সিরাজগঞ্জের উল্লাপাড়ায় ছাগল গাছ খাওয়াকে কেন্দ্র করে পূর্ববিরোধের জেরে এক বসতবাড়িতে হামলা, ভাঙচুর, নারী নির্যাতন ও মারধরের ঘটনা ঘটেছে। এতে নারীসহ একই পরিবারের ৩ জন গুরুতর আহত হয়েছেন। এ ঘটনায় উল্লাপাড়া মডেল থানায় ৭ জন ও অজ্ঞাতনামা আরও ৩-৪ জনকে আসামি করে মামলা করা হয়েছে।
মামলা সূত্রে জানা যায়, গত ১১ অক্টোবর ২০২৬ তারিখ সকাল আনুমানিক ১১:০০ ঘটিকার সময় উল্লাপাড়া উপজেলার বাখুয়া এলাকায় এ হামলার ঘটনা ঘটে। ভুক্তভোগী পরিবারের সদস্য মো. ইলিয়াস কাওছার বাদী হয়ে উল্লাপাড়া মডেল থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করলে তা নিয়মিত মামলা হিসেবে রেকর্ড করা হয়।
মামলা নম্বর: ১৬ জিআর নম্বর: ২৩-০৫ (উল্লা:) মামলার অভিযোগপত্র থেকে জানা যায়, গত ১১/১০/২০২৬ তারিখে বাদী মো. ইলিয়াস কাওছারদের একটি ছাগল আসামীদের জমিতে গেলে তারা ক্ষিপ্ত হয়ে বাদীর পরিবারের সদস্যদের গালাগালী ও হুমকি-ধামকি দেয়। পরবর্তীতে একই দিন সকাল ১১:০০ ঘটিকার সময় পূর্বপরিকল্পিতভাবে আসামীরা সংঘবদ্ধ হয়ে লোহার রড, ছুরি, লাঠি ও বাটামসহ দেশীয় অস্ত্রে নিয়ে ইলিয়াস কাওছারের বসতবাড়িতে প্রবেশ করে।
হামলাকারীরা ধারালো ছুরি দিয়ে মোছাঃ শিরিনা খাতুন কে হত্যার উদ্দেশ্যে মাথায় কোপ মেরে রক্তাত্ত গুরুতর জখম করে। মোঃ সোহাগ ইকবাল এর মাথায় কোপ দিয়ে রক্তাক্ত জখম করে। মো. ইলিয়াস কাওছাদের মাথায় আঘাত করে জখম করে এবং অন্যান্য আসামীরা লাঠি, বাটাম ও রড দিয়ে এলোপাতাড়ি মারধর করে।
এ সময় বাদীর বোন মোছাঃ সোনিয়া খাতুন এগিয়ে গেলে আসামীরা তাকেও এলোপাতাড়ি মারধর করে এবং বাদীর মা ও বোনের পরনের কাপড় টেনে হেঁচড়ে শ্লীলতাহাতার চেষ্টা করে। এবং প্রাণনাশের হুমকি দিয়ে স্থান ত্যাগ করে। ঘটনার পর স্থানীয় লোকজনের সহায়তায় গুরুতর আহত আবস্থায় মোছাঃ শিরিনা খাতুন, মোঃ সোহাগ ইকবাল ও মো. ইলিয়াস কাওছারকে উদ্ধার করে চিকিৎসার জন্য উল্লাপাড়া ৩০ শয্যা বিশিষ্ট হাসপাতাল কাওয়াকে ভর্তি করে।
পরবর্তী অবস্থা অবনতি হলে, কর্তব্যরত চিকিৎসক রাবেয়া বিনতে আক্তার (মেডিকেল অফিসার) উন্নত চিকিৎসার জন্য সিরাজগঞ্জ সদর হাসপাতালে রেফাট করতে বলেন । বর্তমানে তারা সিরাজগঞ্জ (২৫০) শয্যা বিশিষ্ট হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় রয়েছে।
এ বিষয়ে অভিযুক্ত আনোয়ার ও আলামিনের সাথে মুঠো ফোনে যোগাযোগ করা হলে, তারা বলেন ইলিয়াস কাওছার আমাদের কাছে টাকা দাবি করেন।
এ বিষয়ে উল্লাপাড়া মডেল থানা উপপরিদর্শক মোঃ আঃ হালিম বলেন, অভিযোগের ভিত্তিতে মামলা নেওয়া হয়েছে। ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত সাপেক্ষে জড়িত আসামীদের গ্রেপ্তারে প্রক্রিয়া চলছে।