১২-১৪ বছর বয়সী শিশু-কিশোরদের সুপ্ত ক্রীড়া প্রতিভা খুঁজে বের করে তাদের বিকাশের সুযোগ করে দেওয়ার লক্ষ্য নিয়ে শুরু হওয়া ‘নতুন কুঁড়ি স্পোর্টস’ কর্মসূচি সিরাজগঞ্জে এসে পড়েছে বিতর্কের মুখে। খেলোয়াড় বাছাইয়ে অনিয়ম ও বয়স জালিয়াতির অভিযোগে ক্ষোভ প্রকাশ করছেন স্থানীয় খেলোয়াড়, অভিভাবক ও ক্রীড়া সংশ্লিষ্টরা।
অভিযোগ রয়েছে, প্রকৃত বয়স যাচাইয়ের ক্ষেত্রে শিথিলতা দেখিয়ে অধিক বয়সী খেলোয়াড়দের দলে অন্তর্ভুক্ত করা হচ্ছে। এমনকি ১৫-১৬ বছর বয়সী কেউ কেউ অন্যের জন্মনিবন্ধন ব্যবহার করে ১২-১৪ বছর বয়সী হিসেবে প্রতিযোগিতায় অংশ নিচ্ছে—এমন অভিযোগও উঠেছে স্থানীয়দের কাছ থেকে।
দলে সুযোগ না পাওয়া একাধিক খেলোয়াড় জানান, একটি নির্দিষ্ট ফুটবল একাডেমির খেলোয়াড়দের প্রাধান্য দিতে ক্রীড়া অফিসারকে প্রভাবিত করা হয়েছে। তাদের অভিযোগ, নিয়মিত অনুশীলনের অজুহাতে ওই একাডেমির খেলোয়াড়দের দলে নেওয়া হলেও বাস্তবে তাদের অনেকের বয়স নির্ধারিত সীমার চেয়ে বেশি। ফলে প্রকৃত বয়স অনুযায়ী খেলা খেলোয়াড়রা সুযোগ থেকে বঞ্চিত হচ্ছে।
বঞ্চিত খেলোয়াড়দের ভাষ্য, তৃণমূল পর্যায়ে যদি এভাবে বয়স জালিয়াতি চলে, তাহলে জাতীয় পর্যায়ে ভালো ফলাফল আশা করা কঠিন। এতে করে প্রকৃত প্রতিভাবান খেলোয়াড়রা হারিয়ে যাবে এবং দেশের ক্রীড়াঙ্গন দীর্ঘমেয়াদে ক্ষতিগ্রস্ত হবে।
তথ্য অনুযায়ী, সিরাজগঞ্জ সদর উপজেলা ও পৌরসভার দল গঠনে ব্যাপক অনিয়ম হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। দলকে চ্যাম্পিয়ন করার লক্ষ্যেই এসব অনিয়ম করা হয়েছে বলেও দাবি করছেন সংশ্লিষ্টরা।
এ বিষয়ে সাবেক খেলোয়াড় ও ক্রীড়া সংগঠক রেজাউল করিম দিলীপ বলেন, বয়স চুরি শুধু একটি অনৈতিক কাজ নয়, এটি পুরো খেলাধুলার কাঠামোকে দুর্বল করে দেয়। এতে প্রকৃত প্রতিভা বিকাশ বাধাগ্রস্ত হয় এবং ভবিষ্যতে জাতীয় পর্যায়ে দক্ষ খেলোয়াড়ের সংকট তৈরি হয়। তিনি দ্রুত এ অনিয়ম বন্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণের আহ্বান জানান।
অভিযোগের বিষয়ে জেলা ক্রীড়া অফিসার নূরে এলাহী সোহাগ বলেন, “বিষয়টি আমরা গুরুত্ব সহকারে দেখছি। সুনির্দিষ্ট প্রমাণ পেলে তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”
সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, খেলাধুলা শিশু-কিশোরদের শারীরিক, মানসিক ও নৈতিক বিকাশে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। তাই ‘নতুন কুঁড়ি স্পোর্টস’-এর মতো একটি সম্ভাবনাময় উদ্যোগে এমন অনিয়মের অভিযোগ উঠা অত্যন্ত উদ্বেগজনক।
এদিকে, সারাদেশে এ পর্যন্ত ‘নতুন কুঁড়ি স্পোর্টস’-এ নিবন্ধন করেছে ১ লাখ ৬০ হাজার ৭৭৯ জন কিশোর-কিশোরী। এর মধ্যে কিশোর ১ লাখ ১৬ হাজার ৬৪৬ জন এবং কিশোরী ৪৪ হাজার ১৩৩ জন। ১২ থেকে ১৪ বছর বয়সীদের নিয়ে ফুটবল, ক্রিকেট, কাবাডি, অ্যাথলেটিক্স, দাবা, ব্যাডমিন্টন, সাঁতার ও মার্শাল আর্ট—এই আটটি খেলায় প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হবে। উপজেলা, জেলা ও বিভাগীয় পর্যায় পেরিয়ে ঢাকায় অনুষ্ঠিত হবে চূড়ান্ত পর্ব।
উল্লেখ্য, আগামী ২ মে সিলেট জেলা স্টেডিয়ামে এ প্রতিযোগিতার উদ্বোধন অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উদ্বোধন করা হবে এবং একই সঙ্গে দেশের বিভিন্ন জেলা স্টেডিয়ামে থাকা অংশগ্রহণকারীদের সঙ্গে ভার্চ্যুয়ালি যুক্ত হওয়ার পরিকল্পনাও রয়েছে।
অভিযোগের সুষ্ঠু তদন্ত ও স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা না হলে, কুঁড়ি হয়ে ওঠার আগেই ঝরে পড়বে সম্ভাবনাময় এই প্রতিভাগুলো—এমনটাই আশঙ্কা সংশ্লিষ্টদের।