সিরাজগঞ্জের কামারখন্দ উপজেলার কোনাবাড়ি দারুল উলুম কওমিয়া হাফিজিয়া মাদ্রাসার একেকটি কক্ষের ভেতরে ঢুকলেই আগে চোখে পড়ত ঠান্ডা পাকা ফ্লোর। শীতের সকালে সেখানে বসেই কোরআন শরিফ তিলাওয়াত করত শিক্ষার্থীরা। মাদুর বা কাঁথা থাকলেও ভিজে যেত দ্রুত। ঠান্ডায় হাত-পা জমে আসত অনেকের। পড়াশোনা আর ইবাদত দুটোই হতো কষ্টের। এবার সেই চিত্র বদলাতে শুরু করেছে।
ডু সামথিং ফাউন্ডেশনের উদ্যোগে মাদ্রাসার পাঁচটি কক্ষে প্রায় এক লাখ টাকা মূল্যের কার্পেট বসানো হয়েছে। ফলে শীতের কনকনে ঠান্ডায় আর সরাসরি ফ্লোরে বসতে হচ্ছে না শিক্ষার্থীদের। রোববার দুপুরে ডু সামথিং ফাউন্ডেশনের সদস্য সচিব আশরাফুল ইসলাম মাদ্রাসায় এসে কার্পেটগুলো হস্তান্তর করেন।
শিক্ষার্থীরা নিজেরাই কক্ষগুলোতে কার্পেট বিছিয়ে নেয়। নতুন কার্পেটের ওপর বসে কোরআন পড়তে পড়তে অনেকের মুখেই দেখা যায় স্বস্তির হাসি।

মাদ্রাসার শিক্ষক ও সদস্য সচিব মাওলানা মো. জামাল উদ্দিন বলেন , এখানে বর্তমানে ৭৬ জন আবাসিক ও ১০০ জন অনাবাসিক শিক্ষার্থী পড়াশোনা করে। নুরানি, হেফজখানা, কিতাব বিভাগসহ জামাতে উর্দু কায়দা থেকে জামায়াতে শরহে জামী পর্যন্ত বিভিন্ন স্তরের পাঠদান হয়। আগে শীতের মৌসুমে পাকা ফ্লোরে বসে নামাজ ও পড়াশোনা করতে গিয়ে শিক্ষার্থীদের ভোগান্তিতে পড়তে হতো। আবাসিক এক শিক্ষার্থী বলে, শীতে ফ্লোর ভিজে যেত। কাঁথাও নষ্ট হতো। তখন বসে পড়তে খুব কষ্ট লাগত। এখন কার্পেট পাওয়ায় অনেক আরাম হবে। নামাজ আদায় করতেও সুবিধা হবে । ঠান্ডার কারণে আগের মতো অসুবিধা হবে না। ডু সামথিং ফাউন্ডেশনের সদস্য সচিব আশরাফুল ইসলাম বলেন, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোতে ছোট ছোট সহায়তা বড় পরিবর্তন আনতে পারে। শিক্ষার্থীদের কষ্ট লাঘব করাই এই উদ্যোগের লক্ষ্য। আমরা শুধু প্রতিষ্ঠান নয় অসহায় গরীবদেরকেও ডু সামথিং ফাউন্ডেশন সহযোগিতা করে থাকে।