ভারতের বিপক্ষে শেষ ম্যাচে যেখানে থেমেছিলেন শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে যেন সেখান থেকেই আবার শুরু করলেন জস বাটলার ও হ্যারি ব্রুক। দুiজনের বিধ্বংসী ব্যাটিংয়ে ইংল্যান্ড তুলল ২৫৪ রান। সেই পাহাড়সম লক্ষ্য তাড়ায় শুরু থেকেই ধুঁকতে থাকা শ্রীলঙ্কা গুটিয়ে গেল ১৩৫ রানে। ফলে প্রথম টি-টোয়েন্টিতে ১১৯ রানের জয় নিয়ে তিন ম্যাচের সিরিজে এগিয়ে গেল হ্যারি ব্রুকের দল।
সাউথ্যাম্পটনে টস হেরে ব্যাটিংয়ে নেমে ইংল্যান্ডের শুরুটা ছিল ঝড়ের মতো। আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অভিষেকেই প্রথম ওভারে ছক্কা ও চার হাঁকান অ্যানাইরিন ডোনাল্ড। পরের ওভারে টানা চারটি চার মারেন বাটলার। তবে ডোনাল্ড বেশিক্ষণ টেকেননি। তাকে ফিরিয়ে দেওয়ার পাশাপাশি তৃতীয় ওভারে মাত্র ৫ রান দেন দুনিথ ওয়েলালাগে। কিন্তু বাঁহাতি স্পিনারের পরের ওভারেই ম্যাচের গতিপথ বদলে দেন ব্রুক।
বাটলার-ব্রুকের ব্যাটিং তাণ্ডবে পাওয়ার প্লে শেষেই ইংল্যান্ডের স্কোর দাঁড়ায় ১ উইকেটে ৯০ রান। ২৯ বলে ফিফটি পূর্ণ করেন বাটলার। তবে টানা দ্বিতীয় টি-টোয়েন্টি সেঞ্চুরির সম্ভাবনা জাগিয়েও শেষ পর্যন্ত তিন অঙ্কে পৌঁছাতে পারেননি তিনি। ত্রয়োদশ ওভারে ওয়ানিন্দু হাসারাঙ্গার বলে বোল্ড হয়ে থামেন ৪৪ বলে ৮০ রানে। তাঁর ইনিংসে ছিল আটটি চার ও তিনটি ছক্কা।
চলতি বছরে ইংল্যান্ডের হয়ে প্রথম ১৪ টি-টোয়েন্টি ইনিংসে বাটলারের সংগ্রহ ছিল মাত্র ২১২ রান। অথচ পরের দুই ইনিংসেই করেছেন ২১১ রান। শুধু তাই নয়, শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে ইনিংসের পথে টি-টোয়েন্টিতে আরেকটি মাইলফলকও ছুঁয়েছেন বাটলার। রোহিত শার্মাকে পেছনে ফেলে এই সংস্করণে সর্বোচ্চ রান সংগ্রাহকদের তালিকায় দুইয়ে উঠে গেছেন তিনি। বাটলারের মোট রান এখন ৪ হাজার ২৯২। ৪ হাজার ২৩১ রান নিয়ে রোহিত আছেন তিনে। তালিকার শীর্ষে বাবর আজম, ৪ হাজার ৫৯৬ রান নিয়ে।
বাটলার ফেরার পরও ব্রুকের ঝড় থামেনি। ১৭তম ওভারে দাসুন শানাকাকে পরপর ছক্কা ও চার মেরে ৯০-এর ঘরে পৌঁছে যান ইংল্যান্ড অধিনায়ক। পরের ওভারে ৯৯ থেকে দুই রান নিয়ে ৪২ বলে সেঞ্চুরি পূর্ণ করেন তিনি। শেষ পর্যন্ত ১০টি চার ও ছয়টি ছক্কায় ৪৯ বলে অপরাজিত ১১৪ রান করেন ব্রুক। এটি তাঁর ক্যারিয়ারের দ্বিতীয় টি-টোয়েন্টি সেঞ্চুরি এবং ম্যাচসেরা ইনিংস। বাটলারের সঙ্গে দ্বিতীয় উইকেটে ৬০ বলে ১২৮ রানের জুটি গড়েন তিনি।
ইংল্যান্ডের হয়ে যৌথভাবে দ্বিতীয় দ্রুততম টি-টোয়েন্টি সেঞ্চুরির রেকর্ডও গড়েছেন ব্রুক। ২০২১ সালে পাকিস্তানের বিপক্ষে ৪২ বলে সেঞ্চুরি করেছিলেন লিয়াম লিভিংস্টোন। ইংল্যান্ডের দ্রুততম সেঞ্চুরির রেকর্ডটি ফিল সল্টের- গত বছর দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে ৩৯ বলে তিন অঙ্ক ছুঁয়েছিলেন তিনি।
