আসন্ন ঈদে ঢাকা ত্যাগ করার আগে নগদ অর্থ, স্বর্ণালঙ্কার বা গুরুত্বপূর্ণ দলিলাদি অরক্ষিত অবস্থায় না রেখে আত্মীয়-স্বজনদের বাসায় রেখে যাওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন ঢাকা মহানগর পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কমিশনার মো. সরওয়ার।
একই সঙ্গে ঢাকায় কারো স্বজন না থাকলে মূল্যবান সম্পদ থানায় রেখে যাওয়ার পরামর্শও দেন তিনি।
রবিবার (১৫মার্চ) রাজধানীর মিন্টুরোডে ডিএমপি মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত ‘ঘরমুখো মানুষের ঈদযাত্রা ও ঈদে রাজধানী ঢাকার নিরাপত্তা পরিকল্পনা সংক্রান্তে’ এক সংবাদ সন্মেলনে এসব জানান ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ (ডিএমপি) কমিশনার (ভারপ্রাপ্ত) মো.সরওয়ার।
মো.সরওয়ার বলেন, আসন্ন ঈদ উপলক্ষে নগরবাসীর ঈদ যাত্রা সুগম করা এবং ফাঁকা রাজধানীর নিরাপত্তার জন্য প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি ইতিমধ্যেই শুরু হয়ে গেছে। রাজধানীবাসী যেন ‘নিরাপদে ও নির্ভাবনায়’ ঈদ উদযাপন করতে পারেন সেই লক্ষ্যে ডিএমপি ‘পর্যাপ্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থা’ হাতে নিয়েছে।
এসময় নগরবাসীর উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, নগদ অর্থ স্বর্ণালংকার বা গুরুত্বপূর্ণ দলিল অরক্ষিত অবস্থায় রাখবেন না। এগুলো আপনার আত্মীয়স্বজনের বাসায় রেখে যাবেন।
ঢাকায় যাদের স্বজন নেই তাদের বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, প্রয়োজনে আমাদের পুলিশের সাহায্য নিবে অসুবিধা কি, এ ক্ষেত্রে থানায় রাখতে পারে।
ঈদে ফাঁকা ঢাকার নিরাপত্তার বিষয়ে কমিশনার বলেন, এ সময় অপরাধের যেন কোন সুযোগ সুবিধা না নিতে পারে সেজন্য টহল কার্যক্রম জোরদারসহ চেকপোস্টের কার্যক্রম বৃদ্ধি করা হয়েছে। আবাসিক এলাকা, বাণিজ্যিক এলাকা, কূটনৈতিক এলাকায় বিশেষ নজরদারী থাকবে। ডিএমপি সীমিত সম্পদ বা জনবলের সর্বোত্তম ব্যবহারের মাধ্যমে নগরবাসীর সেবা দিতে বদ্ধ পরিকর।
এসময় অপরাধ নিয়ন্ত্রণে সাধারণ মানুষকে পুলিশকে সহযোগিতা করার আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।
নগরবাসীকে পরামর্শ দিয়ে তিনি বলেন, আপনাদের বাসা বা ফ্ল্যাটে ক্লোজ সার্কিট ক্যামেরা নতুন স্থাপন করার জন্য অনুরোধ করছি। যেগুলা পুরাতন আছে সেগুলাকে সচল করার ব্যবস্থা করতে হবে। বাসা বা ফ্ল্যাটবাড়ি ছাড়ার আগে দরজা জানালা ঠিকমত বন্ধ করা হয়েছে কিনা এবং ঠিকমতো লক করা হয়েছে কি না দেখার অনুরোধ জানিয়েছেন তিনি।
একইসঙ্গে বাসাবাড়ির আশেপাশে রাতের বেলায় পর্যাপ্ত আলোর ব্যবস্থা রাখার কথা বলেন তিনি।
