সিরাজগঞ্জের কামারখন্দে প্রায় ৮০ বছর পর পৈতৃক জমি দখলে লাল নিশান উড়িয়ে নিয়েছেন ৮০বছর বয়স্ক মকবুল সরকার। এ সময় তিনি বাবার সম্পত্তির মধ্যে দাঁড়িয়ে আবেক আপ্লুত হয়ে পড়েন। সম্প্রতি উপজেলা ভূমি অফিস থেকে করণিক ভুল থাকা জমির কাগজপত্র সংশোধনের পর(২৪ জুন) বুধবার উপজেলার বড়কুড়া গ্রামে ৬৪শতাংশ একটি ফসলি জমি দখলে নেন মকবুল সরকার। এসময় মকুবল সরকারের বাবা মৃত জমসের প্রামানিকের ওয়ারিশরা উপস্থিত ছিলেন।
জমির কাগজপত্রে করণিক ভুল থাকায় ভুল সংশোধনের জন্য উপজেলা ভূমি অফিসে মামলা করেন জমসের প্রামানিকের নাতী জাহিদুল ইসলাম। দাখিলকৃত কাগজপত্রের সার্বিক পর্যালোচনা করে আদেশ দেন সহকারি কমিশনার (ভূমি)। আদেশের কপিতে উল্লেখ করা হয়েছে, ৪২ নম্বর জেএল ভুক্ত কুড়া মৌজার আরএস ৯৬ খতিয়ানের মালিকরা ধারাবাহিকভাবে সর্বশেষ আরএস রেকর্ডভুক্ত হয়েছেন। খতিয়ানে মালিকের নাম সমসের আলী, পিতা- ইমান আলী এর স্থলে জমসের প্রামানিক, পিতা- এলামদি প্রামানিক এবং জিলন নেছা, স্বামী- সমসের প্রামানিক এর স্থলে জিলমন্নেছা বিবি, স্বামী- জোমসের প্রামানিক লিখে করণিক ভুল সংশোধনের আদেশ দেওয়া হয়। পরবর্তীতে গতকাল বুধবার সেই জমি দখলে নেন মৃত জমসের প্রামানিকের ওয়ারিশরা।
মৃত জমসের প্রামানিকের ছেলে মোকবুল হোসেন জানান, ৮০ বছর আগে আমার বাবা নিখোঁজ হন। বাবা নিখোঁজের পর গ্রামের বাসিন্দারা আমার মায়ের উপর অত্যাচার করতে থাকেন। অত্যাচার সইতে না পেরে আমার মা তার বাবার বাড়ী ধোপাকান্দি গ্রামে চলে যান। পরে সেখানে আমার জন্ম হয়। এভাবে কেটে গেল বহু বছর। বেশ কয়েক বছর আগে আমার ছোট ছেলে আমার বাবার জায়গা জমি নিয়ে অনুসন্ধান শুরু করে। এরই ধারাবাহিকতায় বড়কুড়ার এই জমিটির কাগজপত্রে কিছু করণিক ভুল থাকলে সংশোধনে উপজেলা ভূমি অফিসে আবেদন দেওয়া হয়। পরে কাগজপত্র যাচাই বাছাই ও পর্যালোচনা করে করণিক ভুল সংশোধন করে আদেশ জারি করেন সহকারী কমিশনার (ভূমি)। তারই প্রেক্ষিতে আমার ছেলে, ভাতিজা ও নাতীদের সঙ্গে নিয়ে জমিটি দখল করলাম। দুপুর পর্যন্ত আগে থেকে দখলে থাকা কাউকে দেখতে পাইনি। তাদের কাছে জমির কাগজ থাকলে তো আসবে। বাবার স্মৃতি জড়িত এই জমি উদ্ধার করতে পেয়ে খুব আনন্দিত।
জমি দীর্ঘদিন ধরে দখলে থাকা বড়কুড়া গ্রামের মৃত লালচান মণ্ডলের ছেলে আব্দুল লতিফ জানান, এই জমিটি অনেক বার বেচাকেনা হয়েছে। আমিও প্রায় ২০ বছর ধরে জমিটি গ্রামের একজনের কাছ থেকে কিনে আবাদ করছি। হঠাৎ করে মৃত জমসের প্রামানিকের ওয়ারিশরা জমিটি দখলে নিচ্ছে। কোন ভাবেই জমি দখলে নিতে দেবো না৷
সহকারী কমিশনার (ভূমি) আব্দুল্লা আল মামুন জানান, তদন্ত প্রতিবেদন ও কাগজপত্র পর্যালোচনা করে ৪২ নম্বর জেএলভুক্ত কুড়া মৌজার আরএস ৯৬ খতিয়ানের করণিক ভুল সংশোধনের আদেশ দেওয়া হয়েছে। তবে বিবাদী পক্ষ বাধা না দিলে বাদী পক্ষ সেই জমিতে যেতে পারেন। তবে আইনশৃঙ্খলা অবনতি ঘটার সম্ভাবনা থাকলে কোন ভাবেই সেই জমি দখলে নেওয়া যাবে না। বাদী পক্ষ দখল নিতে চাইলে জেলা প্রশাসক কার্যালয়ের সংশ্লিষ্ট দপ্তরে যোগাযোগ করতে পারেন।