ইয়েমেনে নতুন করে শুরু হওয়া সংঘাতে এক লাখের বেশি মানুষ দেশের ভেতরেই বাস্তুচ্যুত হয়েছে। এ ছাড়া আরো কয়েক হাজার মানুষ সমুদ্রপথে পালিয়ে জিবুতিতে আশ্রয় নিয়েছে বলে জানিয়েছে জাতিসংঘের শরণার্থী সংস্থা ইউএনএইচসিআর।
মঙ্গলবার (১৫ সেপ্টেম্বর) এক বিবৃতিতে এ তথ্য জানিয়েছে ইউএনএইচসিআর।
ইউএনএইচসিআর জানায়, ইয়েমেনে মানবিক সহায়তা পৌঁছানো এখনো বড় চ্যালেঞ্জ। নিরাপত্তাহীনতা, ক্ষতিগ্রস্ত সড়ক, টেলিযোগাযোগব্যবস্থায় বিঘ্ন এবং চলাচলে বিধিনিষেধের কারণে ত্রাণ ও মানবিক কার্যক্রম বাধাগ্রস্ত হচ্ছে।
ইরান-সমর্থিত হুতিরা সৌদি আরবের বিভিন্ন শহর ও জ্বালানি অবকাঠামোয় হামলা জোরদার করার পাশাপাশি ইয়েমেনের লোহিত সাগর উপকূল ধরে বাব আল-মান্দেব প্রণালির দিকে অগ্রসর হচ্ছে। গুরুত্বপূর্ণ এই নৌপথটি আন্তর্জাতিক বাণিজ্য ও জাহাজ চলাচলের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
বিবৃতিতে সতর্ক করা হয়েছে, এই সহিংসতা একটি মানবিক সংকট সৃষ্টির ঝুঁকি তৈরি করছে। কারণ আরও বেশি সংখ্যক মানুষ বাস্তুচ্যুত হওয়ায় সীমিত সম্পদের ওপর নির্ভরশীল স্থানীয় জনগোষ্ঠীগুলোর ওপর বাড়তি চাপ সৃষ্টি হচ্ছে।
সংস্থাটি জানিয়েছে, ইয়েমেনের অভ্যন্তরে বাস্তুচ্যুত পরিবারগুলোর জরুরি চাহিদা মেটাতে তাদের আনুমানিক ১৪ মিলিয়ন ডলারের নতুন তহবিলের প্রয়োজন, পাশাপাশি জিবুতিতে আশ্রয় নেওয়া মানুষদের জন্যও অতিরিক্ত সহায়তার দরকার।
বিবৃতিতে বলা হয়, অনেক পরিবার খুব অল্প সময়ের নোটিশে নামমাত্র কিছু জিনিসপত্র নিয়ে পালিয়ে আসতে বাধ্য হয়েছে। আশ্রয়, খাদ্য, বিশুদ্ধ পানি, স্বাস্থ্যসেবা এবং সুরক্ষা পরিষেবাগুলো এখন অত্যন্ত জরুরি প্রয়োজন হয়ে দাঁড়িয়েছে, কারণ স্থানীয় জনগোষ্ঠী এবং বাস্তুচ্যুতদের আশ্রয়কেন্দ্রগুলোর ওপর অত্যধিক চাপ পড়ছে।
ইয়েমেনের অভ্যন্তরে অবস্থানরত ৬৫ হাজারের বেশি নিবন্ধিত শরণার্থী ও আশ্রয়প্রার্থী সংঘাতের কারণে ঝুঁকির মুখে পড়েছেন। যাদের অধিকাংশই সোমালিয়া ও ইথিওপিয়া থেকে আগত।
সূত্র: আল-জাজিরা।