অবশেষে সব প্রতীক্ষার অবসান ঘটিয়ে আজ বৃহস্পতিবার ভোরে প্রকাশিত হয়েছে বহুল আলোচিত চলচ্চিত্র ‘রামায়ণ’-এর ট্রেলার। ট্রেলারটি প্রকাশ পাওয়ার পর থেকেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে চরম উদ্দীপনা ও তুমুল আলোচনার সৃষ্টি হয়েছে। গত সপ্তাহে সান দিয়েগো কমিক-কন আয়োজনে ট্রেলারটির মুক্তি স্থগিত করায় অনুরাগীদের মধ্যে উৎকণ্ঠা চরমে পৌঁছেছিল। তবে দীর্ঘ অপেক্ষার পর প্রথম ঝলক সামনে আসতেই সাধারণ দর্শক ও ভক্তদের একবাক্যে স্বীকারোক্তি—এই দীর্ঘ অপেক্ষা পুরোপুরি সার্থক হয়েছে।
পরিচালক নিতেশ তিওয়ারি এবং প্রযোজক নামিত মালহোত্রার যৌথ প্রয়াসে নির্মিত এই ছবিতে ফুটে উঠেছে মহাকাব্য রামায়ণের অসংখ্য গুরুত্বপূর্ণ চরিত্র। যদিও রামায়ণের ট্রেলারে হনুমান রূপী সানি দেওলের অনুপস্থিতি নজর কেড়েছে সবার, তবে পুরো সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমজুড়ে এখন সবচেয়ে বড় আলোচনার বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে রণবীর কাপুর ও দক্ষিণী সুপারস্টার যশের মধ্যে মুখোমুখি লড়াই। ভগবান রামের চরিত্রে রণবীর কাপুর এবং রাবণের চরিত্রে যশের এই মেলবন্ধনকে ‘রণবীর বনাম যশ’ দ্বন্দ্বের এক মহাকাব্যিক সূচনা হিসেবে আখ্যা দিচ্ছেন নেটিজেনরা।
পর্দায় যশের অবিশ্বাস্য উপস্থিতি এবং দুর্দান্ত আভা দেখে প্রশংসায় পঞ্চমুখ ট্রেলারপ্রেমীরা। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এক অনুরাগী লিখেছেন, রামায়ণ ট্রেলারে যশ একেবারে মহাকাব্যিক রূপ ধারণ করেছেন। চিত্রনাট্যে তার শারীরিক উপস্থিতি স্ক্রিন প্রেজেন্স শব্দটির নতুন সংজ্ঞা তৈরি করেছে। সত্যি বলতে, তাকে দেখে এক উন্মুক্ত হিংস্র পশুর মতো মনে হচ্ছে, যিনি সবাইকে গ্রাস করতে এসেছেন। ভয়ংকর খল চরিত্রে অভিনয় করেও সিনেমা হলে তিনি সবচেয়ে বেশি করতালি পাবেন। এমন ক্ষমতা এবং রাজকীয় উপস্থিতি আগে কখনো দেখা যায়নি।
আরেকজন দর্শক নিজের অভিজ্ঞতা ব্যক্ত করে লিখেছেন, রাবণের পেছনের গল্প, তার পোষা প্রাণী, ভগবান রামের নিখুঁত বর্ণনা, মাতা সীতার চরিত্র রূপায়ণ, বিশাল ক্যানভাসের অসাধারণ দৃশ্য এবং রাক্ষসদের খুঁটিনাটি উপস্থাপনা—সব মিলিয়ে এক গভীর গল্পবলার অনুভূতি পেলাম। অন্য এক অনুরাগী মন্তব্য করেছেন, রাবণ চরিত্রে যশ যেন খাঁটি আতঙ্কের নাম। ছবির প্রতিটি ফ্রেমে ফুটে উঠেছে তার ক্ষমতা, আধিপত্য এবং তীব্র আবেগ। এটি সিনেমার ইতিহাসে এক স্মরণীয় পারফরম্যান্স হতে যাচ্ছে। এ ছাড়া ডায়ালগ ছাড়া কেবল চোখের ভাষায় নজর কাড়া এবং ডাবিংয়ে তার স্বরের গম্ভীরতা প্রসঙ্গে দর্শকরা বলছেন, ডাবিংয়ে তার কণ্ঠের ভয়েস মডুলেশন গায়ে কাঁটা দেওয়ার মতো।
