সিরাজগঞ্জের উল্লাপাড়ায় সাম্প্রতিক সময়ে চুরির ঘটনা আশঙ্কাজনক হারে বৃদ্ধি পেয়েছে। গত ২৬ দিনে পৌর এলাকার ঘোষগাঁতী মহল্লার নারায়ণ চন্দ্র বর্দ্ধন এর বাড়ী, বিমল চন্দ্র দাসের বাড়ী, লাভলু সাহেবের বিল্ডিং এর ভাড়াটিয়ার বাসায় চুরি, পৌরভবনের ওয়াইফাই লাইন এর তার চুরি, চরকাওয়াক মহল্লার রাম কর্মকারের নতুন বিল্ডিংয়ে তার ছুরি, ঝিকিড়া মহল্লার প্রভাত নন্দীর বিল্ডিংয়ে সাথী ম্যাডামের বাসায় চুরি, সাহাপাড়ার তিনটি মন্দিরে স্বর্ণালংকার চুরি, জাহাঙ্গীর সাংবাদিকের বিল্ডিংয়ে ভাড়াটিয়ার বাসায় মোটরসাইকেল সহ চুরি, মোমেনা আলী বিজ্ঞান স্কুলের করনিক লিয়নের বাসা চুরি, শ্রীফলগাঁতীর খামার থেকে ১০ গরু চুরি, উল্লাপাড়া আলহাজ্ব আবু সিদ্দিক এর বিল্ডিংয়ে ভাড়াটিয়ার বাসা সহ অন্তত ১২টি বসতবাড়ি থেকে স্বর্ণালংকার, মোটরসাইকেল, গরু সহ বিভিন্ন মালামাল চুরি হওয়ার ঘটনা ঘটেছে। এতে করে পৌরবাসীর সাধারণ মানুষের মধ্যে চরম ক্ষোভ, আতষ্ক ও নিরাপত্তাহীনতা দেখা দিয়েছে।
স্থানীয়রা জানান, চোরচক্র পরিকল্পিতভাবে রাতে ও দিনের বেলায় বিভিন্ন বাড়িতে হানা দিয়ে লোকজনের অনুপস্থিতির সুযোগ নিয়ে মূল্যবান সামগ্রী চুরি করে পালিয়ে যাচ্ছে। এসব ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলো ব্যাপক আর্থিক ক্ষতির সম্মুখীন হচ্ছেন পাশাপাশি মানসিকভাবে ভেঙে পড়ছেন তারা।
ক্ষতিগ্রস্থ পরিবারগুলোর অভিযোগ, ধারাবাহিকভাবে এমন ঘটনা ঘটলেও প্রশাসনের পক্ষ থেকে দৃশ্যমান কোনো কার্যকর পদক্ষেপ লক্ষ্য করা যাচ্ছে না। চোরচক্র আরও বেপরোয়া হয়ে উঠছে বলে মনে করছেন তারা। প্রতিদিনই কোথাও না কোথাও চুরি হচ্ছে।
এব্যাপারে পৌরবাসী জানান, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর টহল জোরদার এবং দ্রুত তদন্তের মাধ্যমে অপরাধীদের আইনের আওতায় এনে নিয়মিত মামলা দিয়ে জেল-হাজতে পাঠালে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রনে আনা সম্ভব। নইলে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে উঠতে পারে।
এ বিষয়ে সচেতন মহল উদ্বেগ প্রকাশ করে জানিয়েছেন, এভাবে চুরির ঘটনা প্রতিনিয়ত ঘটতে থাকলে এলাকায় আইনশৃঙ্খলার চরম অবনতি ঘটবে। তারা দ্রুত প্রশাসনের হস্তক্ষেপ এবং নিরাপত্তা জোরদারের জোড় দাবি জানিয়েছেন।
এদিকে গরুর খামারিরা, রাতের বেলায় অতিরিক্ত সতর্কতা অবলম্বন করে কেউ কেউ স্থানীয়ভাবে পাহারার ব্যবস্থাও চালু করেছেন। তবে স্থায়ী সমাধানের জন্য প্রশাসনকে কার্যকরী ব্যবস্থা গ্রহণের অনুরোধ জানিয়েছেন ভুক্তভোগীরা।
পৌর সচিব আশরাফুল ইসলাম জামান, পৌর কতৃপক্ষ ইতিমধ্যে তালিকা তৈরির কাজ শুরু করেছে। আইন শৃঙ্খলা মিটিংয়ে আলোচনা করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
উল্লাপাড়া মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মোক্তারুজ্জামান জানান, অনেক চুরির ঘটনা থানাকে জানানো হয়না। তবে সব চুরির ঘটনা তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।