ইরানের বুশেহর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের কাছে সাম্প্রতিক সামরিক হামলার ঘটনায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন জাতিসংঘ পরমাণু পর্যবেক্ষণ সংস্থা আইএইএ-র প্রধান রাফায়েল গ্রোসি। বৃহস্পতিবার এক বিবৃতিতে তিনি সতর্ক করে বলেন যে, সচল কোনো পারমাণবিক স্থাপনায় যেকোনো ধরনের ক্ষয়ক্ষতি একটি ভয়াবহ ‘তেজস্ক্রিয় দুর্ঘটনা’ ডেকে আনতে পারে, যার প্রভাব কেবল ইরানেই নয়, বরং এর সীমানা ছাড়িয়ে বিশাল এলাকায় ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা রয়েছে।
আইএইএ মহাপরিচালক জানান, গত মঙ্গলবার রাতে বুশেহর কেন্দ্রের আশেপাশে এই হামলার ঘটনা ঘটে। যেহেতু এই কেন্দ্রটি বর্তমানে সক্রিয় এবং সেখানে বিপুল পরিমাণ পারমাণবিক জ্বালানি ও উপাদান মজুত রয়েছে, তাই যেকোনো যান্ত্রিক বা কাঠামোগত ক্ষতি পরিবেশ ও জনস্বাস্থ্যের জন্য চরম বিপর্যয়কর হতে পারে।
গ্রোসি আরও উল্লেখ করেন, সশস্ত্র সংঘাতের সময় পারমাণবিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে আইএইএ-নির্ধারিত ‘সাতটি স্তম্ভ’ বা মূলনীতি মেনে চলা অত্যন্ত জরুরি। বর্তমান পরিস্থিতিতে সম্ভাব্য পারমাণবিক দুর্ঘটনা এড়াতে তিনি সংশ্লিষ্ট সকল পক্ষকে সর্বোচ্চ সংযম প্রদর্শনের আহ্বান জানিয়েছেন।
এদিকে ইরানের পরমাণু শক্তি সংস্থা গত মঙ্গলবার জানায়, স্থানীয় সময় রাতে একটি প্রজেক্টাইল বা ক্ষেপণাস্ত্র বুশেহর পারমাণবিক কেন্দ্রের চত্বরে আঘাত হানে। ইরান এই ঘটনাকে ‘আমেরিকান-ইসরায়েলি শত্রুদের’ পক্ষ থেকে একটি পরিকল্পিত হামলা হিসেবে অভিহিত করেছে। যদিও এই অভিযোগের প্রেক্ষিতে মার্কিন প্রতিরক্ষা দফতর কিংবা ইসরায়েলি সামরিক বাহিনীর পক্ষ থেকে এখন পর্যন্ত কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।
মধ্যপ্রাচ্যে চলমান উত্তেজনার মাঝে পারমাণবিক কেন্দ্রের এই নিরাপত্তাঝুঁকি বিশ্বজুড়ে নতুন করে উদ্বেগের সৃষ্টি করেছে।
সূত্র: সিএনএন