দিনাজপুর প্রতিনিধিঃ দিনাজপুরের বীরগঞ্জে সাওতাল আদিবাসীদের কবর স্থানের মন্দির ও কালী প্রতিমা ভাংচুর এবং তির বৃদ্ধের ঘটনায় এজাহার নামীয় ২ জন গ্রেফতার।
গত ১৯ এপ্রিল রবিবার বেলা ১১ টায় উপজেলার পাল্টাপুর ইউনিয়নের সনকা আদিবাসীদের খ্রিস্টান পাড়ার কবর স্থানের জমি দখল, বাড়িঘর, মন্দির ও কালি প্রতিমা ভাঙচুরের ঘটনায় ২০ এপ্রিল সোমবার বীরগঞ্জ থানার পুলিশ রাত ১০ টার দিকে এজাহার নামিও দুই জন আসামিকে গ্রেফতার করে।
গ্রেফতারকৃতরা হলেন- উপজেলার পাল্টাপুর ইউনিয়নের ঘোড়াবান্দ গ্রামের আজগর আলীর ছেলে মোঃ মনি (৩৫) ও একই এলাকার আজগর আলীর ছেলে মোঃ রওশন আলী (৩০)।
গ্রেফতারকৃত দুই জনকে ২১ এপ্রিল মঙ্গলবার দুপুরে আদালতের মাধ্যমে দিনাজপুর জেলহাজতে পাঠানো হয়েছে।
মামলার এজাহার সূত্রে জানা গেছে, গত ১৯ ফেব্রুয়ারী ঘোড়াবান্দ গ্রামের কাদেরের ছেলে রেজাউল ও আজগর সাহাজীর ছেলে আজাদের নেতৃত্বে ভাড়াটিয়া সন্ত্রাসী বাহিনী আদিবাসী কবরস্থান সংলগ্ন শ্মশান কালী মন্দিরটি ও মন্দিরে থাকা শ্মশান কালীর প্রতিমাটি ভেঙ্গে দুরে ভুট্টা ক্ষেতে ফেলে রাখে।
এ সময় সংবদ্ধ ভাড়াটিয়া সন্ত্রাসীরা ত্রাস ও আতংক সৃষ্টি করে আদিবাসীদের নেতা পিউস মুর্মুর বাড়িতে হামলা চালিয়ে মারধর করে আহত করে ও তাদের ভাড়াটিয়াদের ছোড়া তির গনেশ সরেনের ছেলে বিশ্বনাথ অরফে ভোন্দা (৩০) নামে এক যুবকের বুকে তীর লাগে। আহতদের মুমূর্ষ অবস্থায় বীরগঞ্জ স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে হাসপাতালে নিয়ে ভর্তি করা হয়। তারা সেখানে চিকিৎসাধীন রয়েছে।
আদিবাসী নেতা অ্যান্তনি মুর্মু বাদী হয়ে এজাহার নামীয় ১৪ জন ও অজ্ঞাত দুই থেকে আড়াই জনের বিরুদ্ধে বীরগঞ্জ থানায় একটি মামলা দায়ের করেছে। যাহার মামলা নং- ১৭, তাং- ২০/০৪/২৬ ইং।
ওসি সাইফুল ইসলাম জানান, আদিবাসী ও খ্রিস্টান পাড়ায় হামলার খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে গিয়ে হামলাকারীদের ছত্রভঙ্গ করে পুলিশ। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়। ওসি আরও জানান, সেদিন ভাঙচুর হওয়া প্রতিমা ও অন্যান্য আলামত জব্দ করা হয়েছে। গ্রেফতার করে আদালতে সোর্পদ করা হয়েছে এবং অভিযান অব্যাহত থাকবে।
বীরগঞ্জ উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট দীপঙ্কর বর্মন বলেন, সংবাদ পেয়ে ঘটনার দিন ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছিলাম। বিরোধপূর্ণ জমিটি সরকারি খাস জমি এবং ঘটনাটি অমানবিক।