃহৎ ধর্মীয় এ উৎসব পালন করতে পারে সে লক্ষ্যে জেলা ও উপজেলা প্রশাসনের উদ্যোগে স্ব স্ব এলাকার এমপি, রাজনৈতিক দলের শীর্ষ নেতৃবৃন্দ, আইন শৃংখলা বাহিনী, পুজা উদযাপন পরিষদ, পুজা উদযাপন ফ্রন্ট ও বিভিন্ন মন্দির কমিটির নেতৃবৃন্দ এবং স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের নিয়ে মতবিনিময় করা হয়।
তবে প্রতিমা তৈরির উপকরণের মূল্য বৃদ্ধি পেলেও কাঙ্খিত মূল্য পাচ্ছে না বলে জানান কারিগরা। আর্থিকভাবে লাভবান না হলেও পৈত্রিক পেশা ধরে রাখতে এ কাজ করে যাচ্ছেন কারিগররা।
মৃতশিল্পীরা জানান, “প্রতিমা তৈরির এ কাজ শুধু পেশা নয়, ধর্মীয় আবেগ ও ভালোবাসার জায়গা থেকে করা হয়। সেই জন্য দুর্গা মাকে নিজের মায়ের মতো করেই গড়ি।”  তারা আরও বলেন, প্রতিমা তৈরির উপকরণের দাম বাড়লেও ক্রেতারা প্রতিমার দাম বলছেন কম। বাধ্য হয়ে প্রতিমা বিক্রি করতে হচ্ছে। এতে খুব একটা লাভের মুখ দেখছি না।
নওগাঁ কালেক্টরেট পূজা মন্ডপের সভাপতি সুবল চন্দ্র মন্ডল বলেন, সাজসজ্জাসহ সকল প্রস্তুতি প্রায় সম্পন্ন। আমাদের এটা ৩৭তম পূজা। আগামীকাল থেকেই শুরু হতে যাচ্ছে আমাদের সবচেয়ে বড় উৎসব দুর্গাপূজা। এবার সরকারি অনুদান ৬০০কেজি চাল পাওয়া গেছে। এবং কল্যাণ ট্রাস্ট থেকেও অনুদান পাওয়া যাবে। এছাড়া জেলা প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা সার্বক্ষণিক যোগাযোগ রাখছেন। আশা করছি পূজা আনন্দসহ সুষ্ঠ ও সুন্দরভাবে শেষ হবে।
বাংলাদেশ জাতীয় হিন্দু মহাজোট  নওগাঁ জেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক সুবীর কুমার দাস বলেন, সাম্প্রদায়িক সম্প্রতির এদেশ। এদেশে সকল সম্প্রদায়ের মানুষ তাদের স্ব স্ব ধর্ম পালন করে আসছে শত-শত বছর ধরে।সার্বজনীন এ দুর্গাপূজা উদযাপনে কেউ বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির চেষ্টা করলে তাকে আইনের হাতে সোর্পদ করার আহবান জানান তিনি।
জেলা পূজা উদযাপন পরিষদের ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক প্রতাপ চন্দ্র সরকার এবং পৌর শাখার সভাপতি পিযুষ কান্তি সরকার বলেন, আগামী ১৬অক্টোবর ষষ্ঠী তিথিতে শুরু হবে এ পূজা উৎসব। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি সুন্দর ও সুষ্ঠ আছে। জেলা প্রশাসন ও পুলিশের সহযোগিতায় পূজা সুন্দর ও সুষ্ঠভাবে সম্পন্ন হবে এটাই আমাদের প্রত্যাশা।
