বগুড়ার সারিয়াকান্দিতে একাধিক মামলার পরোয়ানাভুক্ত পলাতক আসামি বোহাইল ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি মোঃ ফরহাদ আলী মন্ডল (ফরহাদ সরকার) ও তাঁর ভাই মো. ইব্রাহিম মন্ডলকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। গতকাল ভোররাতে নিজ বাড়ি থেকে তাঁদের গ্রেপ্তার করা হয়। এদিকে ফরহাদ সরকারের গ্রেপ্তারের পর তাঁর বিরুদ্ধে ক্ষমতার দাপটে সাধারণ মানুষের ১,০০০ বিঘারও বেশি জমি জবরদখল ও বিপুল পরিমাণ অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগ তুলে দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) মাধ্যমে তদন্তের দাবি জানিয়েছেন ক্ষুব্ধ গ্রামবাসী। রবিবার দুপুরে তাকে জেল হাজতে প্রেরণ করা হয়েছে।
বগুড়ার সারিয়াকান্দি উপজেলার বোহাইল ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি ও কমপক্ষে ২৯টি মামলার আসামি মোঃ ফরহাদ আলী মন্ডল ওরফে ফরহাদ সরকার এবং তাঁর ভাই মো. ইব্রাহিম মন্ডলকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। তাঁরা উপজেলার উত্তর শংকরপুর গ্রামের মৃত ওসমান আলী মন্ডল (ওসমান সরকার)-এর ছেলে। পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গতকাল ভোররাতে নিজ বাড়ি থেকে পৃথক পৃথক কয়েকটি মামলার ওয়ারেন্টভুক্ত আসামি হওয়ায় পলাতক অবস্থায় দুই ভাইকে গ্রেপ্তার করা হয়। গ্রেপ্তারের পর তাঁদের প্রথমে সারিয়াকান্দি থানায় নেওয়া হয় এবং দুপুরে আদালতে চালান করা হয়।
এলাকাবাসীর মতে, তাঁদের বিরুদ্ধে অত্যাধিক পরিমাণে মামলা থাকায় ঠিক কোন সুনির্দিষ্ট মামলায় তাঁদের গ্রেপ্তার করা হয়েছে, তা তাৎক্ষণিকভাবে নিশ্চিত হওয়া যায়নি। এদিকে ফরহাদ সরকার গ্রেপ্তার হওয়ার পর তাঁর দীর্ঘদিনের অনিয়ম, জমি জবরদখল এবং অবৈধ প্রভাব বিস্তারের বিরুদ্ধে ফুঁসে উঠেছে বোহাইল ইউনিয়নের ভুক্তভোগী বাসিন্দারা। গ্রামবাসীর অভিযোগ, ১৯৬২ সালের রেকর্ড অনুযায়ী ফরহাদ সরকারের পরিবারের মালিকানায় মাত্র ৬ বিঘা জমি ছিল। কিন্তু গত প্রায় ১৭ বছরে রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে নামে-বেনামে তিনি বিপুল পরিমাণ জমি ও অঢেল সম্পদের মালিক হয়েছেন। বর্তমানে তাঁর নিয়ন্ত্রণে প্রায় ১,০০০ বিঘারও বেশি জমি রয়েছে বলে দাবি করছেন স্থানীয়রা। তবে গ্রামবাসীর এই দাবির সপক্ষে তাৎক্ষণিকভাবে স্বাধীন কোনো প্রমাণ বা দাপ্তরিক নথিপত্র পাওয়া যায়নি।
ভুক্তভোগীরা জানান, অতীতে ফরহাদ সরকারের এসব অনিয়ম ও জমি দখলের বিরুদ্ধে কেউ কথা বললে বা প্রতিবাদ করলে তাকে নানাভাবে হয়রানি ও নির্যাতনের শিকার হতে হতো। বর্তমানে তিনি কারাগারে থাকলেও, জামিনে মুক্তি পেয়ে এলাকায় ফিরে আসলে আবারও সাধারণ মানুষের ওপর চড়াও হতে পারেন এবং এলাকায় আতঙ্ক সৃষ্টি করতে পারেন বলে আশঙ্কা করছেন তারা। এতে করে স্থানীয় আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি হওয়ার আশঙ্কাও প্রকাশ করেছেন গ্রামবাসী। এ বিষয়ে বোহাইল ইউনিয়নের ভুক্তভোগী সাধারণ মানুষ দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) মাধ্যমে ফরহাদ সরকারের স্থাবর-অস্থাবর সম্পদের উৎস এবং জমি জমার সঠিক মালিকানা নিরূপণে সুষ্ঠু তদন্তের দাবি জানিয়েছেন। একই সঙ্গে, তদন্ত সাপেক্ষে অবৈধভাবে দখলকৃত জমি প্রকৃত মালিকদের কাছে ফিরিয়ে দেওয়াসহ আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছেন তারা।
সার্বিক বিষয়ে সারিয়াকান্দি থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) আখম আব্দুর রাজ্জাক গ্রেপ্তারের বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, আসামিদের দুপুরে জেল হাজতে প্রেরণ করা হয়েছে।
অভিযুক্ত ফরহাদ সরকার বর্তমানে কারাগারে থাকায় এবং তাঁর পরিবারের কোনো সদস্যের সাথে যোগাযোগ করা সম্ভব না হওয়ায় এ বিষয়ে তাদের কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি। ঠিক কোন মামলায় তাঁদের গ্রেপ্তার করা হয়েছে, সে বিষয়ে নিশ্চিত হয়ে পরবর্তী আপডেটে বিস্তারিত সংবাদ প্রকাশ করা হবে।