রাজশাহীর মোহনপুরে জমিতে জোরপূর্বক পুকুর খননকে কেন্দ্র করে এক তরুণ কৃষককে ভেকু মেশিনের নিচে ফেলে হত্যার ঘটনায় দায়ের করা মামলার আসামি বিপ্লব হোসেনকে গ্রেফতার করেছে র্যাব।
বুধবার (৩১ ডিসেম্বর) রাত সোয়া ১২টায় ফরিদপুর জেলার বোয়ালমারী থানাধীন ওয়াপদা বাজার এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেফতার করে র্যাব-৫, রাজশাহী ও র্যাব-১০, ফরিদপুরের যৌথ বাহীনির সদস্যরা।
বৃহস্পতিবার বিকালে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন র্যাব-৫, রাজশাহীর মোল্লাপাড়া ক্যাম্পের মুখপাত্র উপ-পরিচালক মেজর আসিফ আল-রাজেক।
তিনি জানান, বুধবার গভীর রাতে গোপন সংবাদের ফরিদপুর জেলার বোয়ালমারী থানাধীন ওয়াপদা বাজার এলাকায় অভিযান চালিয়ে বিপ্লব হোসেনকে গ্রেফতার করা হয়। তিনি ওই হত্যা মামলার এজাহারনামীয় আসামি। জিজ্ঞাসাবাদে ঘটনার সঙ্গে নিজের সম্পৃক্ততার কথা স্বীকার করেছেন তিনি পরে তাকে রাজশাহী জেলার মোহনপুর থানায় হস্তান্তর করা হয়।
মামলার বরাত দিয়ে আরও জানান, নিহত আহমেদ জুবায়ের (২২) রাজশাহী জেলার মোহনপুর থানাধীন বড় পালশা গ্রামের কৃষক রফিকুল ইসলামের ছেলে। গত (১৭ ডিসেম্বর ২০২৫) রাত সাড়ে ৮টার দিকে মসজিদের মাইকে জোরপূর্বক জমিতে পুকুর খননের ঘোষণা দেওয়া হলে রফিকুল ইসলাম ও তার ছেলে আহমেদ জুবায়ের ঘটনাস্থলে যান।
ওই দিন রাত পৌনে ৯টার দিকে তারা মোহনপুর থানাধীন পালশা পূর্ব বিল এলাকায় নিজেদের জমিতে গিয়ে দেখতে পান, কয়েকজন ব্যক্তি ভেকু মেশিন দিয়ে তাদের জমিসহ আশপাশের জমিতে পুকুর খনন করছে। এ সময় জমিতে পুকুর খননের কারণ জানতে চাইলে অভিযুক্তরা তা উপেক্ষা করে কাজ চালিয়ে যেতে থাকে। একপর্যায়ে আহমেদ জুবায়ের পুকুর খননে বাধা দিলে অভিযুক্তরা ক্ষিপ্ত হয়ে তাকে ভেকু মেশিনের সাহায্যে টেনে চাকার সামনে ফেলে দেয় এবং তার শরীরের ওপর দিয়ে মেশিন চালিয়ে গুরুতর জখম করে।
পরে স্থানীয়দের সহায়তায় গুরুতর আহত অবস্থায় আহমেদ জুবায়েরকে মোহনপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
এ ঘটনায় নিহতের পিতা রফিকুল ইসলাম বাদী হয়ে মোহনপুর থানায় ৭ জনের নাম উল্লেখ করে এবং অজ্ঞাতনামা আরও ১০ থেকে ১২ জনকে আসামি করে একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। মামলা নং- ১১, তাং-১৮ ডিসেম্বর ২০২৫)। ওই মামলায় অবশেষে বুধবার (৩১ ডিসেম্বর) রাত সোয়া ১২টায় ফরিদপুর জেলার বোয়ালমারী থানাধীন ওয়াপদা বাজার এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেফতার করা হয়। #