জানতে চাইলে জেলা পূজা উদযাপন ফ্রন্টের আহ্বায়ক প্রদীপ কুমার কুন্ডু বলেন, এবার জেলায় ৮৩৬টি মন্ডপে শারদীয় দুর্গা পূজা অনুষ্ঠিত হবে। এই ৮৩৬টি মন্ডপের পূজা সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করার জন্য জেলা প্রশাসনসহ জেলার সকল আইন শৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদের সাথে দফায় দফায় মিটিং করা হয়েছে। উনারা সকলেই পূজা সুষ্ঠ ও সুন্দর ভাবে সম্পন্ন করতে সর্বাত্মক সহযোগিতা করবেন। কাজেই এবার সবচেয়ে উৎসাহ ও উদ্দীপনার মধ্যে দিয়ে পূজা উদযাপন হবে। আনন্দ হবে সকলে মিলে। কারণ ধর্ম যার যার, উৎসব সবার। এছাড়া বিএনপি সরকার হিন্দুদের প্রতি আলাদা নজর রেখেছেন। সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বজার রাখতে বিএনপি সরকার বদ্ধপরিকর।
তারা আরও বলেন আইনশৃঙ্খলা বাহিনীসহ সকলের কাছে প্রত্যাশা দর্শনার্থীরা যেন নির্দ্বিধায় নির্বিঘ্নে প্রতিমা দর্শন করতে পারেন। এবং সকলেই যেন উৎসবমুখর পরিবেশে পূজার আনন্দ উপভোগ ও উদযাপন করতে পারে। ২১অক্টোবর বুধবার দশমী তিথিতে প্রতিমা বিসর্জনের মধ্য দিয়ে শেষ হবে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের সবচেয়ে বড় উৎসব ৬দিনের শারদীয় দূর্গাপূজা।
নওগাঁর পুলিশ সুপার মোহাম্মদ তারিকুল ইসলাম বলেন, জেলায় সুন্দর ও সুষ্ঠ পরিবেশ আছে।
তাই আমি পরিস্কারভাবে বলতে চাই নওগাঁতে দুর্গাপূজাকে কেন্দ্র করে কোনো গোষ্ঠি, কোনো সম্প্রদায় বা কোনো ব্যক্তি যদি কোনো ধরণের অপ্রিতীকর ঘটনার চেষ্টা করে, তাহলে জেলা পুলিশ আইন অনুযায়ী সেটা কঠোর হস্তে দমন করবে।
জানতে চাইলে নওগাঁ জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম বলেন, দুর্গাপূজা উপলক্ষে পূজা কমিটির নেতৃবৃন্দসহ মন্দির কমিটির সাথে সবসময় যোগাযোগ করা হচ্ছে। সরকারের পক্ষ থেকে সর্বাত্মক সহযোগিতা করা হবে। আশা করছি এবার পূজা খুব উৎসব মূখর পরিবেশে অনুষ্ঠিত হবে। সেই জন্য জেলা প্রশাসনসহ বিভিন্ন আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সসদস্যর এই পূজা উৎসবকে ঘিরে তৎপর আছে। যাতে সনাতন ধর্মাবলম্বী লোকজন নির্বিঘ্নে শান্তিপূর্ণভাবে পূজা উৎসব উদযাপন করতে পারে।
উল্লেখ, সনাতন ধর্মাবলম্বীদের কাছে দেবীদুর্গা শক্তি ও সুন্দরের প্রতীক। প্রতি বছর অশ্বরের বিনাশ কল্পে মা দেবী দুর্গা এই ধরাধামে আবির্ভূত হয়। হিন্দু শাস্ত্র মতে দুষ্ট লোক অসুরকে বধ করার জন্য দেবীদুর্গা আবির্ভাব হয়েছিলেন। তাই সনাতন ধর্মাবলম্বীরা সমাজ থেকে অন্যায় অবিচার গ্লানি দূর করার জন্যই এই পূজার আয়োজন করে থাকেন। এবং আগামী দিনেও তিনি সমাজের শান্তি রক্ষায় আবির্ভাব হবেন বলে প্রত্যাশা সনাতন ধর্মাবলম্বীদের।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই বিভাগের আরও খবর