তিনি বলেন, বাসা ছাড়ার আগে বিদ্যুৎ, গ্যাস ও পানির সংযোগ চেক করে যেতে হবে। ছুটির সময়ে পাড়া-মহল্লায় কোন সন্দেহভাজন লোকের গতিবিধি পর্যবেক্ষণ করলে তাৎক্ষণিক পুলিশকে জানাতে অনুরোধ করেন তিনি।
এ সময় রমজান মাসে বইমেলা, জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশন, মধ্যপ্রাচ্যে চলমান উত্তেজনার প্রেক্ষিতে কূটনৈতিক এলাকা এবং বাংলাদেশ পাকিস্তান ক্রিকেট ম্যাচের নিরাপত্তায় বাড়তি তৎপরতার কথা তুলে ধরেন ডিএমপির ভারপ্রাপ্ত কমিশনার। এর বাইরে রাতে ছিনতাইকারী, মাদক ও কিশোর গ্যাং নিয়ন্ত্রণে অপরাধ প্রবণ এলাকায় নির্মিত ব্লক রেইড পরিচালনার মত বিশেষ অভিযানগুলো চলমান রয়েছে বলেও জানান তিনি।
নগরবাসীকে বাসায় গিয়ে ইফতার করার সুযোগ করে দিতে ট্রাফিক পুলিশের নিয়মিত মোতায়নের পাশাপাশি প্রায় ছয় শতাধিক অতিরিক্ত ট্রাফিক পুলিশ মোতায়ন করা হয়েছে তিনি বলেন, আইন শৃঙ্খলা রক্ষা এবং সর্বসাধারণের যাতায়াতের সুবিধার্থে রাজধানীর চারটি বাস টার্মিনাল, একটি লঞ্চ টার্মিনাল, রেলওয়ে স্টেশন ঘিরে নেয়া হয়েছে পর্যাপ্ত নিরাপত্তা পরিকল্পনা। যাত্রী হয়রাণী বন্ধ এবং মাত্রাতিরক্ত বা অতিরিক্ত ভাড়া আদায় রোধে ইউনিফর্ম পুলিশের পাশাপাশি মোতায়ন থাকবে গোয়েন্দা পুলিশ। এছাড়া, লক্কর ঝক্কর গাড়ি যেন রাস্তায় নামতে না পারে সেজন্য ইতিমধ্যেই ট্রাফিক বিভাগের সহায়তায় ডিএমপির ম্যাজিস্ট্রেটরা ভ্রাম্যমান আদালত পরিচালনা করা হচ্ছে।
ঢাকার বহির্গমন সড়কগুলোর মধ্যে ঢাকা আব্দুল্লাহপুর, গুলিস্থান থেকে সাইনবোর্ড, আমিনবাজার, মিরপুর রোড, ফুলবাড়িয়া থেকে তাঁতিবাজার হয়ে বাবুবাজার ব্রিজ বা গুলিস্থান থেকে বুড়িগঙ্গা ব্রিজ, মোহাম্মদপুর বসিলা ব্রিজ সড়ক এবং ফুলবাড়িয়া থেকে সদরঘাট টার্মিনাল এলাকাগুলো প্রয়োজন না থাকলে এড়িয়ে চলার মরামর্শ দেন তিনি।
তিনি বলেন, ঢাকার বড় বড় বিপনী বিতানগুলোতে অতিরিক্ত প্রায় এক হাজার পুলিশ সদস্য সকাল থেকে গভীর রাত পর্যন্ত দায়িত্ব পালন করছে। ছিনতাই, অজ্ঞান, পার্টি মলম পার্টি, পকেটমারদের তৎপরতা রোধে পর্যাপ্ত সংখ্যক অতিরিক্ত পুলিশ ছাড়াও থানা পুলিশ এবং ফাড়ির পুলিশ মোতায়ন আছে। ফাঁকা ঢাকায় রেসিং বা ওভার স্পিডিং রোধ করতে ঈদের দিন থেকে পরবর্তী কয়েকদিন পূর্বাচল এক্সপ্রেসওয়ে, বনানী থেকে আব্দুল্লাহপুর এবং গুলশান এলাকায় ভ্রাম্যমান আদালত পরিচালনা করা হবে বলেও জানান তিনি।
এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, আমাদের ক্রাইম প্রবণ এলাকায় নিয়মিতভাবে আমরা অভিযান পরিচালনা করছি। ঢাকা মহানগরে প্রতিদিন তিনশর উপরে মোটরসাইকেল এবং গাড়ি যোগে মোবাইল পেট্রোল করতেছে। রাতের বেলা সত্তরের উপরে চেকপোস্ট আছে। আমাদের ফুট পেট্রোল অজস্র আছে। অফিসার ও ফোর্স মোতায়ন করে এলাকাগুলো কন্ট্রোল করা হচ্ছে।