নিরাপদ ও আধুনিক কৃষি পদ্ধতি অনুসরণ করে দিনাজপুরের খানসামা উপজেলায় সুপার গ্রিন জাতের লাউ চাষে সফলতার মুখ দেখেছেন বাশুলী গ্রামের কৃষক আমিনুল ইসলাম। কৃষি বিভাগের পরামর্শ অনুযায়ী জৈব ও পরিবেশবান্ধব প্রযুক্তি ব্যবহার করে কম খরচে বেশি লাভ পাওয়ায় তাঁর এই উদ্যোগ এলাকায় অন্য কৃষকদের মাঝেও আগ্রহ সৃষ্টি করেছে।
শুক্রবার (৩০ জানুয়ারি) সকালে সরেজমিনে বাসুলী গ্রামে গিয়ে দেখা যায়, লতানো সবুজে ঘেরা বিস্তীর্ণ লাউ ক্ষেত। মাচা জুড়ে ঝুলছে ডজন ডজন লাউ। ক্ষেত থেকেই ফসল সংগ্রহে ব্যস্ত সময় পার করছেন চাষি ও শ্রমিকরা। পাইকাররা সরাসরি জমি থেকে লাউ সংগ্রহ করায় বাজারজাত নিয়ে কৃষকদের দুশ্চিন্তাও অনেকটাই কমেছে।
উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা যায়, কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের আওতায় বাস্তবায়নাধীন দিনাজপুর অঞ্চল টেকসই কৃষি উন্নয়ন প্রকল্প (১ম সংশোধিত)–এর অংশ হিসেবে খানসামা উপজেলায় নিরাপদ ও জৈব পদ্ধতিতে সবজি উৎপাদনে কৃষকদের উদ্বুদ্ধ করা হচ্ছে। এরই ধারাবাহিকতায় প্রকল্পের সহায়তায় বাশুলী গ্রামে ২০ শতক জমিতে জৈব সবজি উৎপাদনের একটি প্রদর্শনী স্থাপন করেন কৃষক আমিনুল ইসলাম। পরবর্তীতে নিজ আগ্রহে তিনি আরও ৮০ শতক জমিতে সুপার গ্রিন জাতের লাউ চাষ সম্প্রসারণ করেন। চাষের ক্ষেত্রে তিনি ফেরোমন ট্র্যাপ, হলুদ আঠালো ফাঁদসহ বিভিন্ন জৈব বালাই দমন পদ্ধতি ব্যবহার করেন। ফলে ক্ষতিকর পোকামাকড়ের আক্রমণ কমেছে এবং উৎপাদিত লাউয়ের মান ভালো হওয়ায় বাজারে চাহিদাও বেড়েছে।

কৃষক আমিনুল ইসলাম জানান, চলতি মৌসুমে তিনি মোট ১০০ শতক জমিতে সুপার গ্রিন জাতের লাউ চাষ করেছেন। এর মধ্যে ২০ শতক জমিতে কৃষি বিভাগের সহায়তা পেয়েছেন। বীজ, মাচা তৈরি, জৈব সার, শ্রমিক ও নিয়মিত পরিচর্যা বাবদ তাঁর মোট ব্যয় হয়েছে আনুমানিক ৫০ থেকে ৫৫ হাজার টাকা।
তিনি আরও জানান, লাউ রোপণের দুই থেকে আড়াই মাস পর ফসল সংগ্রহ শুরু করে ইতোমধ্যে প্রায় দেড় লাখ টাকার লাউ বিক্রি করেছেন। জমিতে এখনও পর্যাপ্ত পরিমাণ লাউ রয়েছে। আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে আরও আনুমানিক ২ থেকে ৩ লাখ টাকার লাউ বিক্রি করা সম্ভব হবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
আমিনুল ইসলাম আরও বলেন, কৃষি অফিসের পরামর্শ অনুযায়ী জৈব সার ও পরিবেশবান্ধব বালাই দমন পদ্ধতি ব্যবহার করেছি। সুপার গ্রিন জাতের লাউয়ের ফলন ভালো হওয়ায় বাজারেও ভালো দাম পাওয়া যাচ্ছে।”
তাঁর এই সাফল্য দেখে এলাকার অন্যান্য কৃষকরাও নিরাপদ পদ্ধতিতে লাউ চাষে আগ্রহ প্রকাশ করছেন।
স্থানীয় কৃষক আব্দুস সালাম বলেন, অল্প খরচ ও পরিশ্রমে যদি এত লাভ হয়, তাহলে লাউ চাষ অবশ্যই লাভজনক। কৃষি অফিসের পরামর্শ নিয়ে আমরাও এই জাতের লাউ চাষ করব।”
উপজেলা কৃষি অফিসার কৃষিবিদ ইয়াসমিন আক্তার বলেন,দিনাজপুর অঞ্চল টেকসই কৃষি উন্নয়ন প্রকল্পের আওতায় কৃষি বিভাগ নিরাপদ ও জৈব পদ্ধতিতে সবজি চাষে কৃষকদের উদ্বুদ্ধ করছে। প্রদর্শনীর মাধ্যমে আধুনিক ও পরিবেশবান্ধব প্রযুক্তি ছড়িয়ে দেওয়া হচ্ছে। কৃষক আমিনুল ইসলাম উচ্চ ফলনশীল ও রোগসহনশীল সুপার গ্রিন জাতের লাউ চাষ করে যে সফলতা পেয়েছেন, তা অন্যান্য কৃষকের জন্য অনুকরণীয়। নিরাপদ সবজি উৎপাদনে কৃষি বিভাগ সবসময় কৃষকদের পাশে রয়েছে।”