জয়পুরহাটে পলিনেটে বদলে যাচ্ছে স্থানীয় কৃষি চাষাবাদ। তাইতো আধুনিক কৃষি প্রযুক্তির ছোঁয়ায় বদলে যাচ্ছে জেলার আক্কেলপুর উপজেলার কৃষি । এ উপজেলায় স্থাপিত ‘পলিনেট হাউজ’ এখন যেন স্থানীয় কৃষকদের মাঝে আস্থার প্রতীক হয়ে দাঁড়িয়েছে। আধুনিক তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণ এ পদ্ধতির মাধ্যমে উৎপাদিত উন্নতমানের চারা রোপণ করে উচ্চফলনশীল ফসল ফলিয়ে অধিক লাভের নতুন পথের সন্ধান করছেন এখানকার চাষিরা।
পলিনেট হাউজ: ‘পলিনেট সবজি চারা’ বলতে বোঝায় বিশেষ পলিনেট হাউজে (Polynet House), যা পলিথিন ও নেট দিয়ে তৈরি একটি নিয়ন্ত্রিত পরিবেশ, সেখানে উৎপাদন করা স্বাস্থ্যবান ও রোগমুক্ত সবজির চারা। এই পদ্ধতিতে জলবায়ুর বিরূপ প্রভাব মোকাবিলা করে, আর্দ্রতা ও তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণ করে সারা বছর বিভিন্ন ধরনের সবজি যেমন টমেটো, বেগুন, লাউ, শিম, ফুলকপি, বাঁধাকপি এবং বিভিন্ন শাকের চারা উৎপাদন করা হয়, যা কৃষকদের অসময়ে উচ্চমূল্যে চাষাবাদে লাভবান হতে সাহায্য করে।
রাজশাহী বিভাগের কৃষি উন্নয়ন প্রকল্পের আওতায় স্থাপিত এ পলিনেট হাউজে প্রতিদিন ভিড় করছেন বিভিন্ন এলাকার চাষিরা। গুণগত মান ভালো হওয়ায় ইতোমধ্যেই এখান থেকে চারা নিয়ে ভালো ফলন পেয়েছেন অনেক চাষিরাই।
নওগাঁ জেলার মথুরাপুর ইউনিয়ন থেকে আসা চাষি সামছুল হক জানান, ‘এখানে চারা নেওয়ার জন্য আসছি । গ্রিন বল বেগুনের চারা ৩০০ পিস কিনেছি। নিজেই জমিতে চাষাবাদ করবো। আর এর আগেও এখান থেকে চারা নিয়েছি। গুণগতমানে চারাগুলো বেশ ভালো হওয়ায় ফলনও ভালো হয়েছে আর সে জন্য এবারও এসেছি ।’
চাষি খালেক হোসেন জানান, ‘আমি প্রথমবার ঝালের পুল নিতে আসছি। ৬ শতক জমিতে লাগাবো বলে ১ হাজার টাকায় ৫০০ পিস পুল নিলাম। যদি ফলন ভালো হয় তাহলে আগামীতে এখান থেকেই বিভিন্ন ধরনের চারা কিনবো।’
পলিনেট হাউজের পরিচর্যাকারী মো: আবু রায়হান জানান, ‘আমাদের এখানে অনেক ধরনের চারা পাওয়া যায়। টমেটো,মরিচ, বেগুন, ফুলকপি, বাঁধাকপি ও বারোমাসি মরিচের চারা সহ বিভিন্ন রকমের চারা পাওয়া যায়। এছাড়াও ছাদ বাগানের টবে লাগানোর জন্য সবজির চারা ও বিভিন্ন প্রজাতির ফুলের চারা ও আছে। আমরা সবকিছুতে আধুনিক প্রযুক্তি ও পদ্ধতি ব্যবহার করি। চারা তৈরিতে ব্যবহার করা হয় কোকোপিট। কোকোপিটের চারা নষ্ট হয় না। চারাগুলো মাটির চারার থেকে বেশি উপকারী এবং ফলন ভালো হয়। এতে করে বেশি লাভবান হন কৃষক ।’
পলিনেট হাউজের তত্ত্বাবধানে থাকা আক্কেলপুর উপজেলা কৃষি অফিসের উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা সুলতান মাহমুদ জানান, ‘আধুনিক প্রযুক্তির মাধ্যমে রাজশাহী বিভাগের কৃষি উন্নয়ন প্রকল্পের আওতায় পলিনেট হাউজে উন্নতমানের সিজনাল সবজির চারা উৎপাদন করা হয়। এখানে দু’জন কর্মচারী কাজ করেন। এখান থেকে আশপাশের কৃষকও সহজেই উন্নতমানের সবজির চারা পেয়ে থাকেন।’
আক্কেলপুর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা ইমরান হোসেন জানান, ‘আধুনিক পলিনেট হাউজের প্রধান বৈশিষ্ট্য হচ্ছে পলিনেটের মধ্যে তাপমাত্রা এবং ময়শ্যার কন্ট্রোল করে আমরা উচ্চ ফলনশীল ফসল উৎপন্ন করতে পারি। আর এই প্রকল্পের লক্ষ্য -উদ্দেশ্য হচ্ছে চাষিদের আধুনিক প্রযুক্তির সাথে পরিচয় করিয়ে দেওয়া এবং চাষিদের বেশি লাভের মুখ দেখানো।’