শনিবার, ২৯ অগাস্ট ২০২৬, ১১:৩৫ পূর্বাহ্ন
সর্বশেষ
ইনজুরি টাইমে জোড়া গোলে হার এড়াল পিএসজি বন্যায় ভেসে আসা মরদেহ শনাক্তে হিমশিম খাচ্ছে নেপাল কমলো স্বর্ণের দাম, ভরিতে কত? হাসনাত আব্দুল্লাহর বক্তব্যের প্রতিবাদে ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় বিক্ষোভ, এনসিপির কর্মসূচি প্রতিহতের ঘোষণা বরফ গলে যাওয়ায় গ্রিনল্যান্ডের সামুদ্রিক অঞ্চলে চলে আসছে বিশাল তিমি নেপালে আকস্মিক বন্যায় নিহত বেড়ে ৫৮৪, নিখোঁজ ২৪৮২ টেক্সাসের স্কুলে ছুরিকাঘাতে আহত ৩ শিক্ষার্থী, ১৪ বছর বয়সী সন্দেহভাজন আটক সিদ্ধিরগঞ্জে কিশোরীকে ধর্ষণের অভিযোগ, গ্রেফতার ১ বই দেখে পরীক্ষা, ভিডিও করায় দুই সাংবাদিককে মারধর যাত্রাবাড়ী থানা থেকে পালিয়ে যাওয়া সেই নারী আসামি গ্রেপ্তার
নোটিশ:
তথ্য ও প্রচার মন্ত্রণালয় নিবন্ধনকৃত অনলাইন নিউজ পোর্টাল দ্য পিপলস্ নিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকে সারা দেশে জেলা প্রতিনিধি নিয়োগ করা হবে। মোবাইল: ০১৭১১-১১৬২৫৭, ০১৭১২-৪০৭২৮২ ' ই-মেইল : thepeopelesnews24@gmail.com

বন্যায় ভেসে আসা মরদেহ শনাক্তে হিমশিম খাচ্ছে নেপাল

অনলাইন ডেস্ক: / ২ বার দেখা হয়েছে
আপডেট : শনিবার, ২৯ আগস্ট, ২০২৬

নেপালের ভোটেকোশি নদীর প্রলয়ংকরী বন্যায় প্রাণ হারানো মানুষের মরদেহ স্রোতের তোড়ে বহুদূর ভেসে গেছে। একের পর এক মরদেহ উদ্ধার হতে থাকায় সেগুলো সংরক্ষণ ও পরিচয় শনাক্তকরণ নিয়ে চরম হিমশিম খাচ্ছে স্থানীয় প্রশাসন।

বন্যার উৎপত্তিস্থল রসুয়া ও নুয়াকোট থেকে ভেসে যাওয়া মরদেহগুলো এখন নুয়াকোট ছাড়া আরও ভাটি অঞ্চল চিতওয়ান, তনহুন, নবলপরাসীসহ বিভিন্ন জেলা থেকে উদ্ধার করা হচ্ছে। নুয়াকোট, ধাদিং ও নবলপরাসী জেলার হাসপাতালের মর্গগুলোয় ইতিমধ্যে লাশ রাখার জায়গা ফুরিয়ে গেছে। বাধ্য হয়ে কিছু মরদেহ পাশের জেলাগুলোয় পাঠাতে হচ্ছে। পোখরা জেলার হাসপাতালগুলোও জানিয়েছে, বিভিন্ন জেলা থেকে লাগাতার লাশ আসতে থাকায় তাদের মর্গগুলো দ্রুত পূর্ণ হয়ে যাচ্ছে।

সবচেয়ে ভয়াবহ অবস্থা তৈরি হয়েছে চিতওয়ান জেলায়। সেখানে উদ্ধার হওয়া মরদেহের সংখ্যা স্থানীয় হাসপাতালগুলোর ধারণক্ষমতা ছাড়িয়ে গেছে। পরিস্থিতি সামাল দিতে চিতওয়ানের ভরতপুরে একটি অস্থায়ী মর্গ গড়ে তুলছে প্রশাসন। ভরতপুর মহানগরীর বিদ্যুৎ রোডের ‘ইন্ডাস্ট্রিয়াল এন্টারপ্রাইজ ডেভেলপমেন্ট ইনস্টিটিউট’–এর একটি পরিত্যক্ত ভবনকে অস্থায়ী মর্গ হিসেবে ব্যবহার করা হবে। গত বৃহস্পতিবার চিতওয়ানের চিফ ডিস্ট্রিক্ট অফিসার (সিডিও) গণেশ আরিয়ালের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এক জরুরি বৈঠকে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

