শনিবার, ০২ মে ২০২৬, ০৫:২২ অপরাহ্ন
নোটিশ:
তথ্য ও প্রচার মন্ত্রণালয় নিবন্ধনকৃত অনলাইন নিউজ পোর্টাল দ্য পিপলস্ নিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকে সারা দেশে জেলা প্রতিনিধি নিয়োগ করা হবে। মোবাইল: ০১৭১১-১১৬২৫৭, ০১৭১২-৪০৭২৮২ ' ই-মেইল : thepeopelesnews24@gmail.com

ডেমরায় র‍্যাব-পুলিশ পরিচয়ে ডাকাতির প্রস্তুতি: কটি, পিস্তল ও ওয়াকিটকিসহ গ্রেফতার ২

নিজস্ব প্রতিবেদক,ঢাকা / ৮ বার দেখা হয়েছে
আপডেট : শনিবার, ২ মে, ২০২৬


লুট হওয়া পুলিশের হ্যান্ডকাপ, র‍্যাবের জ্যাকেট, ওয়াকিটকি ও পিস্তল দিয়ে মানুষকে ভয়ভীতি দেখিয়ে দীর্ঘদিন ডাকাতি করে আসছিল একটি ডাকাত দল। এ চক্রের দুই সদ্যসকে গ্রেফতার করেছে র‍্যাব। তারা হলেন- মো. আলামিন ওরফে মোটা আলামিন ও মো. রায়হান।

গ্রেফতারের সময় তাদের কাছ থেকে একটি বিদেশি পিস্তল, একটি ম্যাগাজিন, চার রাউন্ড গুলি, একটি মাইক্রোবাস, দুইটি ভুয়া নাম্বার প্লেট, ছয়টি র‌্যাবের জ্যাকেট, দুইটি হ্যান্ডকাপ, একটি ওয়াকিটকি সেট, পুলিশ লেখা স্টিকার, লেজার লাইট, পুলিশ বাটন, ওয়াইফাই পকেট রাউটার, সেনাবাহিনীর মাস্ক এবং দুইটি স্মার্টফোন উদ্ধার করা হয়।

র‍্যাব জানায়, গ্রেফতাররা যাত্রীবাহী বাস ও মাইক্রোবাস থামিয়ে অস্ত্রের মুখে যাত্রীদের কাছ থেকে টাকা-পয়সা ও মূল্যবান সামগ্রী লুট করত। কখনও র‌্যাব, পুলিশ আবার কখনও যৌথ বাহিনীর পরিচয়ে অভিযান পরিচালনার ভান করে ডাকাতি চালাত তারা।

শইনিবার (২ মে) দুপুরে কারওয়ান বাজার র‍্যাব মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান র‍্যাবের লিগ্যাল অ্যান্ড মিডিয়া উইংয়ের পরিচালক উইং কমান্ডার এম জেড এম ইন্তেখাব চৌধুরী।

তিনি বলেন, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে ডেমরা থানার আমান মার্কেট, মেন্দিপুর এলাকায় অভিযান চালিয়ে সংঘবদ্ধ ডাকাত দলের সদস্য মো. আলামিন ওরফে মোটা আলামিন গ্রেফতার করা হয়। পরে তার দেওয়া তথ্য অনুযায়ী একই দিন সকাল ১১টার দিকে মেন্দিপুর বাজারের নিকটবর্তী হাজী সিএনজি পাম্প এলাকা থেকে তার সহযোগী চালক মো. রায়হানকে গ্রেফতার করা হয়।

প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেফতাররা জানায়, তারা দীর্ঘদিন ধরে দেশের বিভিন্ন এলাকায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পরিচয় ব্যবহার করে ডাকাতি করে আসছিল। তারা যাত্রীবাহী বাস ও মাইক্রোবাস থামিয়ে অস্ত্রের মুখে যাত্রীদের কাছ থেকে টাকা-পয়সা ও মূল্যবান সামগ্রী লুট করত। কখনও র‌্যাব, কখনও পুলিশ আবার কখনও যৌথ বাহিনীর পরিচয়ে অভিযান পরিচালনার ভান করে ডাকাতি চালাত তারা।

উইং কমান্ডার ইন্তেখাব চৌধুরী আরও বলেন, আলামিন এই চক্রের অন্যতম নেতা। তার বিরুদ্ধে পূর্বে একাধিক ডাকাতি, চুরি ও অস্ত্র মামলা রয়েছে। ২০২৩ সালে কেরানীগঞ্জ এলাকায় স্বর্ণ ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে বিপুল পরিমাণ টাকা লুটের মামলায়ও সে আসামি। ২০২৫ সালে গ্রেফতার হলেও জামিনে বের হয়ে পুনরায় অপরাধে জড়িয়ে পড়ে।

অন্যদিকে রায়হান পেশায় চালক হলেও ডাকাত দলের গুরুত্বপূর্ণ সহযোগী হিসেবে কাজ করত। সে ডাকাতির জন্য যানবাহন সরবরাহ, রুট নির্ধারণ এবং পালানোর পরিকল্পনায় সক্রিয় ভূমিকা রাখত।

হ্যান্ডকাপের বিষয়ে প্রশ্নে তিনি বলেন, হ্যান্ডকাপটি পুলিশের ব্যবহৃত। ধারণা করা যাচ্ছে এগুলো পুলিশের যে হারনো হ্যান্ডকাপ সেই হ্যান্ডকাপগুলোর মতো হতে পারে। তবে কোন থানা থেকে লুট হওয়া এগুলো জানা যায়নি।

সন্ত্রাসীদের তালিকার এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, তালিকা একটা চলমান প্রক্রিয়া। এখানে একটা তালিকা করা হলে যে সেই তালিকা ওই দিন ওই ক্ষণের জন্য যে সীমাবদ্ধ হয়ে থাকে বিষয়টা তা না। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কাজ হচ্ছে ২৪ ঘণ্টা। তাই এখানে সার্বক্ষণিকভাবে তালিকাগুলোকে হালনাগাত করতে থাকি। এই তালিকাগুলোর ভেতরে যে নামগুলো থাকে এখানে নতুন করে নাম সংযোজিত হতে থাকে। পুরনো তালিকায় যারা আছে তাদের তথ্য উপাউপাত্য হালনাগাত হতে থাকে।

ভুয়া র‍্যাব ও আসল র‍্যাবের মধ্যে পার্থক্য কীভাবে সাধারণ মানুষ বুঝবে জানতে চাইলে র‍্যাবের মুখপাত্র বলেন, যখন আমরা অভিযান পরিচালনা করি অবশ্যই আমাদের প্রত্যেক সদস্যের কাছে র‍্যাবের কটি থাকে। এটি হচ্ছে প্রথম আইডেন্টিফায়ার। দ্বিতীয় র‍্যাবের প্রত্যেক সদস্যদের কাছে তার আইডি কার্ড থাকে, যেটা হলোগ্রামযুক্ত। এ দুটো দিয়েই প্রাথমিকভাবে চিহ্নিত করা যেতে পারে যে কে আসল র‍্যাব সদস্য বা কারা ভুয়া র‍্যাব পরিচয়ে এরকম অপরাধ সংঘটিত করছে। এছাড়া আমাদের র‍্যাবের সকল সদস্যকে বলা আছে অভিযানে গেলে তাদের পরিচয় কেউ জানতে চাইলে অবশ্যই সঠিক পরিচয় উপস্থাপন করতে হবে।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই বিভাগের আরও খবর