সামগ্রিক ভিজ্যুয়াল ও নির্মাণের প্রশংসা করে দর্শকরা এই ছবিকে কেবল বিনোদন নয়, বরং ভক্তির এক অনন্য নিদর্শন বলছেন। একজন অনুরাগী লিখেছেন, মহিমান্বিত, জাদুকরি ও সত্যিই ঐশ্বরিক! প্রতিটি দৃশ্য যেন রূপকথার চেয়েও বড়। দেখার মতো সব দৃশ্যপট আর নিখুঁত আবেগ। মনে হচ্ছে গভীর ভক্তি ও বিশাল স্কেলে তৈরি এক সিনেম্যাটিক বিস্ময়। জয় শ্রী রাম! আবার রাবণ ও জটায়ুর যুদ্ধ দৃশ্য দেখে অভিভূত এক ভক্ত লিখেছেন, জটায়ু ও রাবণের মধ্যকার দুর্দান্ত যুদ্ধ, শিবধনুকের দৃশ্য, পুষ্পক বিমান এবং ঐরাবতের শ্বাসরুদ্ধকর উপস্থাপনা প্রমাণ করে যে ডিএনইজির আন্তর্জাতিক মানের ভিজ্যুয়াল ইফেক্টস একে শুধুই এক চলচ্চিত্রে সীমাবদ্ধ রাখেনি, এটি একটি ঐতিহাসিক ঘটনা বানিয়ে তুলেছে।
বিশাল বাজেট ও আন্তর্জাতিক মানের আয়োজনের কারণে ছবিটি ইতিমধ্যেই গোটা বিশ্বের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছে। সর্বমোট ৪ হাজার কোটি রুপি বা প্রায় ৫০ কোটি মার্কিন ডলার বাজেটে তৈরি হচ্ছে এই দ্বিখণ্ডভিত্তিক বিগ বাজেট চলচ্চিত্রটি। ছবিটির বিশালতা নিয়ে প্রখর গুপ্তকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে প্রযোজক নামিত মালহোত্রা বলেন, প্রায় ছয়-সাত বছর আগে যখন আমরা এটি তৈরির সিদ্ধান্ত নিয়েছিলাম, তখন অনেকে আমাকে পাগল ভেবেছিল। কারণ ভারতে এই বাজেটের ধারেকাছেও কোনো সিনেমা তৈরি হয়নি। সহজ ভাষায় বলতে গেলে, দুটি পর্ব মিলিয়ে এর বাজেট প্রায় ৫০ কোটি ডলার, যা ভারতীয় মুদ্রায় ৪ হাজার কোটি রুপিরও বেশি। তিনি আরও যোগ করেন, আমরা পৃথিবীর সবচেয়ে মহান মহাকাব্যের ওপর ভিত্তি করে বিশ্বের সবচেয়ে বড় সিনেমা তৈরি করছি যা বিশ্বমঞ্চে তুলে ধরা জরুরি। তবে হলিউডের বড় বড় ছবির তুলনায় আমরা অত্যন্ত সুপরিকল্পিতভাবে বাজেট ব্যবহার করছি। আমরা দায়িত্বজ্ঞানহীনতা দেখাচ্ছি না, বরং আমাদের লক্ষ্য বড় কিন্তু চিন্তাভাবনা বাস্তবমুখী।
উল্লেখ্য, এই সিনেমার আবহসংগীতের জন্য প্রথমবারের মতো হাত মিলিয়েছেন অস্কারজয়ী সুরকার হ্যান্স জিমার এবং ভারতের সংগীত জাদুকর এ আর রহমান। বিশ্বজুড়ে দুটি পর্বে প্রেক্ষাগৃহে মুক্তি পাবে এই চলচ্চিত্রটি। আগামী অক্টোবর ২০২৬-এ দীপাবলি উৎসবকে সামনে রেখে ছবিটির প্রথম অংশ বিশ্বব্যাপী মুক্তি পাবে এবং দ্বিতীয় অংশটি প্রেক্ষাগৃহে আসবে ২০২৭ সালের দীপাবলিতে।
সূত্র: এনডিটিভি