কয়েকদিন যাবত জেলায় সুর্য্যরে দেখা নেই। কুয়াশার সাথে হিমেল বাতাস বয়ে যাচ্ছে। তাপমাত্রা সর্বনিম্ন ৯.৫ ডিগ্রী সেলসিয়াস। এ অবস্থায় তীব্র শীতে কাঁপছে যমুনা পাড়ের জেলা সিরাজগঞ্জ। শীতের কারনে রাস্তায় কম মানুষ বের হচ্ছে। কনকনে শীতে নিম্ন আয়ের মানুষ কাজ পারছে না। কৃষকরা পরিচর্যার জন্য ক্ষেতে যেতে পারছে না। ধানের বীজতলা নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। সবচেয়ে বেশি কস্টে রয়েছে শিশু ও বয়োবৃদ্ধরা। হাসপাতালগুলোতে শীতজনিত রোগ অ্যাজমা, শ্বাসকস্ট, হাঁপানি, সর্দি ঠান্ডা রোগীর সংখ্যা বৃদ্ধি পাচ্ছে। কাজ না থাকায় দরিদ্র মানুষ আর্থিক সংকট দেখা দিয়েছেন। এছাড়াও শীতবস্ত্রেরও তীব্র সংকট দেখা দিয়েছে। সরকার থেকে যে কম্বল বরাদ্দ দেয়া হয়েছে তা প্রয়োজনের তুলনা অপ্রতুল।
সিরাজগঞ্জের তাড়াশ আবহাওয়া পর্যবেক্ষণাগারের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা জাহিদুল ইসলাম জানান, সকালে জেলায় এ বছরের সর্বনিম্ন ৯.৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে। অপরদিকে, বাঘাবাড়ী আবহাওয়া অফিসের সহকারী আবহাওয়া অফিসার মোস্তফা কামাল বলেন, সকালে সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ৯.৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস রেকর্ড করা হয়েছে।
রিক্সা চালক আব্দুল করিম জানান, রিক্সায় চালানো কস্টকর হয়ে পড়েছে। শীতে হাত-পা সিটকে লেগে যায়। পেটের তাগিদে বের হলেও ঠিকমত ভাড়া পাওয়া যায় না। জরুরী প্রয়োজনে যারা বের হয় প্রায় সবাই হেটে হেটে যায়।
বাজারস্টেশনের কাঁচামাল বিক্রেতা জানান, দিনের বেলাতেই শীত সহ্য হচ্ছে না। আগুন জ¦ালিয়ে শীত নিবারনের চেষ্টা করছি।
জেলা ত্রান ও পুনর্বাসন কর্মকর্তা আব্দুল বাছেত জানান, এ পর্যন্ত ৬-৭ হাজার কম্বল বিতরন করা হয়েছে। আরো বরাদ্দ পাওয়া গেছে। আগামী কয়েকদিনের মধ্যে কম্বল ক্রয় করে বিতরন করা হবে।
সিরাজগঞ্জ সিভিল সার্জন ডা. নুরুল আমিন জানান, জরুরি প্রয়োজন ছাড়া ঘর থেকে বের হওয়া উচিত না। বের হলেও শরীর উষ্ন রাখতে পর্যাপ্ত শীতের কাপড় পরিধান করতে হবে। তা না হলে শীতজনিত রোগ সর্দি-কাশি, হাঁপানি, অ্যাজমা ও শ্বাসকষ্টজনিত বেড়ে যেতে পারে।