ফেসবুকে ‘সুমাইয়া আক্তার’ নামে ভুয়া পরিচয়ে ইতালি প্রবাসী এক ব্যক্তির সঙ্গে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে তোলার পর মোবাইল ফোনে ‘বিয়ে’ করে প্রায় চার মাস স্বামী-স্ত্রীর মতো সম্পর্ক বজায় রাখার অভিযোগ উঠেছে নাটোরের লালপুরের তরুণ শান্ত আলীর বিরুদ্ধে।
বিভিন্ন অজুহাতে ওই প্রবাসীর কাছ থেকে তিন লাখ টাকার বেশি হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগে শান্ত আলী ও তার বাবা শহিদুল ইসলামকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। বুধবার সকালে উপজেলার গণ্ডবিল গ্রামে অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেফতার করা হয়। এ সময় প্রতারণায় ব্যবহৃত দুটি মুঠোফোন জব্দ করা হয়েছে।
পুলিশ জানায়, ঢাকার ৪৮ বছর বয়সী ওই ব্যক্তি দীর্ঘদিন ধরে ইতালিতে বসবাস করছেন। প্রায় ছয় মাস আগে ‘সুমাইয়া আক্তার’ নামে একটি ভুয়া ফেসবুক আইডি থেকে তার সঙ্গে যোগাযোগ শুরু হয়। একপর্যায়ে তাদের মধ্যে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। প্রায় চার মাস আগে মোবাইল ফোনে ‘বিয়ে’ করে তারা স্বামী-স্ত্রীর মতো সম্পর্ক বজায় রাখছিলেন।
পুলিশের ভাষ্য, এ সম্পর্কের সুযোগ নিয়ে বিভিন্ন অজুহাতে ওই প্রবাসীর কাছ থেকে তিন লাখ টাকার বেশি নেওয়া হয়। প্রতারণার বিষয়টি বিশ্বাসযোগ্য করে তুলতে শান্ত আলী তার বাবাকে ‘শ্বশুর’ পরিচয়ে ওই প্রবাসীর সঙ্গে কথা বলাতেন বলেও জানিয়েছে পুলিশ।
গ্রেফতারের পর থানায় জিজ্ঞাসাবাদের সময় শান্ত আলীর মুঠোফোনে ওই প্রবাসী ফোন করেন। তখন পুলিশ তাকে জানায়, এত দিন যার সঙ্গে তিনি প্রেম ও বিয়ের সম্পর্ক বজায় রেখেছেন বলে মনে করছিলেন, সেই ‘সুমাইয়া’ আসলে একজন পুরুষ। বিষয়টি জানতে পেরে ওই ব্যক্তি পুলিশের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানান এবং আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার অনুরোধ করেন।
লালপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. শফিকুল ইসলাম পলাশ বলেন, শান্ত আলী ও তার বাবা শহিদুল ইসলাম ফেসবুক, হোয়াটসঅ্যাপ, মেসেঞ্জার ও ইমো আইডি হ্যাকিং এবং প্রতারণার সঙ্গে জড়িত একটি চক্রের সদস্য। এ ঘটনায় তাদের বিরুদ্ধে সাইবার সুরক্ষা আইনে মামলা হয়েছে। বুধবার তাদের আদালতে পাঠানো হয়েছে।