পদ্মানদীর অবিরাম ভাঙ্গনে আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছে নদীতীরবর্তী এলাকার বাসিন্দারা। চলমান বর্ষন, নদীর তীব্র স্রোত ও ভাঙ্গনের কারনে প্রতিদিনই বিলীন হচ্ছে নদীতীরবর্তী এলাকার কৃষিজমি। ভাঙ্গন আশংকায় রয়েছে নদীতীরবর্তী বসতবাড়ি, শিক্ষা-প্রতিষ্ঠান এবং কৃষিজমি। ইতিমধ্যে গত কয়েক দশকে থানাপাড়া, গৌরশহরপুর, গোপালপুর, চন্দনশহর, পিরোজপুর, রাওথার নদীগর্ভে তলিয়ে গেছে কয়েক হাজার একর কৃষিজমি বলে জানান নদীতীরবর্তী এলাকাবাসী।
সরেজমিনে গিয়ে নদীতীরবর্তী কয়েকটি এলাকা ঘুরে দেখা যায়, গত এক মাস ধরে পদ্মার ভাঙ্গন তীব্র আকার ধারন করেছে। এর মধ্যে নদীর কিনারা ঘিষে থাকা থানাপাড়া গ্রামের কৃষি জমিগুলো ঝুঁিকপূর্ন রয়েছে। পিরোজপুর গ্রামের একটি প্রাথমিক বিদ্যালয়, টাঙ্গনের একটি প্রাথমিক বিদ্যালয়, গোপালপুর গ্রামের বসতবাড়ি ও মসজিদসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ন সরকারী স্থাপনাগুলো রয়েছে ভাঙ্গনের হুমকিতে । চলমান বর্ষনে চন্দনশহর ও গোপালপুরে নতুন করে নদীতীরবর্তী এলাকায় ভাঙ্গন দেখা দিয়েছে। ফলে পরিবার পরিজনদের চরম অনিশ্চয়তায় দিন পার করছেন ঐসকল নদীতীরবর্তী মানুষজন।
থানাপাড়া গ্রামের কৃষক রানার সাথে কথা বলে জানা যায়, গত কয়েক মাসের ভাঙ্গনে প্রায় একশো একর কৃষি জমি নদী গর্ভে বিলীন হয়ে গেছে। এই গ্রামের অধিকাংশ কৃষক ফসলের জন্য এই জমির উপর নির্ভরশীল। তবে তীব্র ভাঙ্গনের কারনে দিন দিন এই কৃষি জমিগুলো ক্রমেই কমে যাচ্ছে। তাছাড়া এখন যেই জমিগুলো রয়েছে সেগুলোও নদীগর্ভে বিলীন হওয়ার আশঙ্কায় রয়েছে। এতে কৃষকদের আর্থিক ক্ষতির পাশাপাশি খাদ্য উৎপাদনেও নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে বলে জানান তিনি।
ভাঙ্গন প্রতিরোধে পানি উন্নয়ন বোর্ড সাময়িকভাবে ঝুঁকিপূর্ন এলাকা পিরোজপুর, গোপালপুর, সাহাপুরে জিও ব্যগ ফেলছে। তবে নদীতীরবর্তী এলাকাবাসীদের দাবি এসব ব্যবস্থা অস্থায়ীভাবে ভাঙ্গন প্রতিরোধ করলেও দীর্ঘমেয়াদে কোন কার্যকর সমাধান দিতে পারছে না। অনেক ক্ষেত্রে জিও ব্যাগ নদীর প্রবল স্রোতে সরে যাচ্ছে কিংবা ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে ফলে নতুন করে ভাঙ্গন শুরু হচ্ছে জানান চন্দনশহরের বাসিন্দা মাশরুর রহমান। তাই এলাকাবাসী দ্রুতই দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনা গ্রহনে করে দ্রুত টেকসই বাধঁ নির্মানের দাবি জানিয়েছেন।
পানি উন্নয়ন বোর্ডের উপ-বিভাগীয় প্রকৌশলী পার্থ সরকার বলেন ভাঙ্গন প্রবন এলাকাগুলো পর্যবেক্ষনে রাখা হয়েছে এবং পরিস্থিতি মোকাবেলায় প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহনের উদ্যেগ চলমান রয়েছে। তবে স্থানীয়দের প্রত্যাশা ও ভাঙ্গন রোধে দ্রুত স্থায়ী এবং কার্যকর পদক্ষেপ নেয়া হবে।