জয়পুরহাটে জ্বালানি তেলের ‘কৃত্রিম সংকট’ বন্ধ অধিকাংশ পাম্প । দেশে জ্বালানি তেলের পর্যাপ্ত মজুত থাকার সরকারি আশ্বাসের পরও জেলার অধিকাংশ ফিলিং স্টেশন বন্ধ রয়েছে। এতে করে চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন যানবাহন চালকরা। আবার হাতেগোনা দুই-একটি পাম্প খোলা থাকলেও সেখানে তেল দেওয়া হচ্ছে খুব সীমিত আকারে। ফলে ওই পাম্পগুলোতে গ্রাহকদের দীর্ঘ লাইন তৈরি হচ্ছে।
জেলার সদর উপজেলায় ৯টি, পাঁচবিবিতে ৩, কালাইয়ে ৩, ক্ষেতলালে ২, এবং জেলার আক্কেলপুরে ৩টিসহ পাঁচ উপজেলায় ২০টি তেলের পাম্প রয়েছে। পাম্প কর্তৃপক্ষ বলছেন- এসব পাম্পে আগে স্বাভাবিকভাবে তেল বিক্রি করা হতো। তবে গত দুই দিন ধরে হঠাৎ করে চালকদের অতিরিক্ত তেল নেওয়ার প্রবণতায় পাম্পগুলোতে তেল নেওয়ার এক রকম হিড়িক পড়ে যায়। বিশেষ করে মোটরসাইকেল চালকদের দীর্ঘ সারি লেগেই রয়েছে। এ কারণে পাম্পগুলোতে পেট্রোল ও অকটেনের মজুত কমে আসায় রোববার অধিকাংশ তেলের পাম্প বন্ধ রাখা হয়েছে। যেসব তেল রয়েছে সেগুলো জরুরি সেবা ও সরকারি গাড়িগুলোর জন্য রাখা হয়েছে।
রোববার (৮ মার্চ-২০২৬) বিকালে সরেজমিন সদরের কয়েকটি পাম্প ঘুরে দেখা গেছে, বেশির ভাগ পাম্পে তেল সরবরাহ বন্ধ রয়েছে। আবার কোনো কোনো পাম্পে দড়ি দিয়ে প্রবেশপথ একেবারে বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। আবার কোনোটিতে মেশিনগুলো কাপড় দিয়ে ঢেকে দেওয়া হয়েছে। খোলা থাকা পাম্পগুলোতে মোটরসাইকেল প্রতি মাত্র ১০০ টাকার তেল দেওয়া হচ্ছে। অবশিষ্ট তেল মূলত অ্যাম্বুলেন্স ও সরকারি দপ্তরের গাড়ির জন্য সংরক্ষিত রাখা হয়েছে।
জেলা শহরের বাস টার্মিনাল এলাকার মেসার্স তাজ ফিলিং স্টেশনে তেল কিনতে পাম্পের প্রবেশ পথে দড়ি দেখে ঘুরে যান মোটরসাইকেল চালকরা। এ সময় আনিসুল ইসলাম নামে একজন বলেন, শহরের ভেতরে কিছু কাজ শেষে পাম্পে তেল নিতে এসেছি। কিন্তু এসেই দেখি, দড়ি দিয়ে পাম্পে প্রবেশ করার পথ বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। এখন অন্য কোনো পাম্পে গিয়ে তেলের খোঁজ করতে হবে।
ফিলিং স্টেশন উদয়নে তেল কিনতে আসা মো: রিপন নামে এক মোটরসাইকেল চালক বলেন, সিরিয়াল ধরে আধাঘণ্টা পর ১০০ টাকার তেল পেয়েছি। এই তেল দিয়ে ৫০ কি:মি:ও যাওয়া যাবে না। সেমাই-চিনি দিতে আত্মীয়ের বাসায় যাব, সেটাও হচ্ছে না।
সদরের পাকারমাথা এলাকায় মেসার্স মামুন ফিলিং স্টেশনে তেল কিনতে আসা আবু জাফর বলেন, আমার মনে হচ্ছে এটা গ্রাহকের ওপর অত্যাচার করা হচ্ছে। খোলা বাজারে তেল নেই, পাম্পে এসেও তেল নেই। প্রতিনিয়ত মোটরসাইকেল লাগে। তেল না পাওয়ায় এই গাড়ি নিয়ে যাওয়া আমার জন্য কষ্টকর হয়ে যাচ্ছে।
মেসার্স তাজ ফিলিং সেন্টারের ম্যানেজার খায়রুল আলম মুন্না বলেন, আমাদের তেলের পাম্প বন্ধ রাখা হয়েছে। আমাদের দুটি গাড়ি বাঘাবাড়িতে তেল নিতে গেছে। ওই খান থেকে তেল নিয়ে এলে আমরা তেল দিতে পারবো। এতে কোনো সমস্যা হবে না। বহির্বিশ্বে তেলের যে অবস্থা তাতো গ্রাহকরা জানেন।
উদয়ন ফিলিং স্টেশনের মালিক শাহ নেওয়াজ রায়হান চৌধুরী বলেন, গত বুধবার-বৃহস্পতিবার পর্যন্ত তেল ঠিকই ছিল। রোববার আমরা ডিপোতে তেল পাইনি। আমরা চলছি ওই দুই দিনের তেল দিয়ে । মোটরসাইকেলে ১০০ টাকা করে, অ্যাম্বুলেন্স এবং প্রশাসনের গাড়ি যা যাচ্ছে সেই পরিমাণ তেল আমরা দিচ্ছি। আগামীকাল (সোমবার) তেল পাওয়ার কথা রয়েছে দেখা যাক কি হয়।