সিরাজগঞ্জের কাজিপুরে উপজেলা প্রশাসন, জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর ও জেলা নিরাপদ খাদ্য অফিস কর্তৃক যৌথ অভিযান পরিচালিত হয়েছে।৬ জানুয়ারি দুপুরে কাজিপুর উপজেলার সোনা
মুখি বাজারে হোটেল, মুদিদোকান, বেকারি দোকানে এবং অন্যান্য নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের প্রতিষ্ঠানগুলো তদারকি করা হয়।
অভিযানকালে মুক্তা হোটেল এন্ড দই মিস্টি ঘরে নানা অনিয়ম লক্ষ্য করা যায়। অস্বাস্থ্যকর ও নোংরা স্যাঁতসেঁতে পরিবেশে খাবার তৈরি করা হচ্ছিল, কর্মচারীদের স্বাস্থ্যবিধি কিংবা স্বাস্থ্য পরীক্ষার সনদ ছিল না, খাবার খোলা অবস্থায় রাখা হচ্ছিল এবং মিষ্টিসহ অন্যান্য খাবারে ব্যবহার করা হচ্ছিল অননুমোদিত উপাদান। বিএসটিআইয়ের লাইসেন্স ছাড়া দই ও মিষ্টি তৈরি করা হচ্ছিল, কিন্তু কোনো মেয়াদ উল্লেখ করা হচ্ছিল না। খাবার রাখার জন্য ব্যবহার হচ্ছিল নিষিদ্ধ খবরের কাগজ ও ছাপা কাগজ।এসব অপরাধে মুক্তা হোটেল এন্ড দই মিস্টি ঘর কে ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ আইন ২০০৯ এর ৫১ ধারায় ৩০,০০০/- টাকা জরিমানা করা হয় এবং ভবিষ্যতের জন্য সতর্ক করা হয়।
অন্যদিকে,একই বাজারে আব্দুল মজিদ স্টোরে গ্যাসের সিলিন্ডারের সরকার নির্ধারিত মূল্যের চেয়ে বেশি দামে বিক্রি ও মূল্য তালিকা প্রদর্শন না করাএবং ক্রয় রশিদ সংরক্ষণ না করার দায়ে জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ আইন ২০০৯ এর ৪০ ধারায় ২৫ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়। অভিযানে আব্দুল কাইয়ুম ভ্যারাইটি স্টোরে নানা অনিয়ম পরিলক্ষিত হয়।
বিএসটিআইয়ের লাইসেন্স ছাড়া দই ও কেক তৈরি করা হচ্ছিল, কিন্তু কোনো মেয়াদ উল্লেখ করা হচ্ছিল না। বিভিন্ন বেকারি পণ্যের মেয়াদ উত্তীর্ণ সহ অনিবন্ধিত অবস্থায় খাদ্য উৎপাদন, বিপণন, মজুদ,সরবরাহ ও বিক্রির দায়ে নিরাপদ খাদ্য আইন ২০১৩ এর ৩৯ এর ধারায় ১ লক্ষ টাকা অর্থদণ্ড অনাদায়ে ৩ (তিন) মাস বিনাশ্রম কারাদণ্ড প্রদান করা হয়।
অভিযান পরিচালনায় নেতৃত্ব দেন কাজিপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট মোঃ মোস্তাফিজুর রহমান জেলা ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক সোহেল শেখ, জেলা নিরাপদ খাদ্য অফিসার আতিকুর রহমান, স্যানিটারি ইন্সপেক্টর শহিদুল ইসলাম রন্টি, কৃষি বিপণন কর্মকর্তা সিদ্দিকুর রহমান, কনজুমার এসোসিয়েশন অফ বাংলাদেশ কাজিপুর উপজেলা শাখার সভাপতি মোঃ আতিকুল ইসলাম ও সাধারণ সম্পাদক মোঃ শফিকুল ইসলাম।
অভিযানে অন্যান্য প্রতিষ্ঠানও তদারকি করা হয় এবং প্রতিষ্ঠানগুলোকে ন্যায্যমূল্যে পণ্য বিক্রয়, মূল্যতালিকা প্রদর্শন এবং ক্রয়-বিক্রয় ভাউচার সংরক্ষণের বিষয়ে নির্দেশনা প্রদান করা হয়।উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোঃ মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের সাথে বরাবরই ভোক্তাদের স্বার্থ রক্ষায় কঠোর অবস্থানে রয়েছি। আজকের অভিযানটি তারই একটি অংশ। আমরা প্রতিটি প্রতিষ্ঠানে মানসম্পন্ন পণ্য সরবরাহ এবং স্বাস্থ্যসম্মত পরিবেশ নিশ্চিত করতে বদ্ধ পরিকর। আমরা প্রতিটি প্রতিষ্ঠানে মানসম্পন্ন পণ্য সরবরাহ এবং স্বাস্থ্যসম্মত পরিবেশ নিশ্চিত করার জন্য নিয়মিত অভিযান চালিয়ে যাব। যদি কেউ আইন ভঙ্গ করে, তবে তার বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।