চার নম্বরে নেমে টম ব্যান্টন ১০ বলে ১০ রান করে ফেরেন। শেষ দিকে উইল জ্যাকসের ১২ বলে ১৭ রানের ক্যামিওতে ২০ ওভারে ৪ উইকেটে ২৫৪ রান জমা করে ইংল্যান্ড। হাসারাঙ্গা ছাড়া শ্রীলঙ্কার অন্য বোলারদের প্রত্যেকেই ওভারপ্রতি ১০-এর বেশি রান দিয়েছেন। সাউথ্যাম্পটনের এই মাঠেই গত জুলাইয়ে ভারতের বিপক্ষে ইংল্যান্ড করেছিল ২৫৭ রান। সেদিন বাটলার ৬৪ বলে ১৩১ এবং ব্রুক অপরাজিত ৪৫ বলে ৯৫ রান করেছিলেন। দুজনের জুটিতে এসেছিল ১০৩ বলে ২৩৩ রান। শ্রীলঙ্কার বিপক্ষেও সেই আগ্রাসী ছন্দ ধরে রাখলেন তাঁরা।
জবাবে শুরু থেকেই চাপে পড়ে শ্রীলঙ্কা। পাওয়ার প্লের মধ্যেই সাজঘরে ফেরেন পাথুম নিসাঙ্কা, কামিল মিশারা ও লাহিরু উদারা। একই ওভারে গতিময় ডেলিভারিতে মিশারাকে বোল্ড করার পর উদারাকেও ফিরিয়ে দেন সনি বেকার। গত বছরের সেপ্টেম্বরে আয়ারল্যান্ডের বিপক্ষে টি-টোয়েন্টি অভিষেকে চার ওভারে ৫২ রান দিয়ে উইকেটশূন্য ছিলেন বেকার। প্রায় এক বছর পর দ্বিতীয় ম্যাচে নেমেই দেখালেন ভিন্ন চেহারা। চার ওভারে একটি মেডেনসহ মাত্র ১২ রান দিয়ে নেন তিন উইকেট।
পাওয়ার প্লে শেষে বেকারের বোলিং ফিগার ছিল ৩-১-৯-২। শেষ পর্যন্ত তাঁর শিকার তিন উইকেট। শ্রীলঙ্কার অধিনায়ক চারিথ আসালাঙ্কাও ইনিংস বড় করতে পারেননি। কদিন আগেই ক্যারিবিয়ান প্রিমিয়ার লিগে ৩৯ বলে সেঞ্চুরি করা দাসুন শানাকা আদিল রাশিদকে টানা দুটি ছক্কা মারলেও পরের বলেই ২৪ রানে আউট হন। কামিন্দু মেন্ডিস ও হাসারাঙ্গাও দ্রুত ফিরে গেলে ১২ ওভার শেষে ৭ উইকেটে মাত্র ৭৬ রান নিয়ে বসে শ্রীলঙ্কা। তখন ১০০ রান পার হওয়াই কঠিন মনে হচ্ছিল।
শেষদিকে দুনিথ ওয়েলালাগের ২১ বলে ৩৩ এবং ইহসান মালিঙ্গার ৫ বলে অপরাজিত ১৩ রানের ছোট দুটি ইনিংসে কিছুটা এগোয় শ্রীলঙ্কা। তবে এক ওভার বাকি থাকতেই ১৩৫ রানে অলআউট হয়ে যায় তারা। এই জয়ে শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে টি-টোয়েন্টিতে ইংল্যান্ডের জয় হলো টানা ১৩টি। দুই দলের লড়াইয়ে এই প্রথম একশ বা তার বেশি রানে জয়ের স্বাদ পেল ইংলিশরা। তিন ম্যাচ সিরিজের দ্বিতীয় টি-টোয়েন্টি আগামী বৃহস্পতিবার কার্ডিফে অনুষ্ঠিত হবে।
সংক্ষিপ্ত স্কোর:
ইংল্যান্ড: ২০ ওভারে ২৫৪/৪ (বাটলার ৮০, ডোনাল্ড ১২, ব্রুক ১১৪*, ব্যান্টন ১০, জ্যাকস ২১; থিকশানা ২-০-২৭-০, চামিরা ৪-০-৫৩-১, ওয়েলালাগে ৩-০-৫১-১, মালিঙ্গা ৪-০-৪১-১, হাসারাঙ্গা ৪-০-৩৪-১, শানাকা ৩-০-৪২-০)
শ্রীলঙ্কা: ১৯ ওভারে ১৩৫ (নিসাঙ্কা ১২, মিশারা ১০, উদারা ৫, আসালাঙ্কা ১০, শানাকা ২৪, কামিন্দু মেন্ডিস ২, হাসারাঙ্গা ৪, ওয়েলালাগে ৩৩, থিকশানা ৪, চামিরা ৮, মালিঙ্গা ১৩*; বেকার ৪-১-১২-২, টাং ৪-০-২৫-১, জ্যাকস ২-০-২১-১, ডসন ৩-০-২৩-২, রাশিদ ৩-০-৩১-১, ওভারটন ৩-০-২০-২)
ফল: ইংল্যান্ড ১১৯ রানে জয়ী
সিরিজ: ৩ ম্যাচের সিরিজে ইংল্যান্ড ১-০তে এগিয়ে
ম্যান অব দা ম্যাচ: হ্যারি ব্রুক