রাজনীতি নিয়ে আদর্শিক দ্বন্দ্বে এক চরম সিদ্ধান্ত নিলেন ঝিনাইদহের এক বাবা। নিষিদ্ধ ঘোষিত সংগঠন ছাত্রলীগের রাজনীতিতে সক্রিয় থাকার অভিযোগে নিজের সন্তানকে ত্যাজ্য ঘোষণা করেছেন মো. আবু জাফর (৪৮)। সোমবার (২ মার্চ) ঝিনাইদহ জেলা নোটারি পাবলিক কার্যালয়ে এক হলফনামার মাধ্যমে তিনি এই আইনি বিচ্ছেদের ঘোষণা দেন।
ত্যাজ্য ঘোষিত নাহিদ হাসান সবুজ (২৪) ঝিনাইদহ সরকারি কেশবচন্দ্র (কেসি) কলেজ শাখা ছাত্রলীগের যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক। তার বাবা আবু জাফর সদর উপজেলার পোড়াহাটি ইউনিয়নের আড়ুয়াকান্দি গ্রামের একজন ব্যবসায়ী।
হলফনামায় মো. আবু জাফর উল্লেখ করেন, তার ছেলে দীর্ঘদিন ধরে তার অবাধ্য এবং অবান্তর জীবনযাপন করে আসছিলেন। তিনি বর্তমানে পরিবারের সঙ্গে বসবাস করেন না এবং নিজের খেয়ালখুশিমতো আলাদা থাকেন।
হলফনামায় আবু জাফর আরও অভিযোগ করেন, গত ৫ আগস্ট (২০২৪) পরবর্তী সময়ে ছাত্রলীগকে নিষিদ্ধ করা সত্ত্বেও তার ছেলে এই সংগঠনের বিভিন্ন কার্যক্রমে লিপ্ত আছেন। বিশেষ করে গত ২১ ফেব্রুয়ারি ঝিনাইদহ জেলা আওয়ামী লীগের পরিত্যক্ত কার্যালয়ে পতাকা উত্তোলন করেন তার সন্তান সবুজ। এ সংক্রান্ত একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হলে বাবা হিসেবে তিনি বিব্রত বোধ করেন।
হলফনামায় উল্লেখ করা হয়, নাহিদ হাসান সবুজের কোনও প্রকার আয়-রোজগার, দায়-দেনা বা কর্মকাণ্ডের সঙ্গে বাবা আবু জাফর বা তার পরিবারের অন্য কোনও সদস্যের সম্পর্ক থাকবে না। তার কোনও অপকর্মের দায়ভার পরিবার বহন করবে না। ভবিষ্যতে তার সঙ্গে পরিবারের সকল প্রকার রক্ত সম্পর্কীয় ও আইনি বিচ্ছেদ বজায় থাকবে।
এ ঘটনায় ত্যাজ্য ঘোষণাকারী মো. আবু জাফর বলেন, ‘দেশের আইন ও নীতিমালার পরিপন্থী কোনও কাজ আমার সন্তান করুক তা আমি চাই না। বারবার সতর্ক করার পরও সে শোধরায়নি, তাই বাধ্য হয়ে আমি এই কঠিন সিদ্ধান্ত নিয়েছি।’
ঝিনাইদহ জেলা জজ কোর্টের অ্যাডভোকেট মো. সাদাতুর রহমান হাদির মাধ্যমে এই আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন করেন আবু জাফর।
এ ব্যাপারে ছাত্রলীগ নেতা নাহিদ হাসান সবুজের বক্তব্য জানতে তার মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করেও মুঠোফোনটি খোলা পাওয়া যায়নি।