বৃহস্পতিবার, ৩০ জুলাই ২০২৬, ০২:৩৪ অপরাহ্ন
সর্বশেষ
নোটিশ:
তথ্য ও প্রচার মন্ত্রণালয় নিবন্ধনকৃত অনলাইন নিউজ পোর্টাল দ্য পিপলস্ নিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকে সারা দেশে জেলা প্রতিনিধি নিয়োগ করা হবে। মোবাইল: ০১৭১১-১১৬২৫৭, ০১৭১২-৪০৭২৮২ ' ই-মেইল : thepeopelesnews24@gmail.com

ফের বিশ্ববাজারে বাড়লো জ্বালানি তেলের দাম

অনলাইন ডেস্ক: / ৬ বার দেখা হয়েছে
আপডেট : বৃহস্পতিবার, ৩০ জুলাই, ২০২৬

মধ্যপ্রাচ্যের চরম অস্থিরতা ও বৈশ্বিক সরবরাহ বিঘ্নিত হওয়ার আশঙ্কায় বুধবার লেনদেনের শেষভাগে ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ব্যারেল প্রতি ব্যারেলে ছয় ডলার বেড়ে ৯০ ডলার ৭৪ সেন্টে গিয়ে পৌঁছেছে। অন্যদিকে মার্কিন পশ্চিম টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েট বা ডব্লিউটিআই ক্রুডের দাম ব্যারেল প্রতি সাড়ে ছয় শতাংশের বেশি বেড়ে ৮৪ ডলার ৪৬ সেন্টে ঠেকেছে।

মধ্যপ্রাচ্যে নতুন করে বিমান হামলা শুরু হওয়া এবং মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের অপরিশোধিত তেলের মজুত বহু বছরের সর্বনিম্নে নেমে আসায় বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দামে বড় ধরনের উর্ধগতি দেখা দিয়েছে বলে জানিয়েছে ব্রিটিশ সংবাদ সস্থা রয়টার্স। আন্তর্জাতিক বাজারে এক দিনেই বেঞ্চমার্ক তেলের দাম প্রায় সাত শতাংশ পর্যন্ত বেড়েছে।

সৌদি আরবের তেল স্থাপনায় ড্রোন হামলার জন্য ইরান সমর্থিত গোষ্ঠীগুলোকে দায়ী করে বুধবার যৌথভাবে ইরাকে হামলা চালিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র ও সৌদি আরব। এর কয়েক ঘণ্টা আগেই মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন বাহিনীর ওপর সম্ভাব্য হামলা বানচালের দাবি করে ওয়াশিংটন। বিপরীতে হরমুজ প্রণালিতে বাণিজ্যিক জাহাজ ও জর্ডানে মার্কিন ঘাঁটিতে পাল্টা হামলার দাবি করেছে ইরান। এর পাশাপাশি মিশরের ভূমধ্যসাগরীয় গ্যাস লোডিং পোর্টে বিস্ফোরণ এবং লোহিত সাগরে মার্কিন মালিকানাধীন একটি ট্যাঙ্কারে ড্রোন হামলার খবর পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে।

বাজার বিশ্লেষকদের মতে, চলমান এই ভূ-রাজনৈতিক সংঘাতের কারণে মধ্যপ্রাচ্য থেকে বিশ্ববাজারে তেল সরবরাহে বড় ধরণের ঝুঁকি তৈরি হয়েছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এক সাক্ষাৎকারে ইরানের বিরুদ্ধে আরও সামরিক পদক্ষেপের হুমকি দেওয়ার পর বাজারে তেলের দাম আরও উর্ধ্বমুখী হয়। একই সাথে ওয়াশিংটন ইরানের সাথে সম্পর্কিত নতুন নিষেধাজ্ঞা ঘোষণা করায় এবং হরমুজ প্রণালী দিয়ে জাহাজ চলাচল সীমিত থাকায় সরবরাহ শঙ্কা তীব্র হচ্ছে। বর্তমানে খুব কম সংখ্যক জাহাজ এই প্রণালী অতিক্রম করতে পারছে, যার সরাসরি প্রভাব পড়ছে বৈশ্বিক অর্থনীতিতে।

সংকটের এই ধারাবাহিকতায় যুক্তরাষ্ট্রের জ্বালানি তথ্য সংস্থা জানিয়েছে, সম্প্রতি মার্কিন অপরিশোধিত তেলের মজুত ৭২ লাখ ব্যারেল কমে ৪০ কোটি ৪৫ লাখ ব্যারেলে নেমে এসেছে, যা ২০১৮ সালের পর সর্বনিম্ন।

বিশ্লেষকরা যে ধরণের পতনের পূর্বাভাস দিয়েছিলেন, এটি তার চেয়েও অনেক বেশি। এছাড়া লোহিত সাগরে হুতি বিদ্রোহীদের তৎপরতা এবং ওপেক প্লাস কর্তৃক উৎপাদন বৃদ্ধি সাময়িকভাবে স্থগিত রাখার ইঙ্গিত বিশ্ববাজারে তেলের দর বৃদ্ধিতে বাড়তি জ্বালানি জোগাচ্ছে। আন্তর্জাতিক ব্যাংকিং বিশেষজ্ঞ ও বাজার বিশ্লেষকরা ধারণা করছেন, মধ্যপ্রাচ্যের এ উত্তপ্ত পরিস্থিতি বজায় থাকলে নিকট ভবিষ্যতে ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ব্যারেল প্রতি ৮০ থেকে ১০০ ডলারের চড়া সীমার মধ্যেই ওঠানামা করবে।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই বিভাগের আরও খবর