অটো রিকশা চালক রাহুল হত্যার ঘটনায় দীর্ঘ আড়াই বছর পর জড়িত ৫ জন আসামিকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)।
পিবিআই বলছে, ইয়াবা কেনা-বেচার তথ্য হত্যার শিকার রাহুল বিভিন্ন জায়গায় জানিয়ে দিবে বলে আসামি সবুজের কাছে বলে। তথ্য ফাঁস করে দেয়ার কথা জানতে পেরে গ্রেফতারকৃত আসামীরা রাহুলকে মেরে তার অটোরিকশা ছিনিয়ে বিক্রির পরিকল্পনা করে। এবং তাকে হত্যা করে পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করে।
বৃহস্পতিবার (০৮ অক্টোবর) রাজধানীর উত্তরা পিবিআই ঢাকা জেলা অফিসে এক সংবাদ সন্মেলনে এসব বলেন পিবিআই ঢাকা জেলার পুলিশ সুপার এম এন মোর্শেদ।
গ্রেফতারকৃতরা হলো- মো. সমেজ (৩২), মো. সবুজ মিয়া(২৮), খবির ওরফে গোবিন্দ(২৮), মোঃ হাবিব ওরফে সজল(৩৬) এবং মো. লালন মোল্লা(৪৩)।
এম এন মোর্শেদ বলেন, গত ২০২৪ সালে নবাবগঞ্জ থানার অটোরিকশা চালক রাহুল খুনসহ ডাকাতির ঘটনার রহস্য উদঘাটনসহ জড়িত ৫ জন আসামিকে গ্রেফতার করেছে পিবিআই। গ্রেফতারকৃত আসামিদের মধ্যে মো. সবুজ মিয়া এবং মো.লালন মোল্লা আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দী দিয়েছে।
তিনি বলেন, অটোরিকশা চালক মো. রাহুল (১৯) তার ভাড়াকৃত অটো রিকশাটি নবাবগঞ্জ থানাধীন চক সিংহড়া এলাকায় জনৈক ওমর ফারুক এর ওয়ার্কশপে রাখত এবং সেখানে রাতে ঘুমাত। গত ২০২৪ সালের ০৬ ফেব্রুয়ারির রাতে ভুক্তভোগী রাহুল তার নিজ বাসা থেকে রাতের খাবার খেয়ে ওয়ার্কশপে ঘুমানোর জন্য যায়। পরদিন বাড়িতে না যাওয়ায় রাহুলের বাবা ওয়ার্কশপে খুঁজতে গিয়ে সেখানে রাহুলকে পাননি। ওয়ার্কশপে তার অটোরিকশাটিও ছিলনা। এসময় তার ব্যবহৃত মোবাইল ফোনও বন্ধ পাওয়া যায়। তারপর থেকে রাহুল এবং তার অটোরিকশাটি খুঁজে পাওয়া যাচ্ছিলনা।
তিনি বলেন, পরে (০৯ ফেব্রুয়ারি) সকালে ওয়ার্কশপের পাশে ভুট্টা ঘাসের জমির ঝোপ থেকে অর্ধগলিত মৃতদেহ উদ্ধার করা হয়। এই ঘটনায় নিহতের বাবা মোঃ আঃ রহমান বাদী হয়ে অজ্ঞাতনামা আসামিদের বিরুদ্ধে নবাবগঞ্জ থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেন।
তিনি বলেন, পিবিআই ঢাকা জেলা টিম গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে ঘটনায় জড়িত আসামি মো. সমেজকে গ্রেফতার করে। তার দেয়া তথ্যে অপর আসামিদের গ্রেফতার করা হয়।
তদন্ত ও জিজ্ঞাসাবাদের তথ্য জানিয়ে তিনি বলেন, গ্রেফতারকৃত আসামিরা রাহুল এর পূর্ব পরিচিত। গ্রেফতারকৃত আসামি মো. লালন মোল্লা ইয়াবা ব্যবসা করে। ভুক্তভোগী রাহুল এবং অন্যান্য আসামিরা লালনের কাছ থেকে ইয়াবা কিনতো এবং তারা একসাথে ইয়াবা সেবন করত। লালন সবুজের কাছে জানতে পারে যে, তার ইয়াবা বিক্রির তথ্য রাহুল বাইরে বিভিন্ন জায়গায় জানিয়ে দিবে বলে সবুজের কাছে বলেছে। তথ্য ফাঁস করে দেয়ার কথা জানতে পেরে আসামিরা রাহুলকে মেরে তার অটোরিকশা ছিনিয়ে নিয়ে বিক্রি করার পরিকল্পনা করে। পরিকল্পনা অনুযায়ী ২০২৪ সালের (০৬ ফেব্রুয়ারি) আনুমানিক রাত ১০ টায় লালন সবুজকে দিয়ে রাহুলকে তার অটোরিকশাসহ একটি খোলা মাঠে ডেকে নিয়ে যায়। সেখানে লালন ছাড়াও সবুজ, সজল, সমেজ ও গোবিন্দ উপস্থিত ছিল। তারা প্রথমে রাহুলকে ইয়াবা খাওয়ায়। এক পর্যায়ে সুযোগ বুঝে লালন লোহার এঙ্গেল দিয়ে রাহুলের মাথার পিছনে বাড়ি দিলে মাথা ফেটে রক্ত বের হয়। রাহুলের কানে ও মুখে ব্লেড দিয়ে আঘাত করে। তারা রাহুলের অটোরিকশার ব্যাটারী দিয়ে রাহুলের মুখে আঘাত করে এবং শ্বাসরোধ করে রাহুলের মৃত্যু নিশ্চিত করে। পরে তারা রাহুলের মৃতদেহ অটোরিকশায় বসিয়ে আসামী সজলের গরুর খামারে নিয়ে যায়। আসামীরা সেখানে মৃতদেহ দুইদিন রাখে এবং ০৯ফেব্রুয়ারি রাতে মৃতদেহ ওমর ফারুকের ওয়ার্কশপের পাশে ঝোপঝাড়ে ফেলে রাখে। যেখান থেকে পরবর্তীতে মৃতদেহ উদ্ধার করা হয়। পরে রাহুলের অটোরিকশাটি গ্রেফতারকৃত আসামিরা বিক্রি করে দেয় এবং বিক্রির টাকা নিজেদের মধ্যে ভাগ করে নেয়।