সোমবার, ১৭ অগাস্ট ২০২৬, ০৩:১৫ অপরাহ্ন
সর্বশেষ
মাদক-সন্ত্রাস-চাঁদাবাজি ও সাইবার অপরাধ দমনে কঠোর হওয়ার নির্দেশ ডিআইজির উল্লাপাড়ায় বাগান থেকে যুবকের ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার, এলাকায় চাঞ্চল্য চলনবিলে বিদ্যুৎপৃষ্টে খড় ব্যবসায়ী নিহত দিল্লির বস্তিতে ৫৪ ডিগ্রি তাপমাত্রায় বেঁচে থাকার গল্প প্রধানমন্ত্রীর প্রতিরক্ষা উপদেষ্টার সঙ্গে কানাডার হাইকমিশনারের সাক্ষাৎ একটি ভগ্নস্তূপের ওপর দাঁড়িয়ে দেশ গড়ছে সরকার : রিজভী ইরান-হরমুজ ইস্যুতে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সামরিক আলোচনা চালিয়ে যাবে দক্ষিণ কোরিয়া বন্ধ ময়মনসিংহের ২১০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎকেন্দ্র, পরিচালক দায় দিলেন ড. ইউনূসের নির্বাচনের প্রতিটি প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নে সরকার কাজ করছে : মাহদী আমিন অটোরিকশায় সৌরবিদ্যুৎ ছাড়া চার্জ দিলে রেজিস্ট্রেশন নয়
নোটিশ:
তথ্য ও প্রচার মন্ত্রণালয় নিবন্ধনকৃত অনলাইন নিউজ পোর্টাল দ্য পিপলস্ নিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকে সারা দেশে জেলা প্রতিনিধি নিয়োগ করা হবে। মোবাইল: ০১৭১১-১১৬২৫৭, ০১৭১২-৪০৭২৮২ ' ই-মেইল : thepeopelesnews24@gmail.com

দিল্লির বস্তিতে ৫৪ ডিগ্রি তাপমাত্রায় বেঁচে থাকার গল্প

অনলাইন ডেস্ক: / ৩ বার দেখা হয়েছে
আপডেট : সোমবার, ১৭ আগস্ট, ২০২৬
-সংগৃহীত ছবি

দিল্লির তীব্র দাবদাহে সবচেয়ে বেশি বিপাকে পড়েছেন বস্তি এলাকার নিম্নআয়ের মানুষ। উত্তর-পূর্ব দিল্লির সুন্দর নগরীর বস্তিতে কোথাও তাপমাত্রা ৫৪ ডিগ্রি সেলসিয়াস পর্যন্ত উঠছে। এই অসহনীয় গরমে কীভাবে দিন কাটছে, তার হিসাব নিজেরাই লিখে রাখছেন স্থানীয় প্রায় ৪০টি পরিবার।

গ্রিনপিস ইন্ডিয়ার সহযোগিতায় তৈরি করা এসব ডায়েরির নাম দেওয়া হয়েছে ‘গর্মি খাতা’ বা হিট রেজিস্ট্রি। এতে শুধু তাপমাত্রার হিসাব নয়, গরমে মানুষের শারীরিক কষ্ট, আয় কমে যাওয়া এবং দৈনন্দিন জীবনের নানা সমস্যার কথাও উঠে আসছে।

৩৯ বছর বয়সী গুলশান চার সন্তানকে নিয়ে এক কক্ষের ঘরে থাকেন। এসি কেনার সামর্থ্য নেই। সস্তা এয়ার কুলার থাকলেও বিদ্যুৎ বিলের কারণে সেটি দীর্ঘ সময় চালাতে পারেন না। তাই রাতে ঘুমানোর সময় মেঝে ও কাপড় ভিজিয়ে রাখেন। কিন্তু দীর্ঘ সময় ভেজা কাপড় ব্যবহারের কারণে পরিবারের সদস্যদের চর্মরোগ ও ত্বকের সংক্রমণ হচ্ছে।

১৯ বছর বয়সী শিক্ষার্থী আরশিও গরমের সঙ্গে লড়াই করছেন। পরিবারের ছয় সদস্যের সঙ্গে এক কক্ষে থাকেন তিনি। দিল্লি বিশ্ববিদ্যালয়ে দূরশিক্ষণে পড়াশোনার পাশাপাশি মা ও বোনের সঙ্গে ট্রাকের জন্য আলংকারিক ঝালর তৈরি করেন। দিনে তাদের আয় প্রায় ১৫০ রুপি।

ছোট ঘরে অতিরিক্ত তাপ ও ৮৪ দশমিক ৬ শতাংশ আর্দ্রতার কারণে সেখানে ফিলস-লাইক তাপমাত্রা ৩৬ দশমিক ৩ ডিগ্রি সেলসিয়াসে পৌঁছে যায়। এতে কাজ করাও কঠিন হয়ে পড়ে।

তীব্র গরমে ক্ষতির মুখে পড়েছেন ভাসমান সবজি বিক্রেতা ২১ বছর বয়সী রাজা। প্রচণ্ড তাপে সবজি দ্রুত নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। পাশাপাশি রাস্তায় মানুষের চলাচল কমে যাওয়ায় তার আয়ও কমেছে। রাতে ঘরের তাপমাত্রা কমে না আসায় তাকে টিনের ছাদে ঘুমাতে হয়।

এদিকে, ভারত সরকার সম্প্রতি তাপপ্রবাহকে ‘জাতীয় দুর্যোগ’ হিসেবে স্বীকৃতি দিয়েছে। এর ফলে রাজ্যগুলো জরুরি ত্রাণ তহবিল ব্যবহার করতে পারবে।

সুন্দর নগরীর বাসিন্দাদের এসব অভিজ্ঞতা এখন ভারতের জাতীয় মানবাধিকার কমিশনের কাছেও তুলে ধরা হয়েছে। নগর পরিকল্পনাবিদ ও অধিকারকর্মীরা চরম তাপকে মানবাধিকার ইস্যু হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।

তাদের মতে, মাঠপর্যায়ে মানুষের অভিজ্ঞতা নীতিনির্ধারকদের কাছে পৌঁছালে তাপপ্রবাহে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষ, বিশেষ করে বস্তিবাসী ও খোলা আকাশের নিচে কাজ করা মানুষের জন্য আরও কার্যকর সুরক্ষা ও ক্ষতিপূরণের ব্যবস্থা করা সম্ভব হতে পারে।

সূত্র: গার্ডিয়ান


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই বিভাগের আরও খবর