সোমবার, ২৭ এপ্রিল ২০২৬, ০৭:১৬ অপরাহ্ন
সর্বশেষ
কিশোরগঞ্জে নিয়োগ কার্যক্রম পরিদর্শন করলেন পুলিশ সুপার মিজানুর রহমান নোয়াখালী সিটি করপোরেশন ও বিভাগ বাস্তবায়নে বিলম্ব কেন? শেরপুরে ঝড়ে লণ্ডভণ্ড ফসলের মাঠ: সোনালি স্বপ্ন এখন কৃষকের গলার ফাঁস ছিনতাইকারীরা চলন্ত সিএনজি থেকে ফেলে দিয়ে হত্যা করে কুমিল্লার কাস্টমস কর্মকর্তাকে: র‍্যাব নোয়াখালীতে মাইকে লাগিয়ে ‘জয় বাংলা’ স্লোগান, পুলিশ দেখে পালালো যুবক তাড়াশে পুকুর খননে মিলল প্রাচীন পোড়ামাটির মূর্তির অংশ প্রাক্তন প্রেমিকের থেকে নগ্ন ভিডিও নিয়ে বিক্রি, টার্গেট ছাত্রীরা মোহাম্মদপুরে বিশেষ অভিযান: বিভিন্ন অপরাধে জড়িত ২৭ জন গ্রেফতার দেড় মিনিটের ঝড়ে উল্লাপাড়ায় গাছ ভেঙ্গে এক গৃহবধুর মৃত্যু: ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি ভৈরব হাইওয়ে থানা মডেল থানায় রূপান্তরের উদ্যোগ
নোটিশ:
তথ্য ও প্রচার মন্ত্রণালয় নিবন্ধনকৃত অনলাইন নিউজ পোর্টাল দ্য পিপলস্ নিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকে সারা দেশে জেলা প্রতিনিধি নিয়োগ করা হবে। মোবাইল: ০১৭১১-১১৬২৫৭, ০১৭১২-৪০৭২৮২ ' ই-মেইল : thepeopelesnews24@gmail.com

শেরপুরে দাখিল পরীক্ষায় নিয়মিতদের দেওয়া হলো অনিয়মিতের প্রশ্ন, ফলাফল নিয়ে চরম শঙ্কা

শেরপুর (বগুড়া) প্রতিনিধি: / ১৬ বার দেখা হয়েছে
আপডেট : সোমবার, ২৭ এপ্রিল, ২০২৬


বগুড়ার শেরপুর উপজেলায় দাখিল পরীক্ষা ২০২৬-এর গণিত পরীক্ষায় চরম দায়িত্বহীনতার অভিযোগ উঠেছে। নিয়মিত পরীক্ষার্থীদের হাতে অনিয়মিত (ইরেগুলার) সিলেবাসের এমসিকিউ প্রশ্নপত্র তুলে দেওয়ায় ২৯ জন শিক্ষার্থীর ফলাফল এখন অনিশ্চয়তার মুখে। গত রোববার (২৬ এপ্রিল) শেরপুর শহীদিয়া আলিয়া মাদ্রাসা কেন্দ্রের ১০১ ও ১০২ নম্বর কক্ষে এই নজিরবিহীন ঘটনা ঘটে।

অনুসন্ধানে জানা যায়, ওই কেন্দ্রে রাজার দিঘি দাখিল মাদ্রাসার ১৩ জন, ফুলতলা দাখিল মাদ্রাসার ১০ জন, চকসাদি দাখিল মাদ্রাসার ৩ জন এবং উলিপুর আমেরিয়া মহিলা কামিল মাদ্রাসার ৩ জনসহ মোট ২৯ জন নিয়মিত পরীক্ষার্থী অংশ নেন। পরীক্ষা চলাকালীন কক্ষ পরিদর্শকরা নিয়মিত ও অনিয়মিত পরীক্ষার্থীদের প্রশ্নপত্র বিতরণে ওলটপালট করে ফেলেন। ফলে নিয়মিত ২৯ জন পরীক্ষার্থী অনিয়মিতদের প্রশ্নে এবং অনিয়মিত ২৯ জন পরীক্ষার্থী নিয়মিতদের প্রশ্নে এমসিকিউ পরীক্ষা দেয়।

কক্ষ প্রত্যবেক্ষকদের কড়াকড়িতে একে অপরের সঙ্গে আলোচনার সুযোগ না থাকায় শিক্ষার্থীরা ভুল প্রশ্নপত্রেই পরীক্ষা দিয়ে হল ত্যাগ করে। পরে বাড়ি ফিরে প্রশ্ন মেলাতে গিয়ে বিষয়টি জানাজানি হলে কান্নায় ভেঙে পড়ে পরীক্ষার্থীরা।
ভুক্তভোগী পরীক্ষার্থী রিমু, আতিয়া ও সাদিয়া আক্ষেপ করে বলেন, আমরা নিয়মিত সিলেবাসে প্রস্তুতি নিয়েছি, কিন্তু আমাদের দেওয়া হয়েছে অনিয়মিতদের প্রশ্ন যা সিলেবাসের বাইরে ছিল। পাস নম্বর তোলাও এখন অসম্ভব হয়ে পড়েছে। আমাদের সারাবছরের কষ্ট ও স্বপ্ন ধুলোয় মিশে গেছে।

অভিভাবক আল আমিন ও ইসমাইল ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, বোর্ড পরীক্ষার মতো সংবেদনশীল জায়গায় এমন ভুল মেনে নেওয়া যায় না। আমাদের সন্তানদের এই মানসিক ক্ষতির দায়ভার কে নেবে? তারা এখন আগামী পরীক্ষাগুলো দিতেও ভয় পাচ্ছে।

কেন্দ্র সচিব ও শেরপুর শহীদিয়া আলিয়া মাদ্রাসার অধ্যক্ষ হাফিজুর রহমান এবং ট্যাগ অফিসার নাঈম হোসেন ঘটনার সত্যতা স্বীকার করেছেন। তারা বিষয়টিকে ‘অনাকাঙ্ক্ষিত ভুল’ হিসেবে দাবি করে জানান, পরীক্ষার সময় এটি কারো চোখে পড়েনি, রাতে তারা বিষয়টি জানতে পেরেছেন।

তদন্ত সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, ওই সময়ে কক্ষ প্রত্যবেক্ষক হিসেবে ৮ নং কক্ষে আছমা খাতুন ও জুয়াইরিয়া সুলতানা এবং ৯ নং কক্ষে মামুনুর রশিদ দায়িত্বে ছিলেন। প্রশ্ন বিতরণের আগে যাচাই না করায় এই বিপর্যয় ঘটেছে।
শেরপুর উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা নজরুল ইসলাম জানান, বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে।

উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) সাইদুজ্জামান হিমু বলেন,প্রাথমিকভাবে ঘটনার সত্যতা পাওয়া গেছে। আমরা দ্রুত শিক্ষা বোর্ডকে এ বিষয়ে চিঠি দেওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছি। শিক্ষার্থীরা যাতে কোনোভাবেই ক্ষতিগ্রস্ত না হয়, সেদিকে সর্বোচ্চ নজর রাখা হচ্ছে।

এদিকে ঘটনার পর থেকে পুরো এলাকায় পরীক্ষার্থী ও অভিভাবকদের মধ্যে তীব্র উত্তেজনা ও উদ্বেগ বিরাজ করছে। সঠিক তদন্তের মাধ্যমে দায়ীদের শাস্তির দাবি জানিয়েছেন ভুক্তভোগীরা।



আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই বিভাগের আরও খবর