সরকারি হিসাব অনুযায়ী, বৃহস্পতিবার সকাল সাড়ে ৯টা পর্যন্ত চিতওয়ান অঞ্চলের ত্রিশূলী ও নারায়ণী নদীর ফিশলিং থেকে গোলাঘাট পর্যন্ত অংশ থেকেই ১৩৭টি মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে এবং উদ্ধার অভিযান এখনো অব্যাহত রয়েছে।

সিডিও গণেশ আরিয়াল জানান, চিতওয়ানের সব কটি হাসপাতালের মর্গ মিলিয়ে বড়জোর ৩০ থেকে ৫০টি মরদেহ একসঙ্গে রাখা সম্ভব। সেই ধারণক্ষমতার ওপর ইতিমধ্যে প্রচণ্ড চাপ তৈরি হওয়ায় নতুন এই অস্থায়ী কেন্দ্রে প্রায় ২৫০টি লাশ রাখার ব্যবস্থা করা হচ্ছে। যদি এই ধারণক্ষমতাও পেরিয়ে যায়, তবে অতিরিক্ত বিকল্প হিসেবে দেবঘাটের বৈদ্যুতিক শ্মশানটি ব্যবহারের সিদ্ধান্ত নিয়েছে প্রশাসন।

ভরতপুর মহানগর কর্তৃপক্ষ এই অস্থায়ী ভবনটি মেরামত ও প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম দিয়ে সাজানোর দায়িত্ব নিয়েছে। লাশগুলো যাতে পচে না যায়, সে জন্য ঘরের তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণে রাখতে সেখানে শীতাতপনিয়ন্ত্রণ যন্ত্র (এসি) বসানো হচ্ছে এবং ড্রাই আইস ব্যবহারের পরিকল্পনা করা হয়েছে। চিতওয়ানের বিভিন্ন শিল্প ও বণিক সমিতি এই জরুরি ড্রাই আইস সরবরাহের খরচ ও দায়িত্ব নিতে সম্মত হয়েছে।

বৃহস্পতিবার যখন কর্মীরা ভরতপুরের পরিত্যক্ত ভবনটিকে অস্থায়ী মর্গে রূপান্তরের কাজ করছিলেন, তখনো সেখানে নিখোঁজ স্বজনদের তথ্য জানতে ভিড় জমান স্বজনেরা।

প্রচণ্ড গরমের মধ্যে তাঁবুর ছায়ায় বসে অপেক্ষা করছিলেন ইয়ামান বানু নামের এক নারী। বন্যার পর নুয়াকোটের ত্রিশূলী বাজারে তাঁর দাদি ও নানি নিখোঁজ হন। ইয়ামান জানান, তাঁর দাদি সাকলা ও নানি নাজাবুন নিশাকে এখনো খুঁজে পাওয়া যায়নি।

একইভাবে নিখোঁজ রয়েছেন গোরখার পালুংটার এলাকার মায়া বানিয়া খাড়কা নামের এক নারী। তিনি গোসাইকুন্ডায় তীর্থযাত্রায় গিয়েছিলেন। চিতওয়ানের বিজয়নগরে বাসিন্দা তাঁর দুই ভাই কৃষ্ণ বাহাদুর ও হরি বানিয়া বোনের একটি ছবি হাতে নিয়ে ভরতপুরের এই অস্থায়ী কেন্দ্রে ছুটে এসেছেন।

অস্থায়ী এই মর্গে লাশ সংরক্ষণের পুরো প্রস্তুতি এখনো শেষ না হলেও সকাল থেকেই স্বজনদের আনাগোনা বাড়তে শুরু করেছে। নিখোঁজদের স্বজনেরা আশা করছেন, কেন্দ্রের কাজ দ্রুত শেষ হলে তাঁরা অন্তত নিশ্চিত হতে পারবেন যে উদ্ধার হওয়া মরদেহগুলোর মধ্যে তাঁদের প্রিয় কোনো মানুষ রয়েছেন কি না।

পুলিশ সুপার নবীন কার্কি বলেন, ‘আঙুলের ছাপ ও ডিএনএ নমুনা আগে থেকেই সংগ্রহ করে রাখা হচ্ছে। যদি কোনো লাশের স্বজনদের খুঁজে না পাওয়া যায় কিংবা পরিচয় শনাক্ত করা সম্ভব না-ও হয়, তাহলে আমরা এগুলোকে মর্গে অনির্দিষ্টকালের জন্য রেখে দিতে পারব না।’ –কাঠমান্ডু পোস্ট


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই বিভাগের আরও খবর