সিরাজগঞ্জের উল্লাপাড়ায় জাতীয় রবীন্দ্রসংগীত সম্মিলন পরিষদ উল্লাপাড়া শাখার উদ্যোগে ‘বর্ষা ও রবীন্দ্রসংগীত’ অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়েছে। বর্ষার আবহ, রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের কালজয়ী গান ও সাংস্কৃতিক পরিবেশনায় মুখর হয়ে ওঠে অনুষ্ঠানের আয়োজনস্থল।
সোমবার সন্ধ্যা ৭টায় উল্লাপাড়া পৌরসভার পৌর হলরুমে এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। জাতীয় রবীন্দ্রসংগীত সম্মিলন পরিষদ উল্লাপাড়া শাখার সভাপতি সরোজ কুমার সরকার নান্টুর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে স্থানীয় সাংস্কৃতিকপ্রেমী, শিক্ষক, বিভিন্ন শ্রেণি পেশার মানুষ ও সংগঠনের নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।
অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন উল্লাপাড়া পৌরসভার সাবেক মেয়র বেলাল হোসেন, পৌর নির্বাহী কর্মকর্তা আশরাফুল ইসলাম ভূঁইয়া, প্রধান শিক্ষক আব্দুল মজিদ, চিত্ররঞ্জন, জাতীয় রবীন্দ্রসংগীত সম্মিলন পরিষদের যুগ্ম আহ্বায়ক অশোক কুমার রায়সহ অন্যরা।
অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন কাজী শওকত।
আয়োজকরা জানান, বর্ষা ও রবীন্দ্রনাথের সৃষ্টিশীলতার মধ্যে রয়েছে এক গভীর যোগসূত্র। বর্ষার প্রকৃতি, মেঘ বৃষ্টি ও বাঙালির চিরায়ত আবেগ রবীন্দ্রনাথের অসংখ্য গান ও কবিতায় ফুটে উঠেছে। সেই চিরন্তন সৃষ্টিকে নতুন প্রজন্মের কাছে তুলে ধরা এবং স্থানীয় সাংস্কৃতিক চর্চাকে আরও বেগবান করার লক্ষ্যেই এ আয়োজন করা হয়েছে।
অনুষ্ঠানে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের বর্ষাকেন্দ্রিক বিভিন্ন গান পরিবেশন করা হয়। সংগীত পরিবেশনার মধ্য দিয়ে শিল্পীরা বর্ষার সৌন্দর্য, প্রকৃতির রূপ ও বাঙালির আবেগকে তুলে ধরেন। মনোমুগ্ধকর সংগীত পরিবেশনা উপভোগ করেন উপস্থিত দর্শক শ্রোতারা।
বক্তারা বলেন, একটি জাতির নিজস্ব সংস্কৃতি ও ঐতিহ্য ধরে রাখতে সাংস্কৃতিক চর্চার কোনো বিকল্প নেই। রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের সাহিত্য, সংগীত ও দর্শন বাঙালির সাংস্কৃতিক পরিচয়ের গুরুত্বপূর্ণ অংশ। নিয়মিত এ ধরনের অনুষ্ঠান আয়োজনের মাধ্যমে নতুন প্রজন্মের মধ্যে রবীন্দ্রসংগীত ও শুদ্ধ সংস্কৃতির প্রতি আগ্রহ তৈরি হবে।
তারা আরও বলেন, উল্লাপাড়ায় সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডকে আরও বিস্তৃত করতে সম্মিলিতভাবে কাজ করতে হবে। বিশেষ করে তরুণ প্রজন্মকে সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডে সম্পৃক্ত করা গেলে সমাজে ইতিবাচক পরিবর্তন আনা সম্ভব।
অনুষ্ঠানটি স্থানীয় সাংস্কৃতিক অঙ্গনে ব্যাপক সাড়া ফেলে। রবীন্দ্রসংগীতের সুরে বর্ষার আবহে একটি মনোরম সন্ধ্যা উপভোগ করেন উপস্থিত সবাই।