প্রতিদিনই যাতায়াতের পথে নানা ধরণের গতিরোধক (স্পিড ব্রেকার) অতিক্রম করতে হয়। তবে কখনো কি ভেবে দেখেছেন, কেন এগুলোর অনেকগুলোতে নির্দিষ্টভাবে হলুদ ও কালো রঙের ডোরাকাটা নকশায় আঁকা হয়? আপাতদৃষ্টিতে সাধারণ মনে হলেও এই রঙের নেপথ্যে রয়েছে ড্রাইভারদের নিরাপত্তা-সড়ক দুর্ঘটনা কমানোর বৈজ্ঞানিক কারণ।
মূলত রাস্তা বা পিচ ঢালাইয়ের রং কালো হওয়ার কারণে রঙহীন স্পিড ব্রেকারগুলো খালি চোখে চট করে ধরা পড়ে না। ফলে দ্রুত গতিতে আসা যানবাহন হঠাৎ গতিরোধকে ধাক্কা খেয়ে মারাত্মক দুর্ঘটনার মুখে পড়তে পারে। চালকের দৃষ্টিভঙ্গিতে যেন এটি সহজে চোখে পড়ে, সে জন্যই বৈপরীত্য তৈরি করতে হলুদ এবং কালো রঙ ব্যবহার করা হয়। দিনে কিংবা রাতের আলোয় এই তীব্র বিপরীত রঙ দূর থেকেই চালকের দৃষ্টি আকর্ষণ করতে সক্ষম।
রাতের বেলায় দূর থেকে স্পষ্ট দেখার জন্য অনেক সময় এতে বিশেষ ধরনের প্রতিফলক (লুমিনাস পেইন্ট) ব্যবহার করা হয়, যাতে গাড়ির হেডলাইটের আলো পড়লেই তা দ্যুতি ছড়ায়। দূর থেকে স্পিড ব্রেকার চিহ্নিত করতে পারলে চালক সজোরে ব্রেক না কষে ধীরে ধীরে গতি কমানোর পর্যাপ্ত সুযোগ পান। এটি পেছনের গাড়ির সাথে ধাক্কা লাগা, যাত্রীদের আঘাত পাওয়া বা গাড়ির ক্ষতির ঝুঁকি অনেকাংশে কমিয়ে আনে।
আন্তর্জাতিক নিয়মের পাশাপাশি ভারতীয় সড়ক কংগ্রেসের (আইআরসি) নীতিমালাতেও স্পিড ব্রেকারে নির্দিষ্ট রং ও সতর্কতামূলক সংকেত দেওয়া বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। যথাযথ চিহ্নিতকরণ ছাড়া কোনো গতিরোধক তৈরি করা বেআইনি। পাশাপাশি কোনো আবাসিক এলাকায় হুট করে কেউ নিজ দায়িত্বে স্পিড ব্রেকার তৈরি করতে পারেন না; এজন্য ট্রাফিক কর্তৃপক্ষের অনুমোদন নেওয়া বাধ্যতামূলক।
সূত্র: হিন্দুস্তান টাইমস