শনিবার, ২৯ অগাস্ট ২০২৬, ০৬:০৪ অপরাহ্ন
সর্বশেষ
গাজীপুর থেকে নিখোঁজ, কালিয়াকৈরে অর্ধগলিত মরদেহ উদ্ধার জয়পুরহাটে ৮৩ প্রাথমিকে নেই প্রধান শিক্ষক সিরাজগঞ্জ দায়রা জজ আদালতে এপিপি পদে নিয়োগ পেলেন এ্যাড. গোলাম হাফিজ কিরন  কালিয়াকৈরে মিথ্যা মানহানির মামলা প্রত্যাহার ও প্রধান আসামি গ্রেপ্তারের দাবিতে সংবাদ সম্মেলন ৯/১১ ঘটনার ২৫ বছর: ‘সন্ত্রাসবাদী হামলা’ না লিখতে সাংবাদিকদের নির্দেশ সিবিসির ফুরিয়ে আসছে মার্কিন অস্ত্রের মজুত, চীন-রাশিয়াকে নিয়ে চরম উদ্বেগে যুক্তরাষ্ট্র ইনজুরি টাইমে জোড়া গোলে হার এড়াল পিএসজি বন্যায় ভেসে আসা মরদেহ শনাক্তে হিমশিম খাচ্ছে নেপাল কমলো স্বর্ণের দাম, ভরিতে কত? হাসনাত আব্দুল্লাহর বক্তব্যের প্রতিবাদে ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় বিক্ষোভ, এনসিপির কর্মসূচি প্রতিহতের ঘোষণা
নোটিশ:
তথ্য ও প্রচার মন্ত্রণালয় নিবন্ধনকৃত অনলাইন নিউজ পোর্টাল দ্য পিপলস্ নিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকে সারা দেশে জেলা প্রতিনিধি নিয়োগ করা হবে। মোবাইল: ০১৭১১-১১৬২৫৭, ০১৭১২-৪০৭২৮২ ' ই-মেইল : thepeopelesnews24@gmail.com

জয়পুরহাটে ৮৩ প্রাথমিকে নেই প্রধান শিক্ষক

জয়পুরহাট প্রতিনিধি: / ১ বার দেখা হয়েছে
আপডেট : শনিবার, ২৯ আগস্ট, ২০২৬
-ফাইল ছবি।

জয়পুরহাটে ৮৩ প্রাথমিকে নেই প্রধান শিক্ষক। জেলায় দীর্ঘদিন ধরে ৮৩টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে প্রধান শিক্ষকের পদ শূন্য রয়েছে। এর ফলে ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষকের দায়িত্ব সামলাতে গিয়ে অতিরিক্ত চাপের মুখে রয়েছেন সহকারী শিক্ষকরা। এতে করে বিদ্যালয়ের প্রশাসনিক কার্যক্রম অনেকটাই ব্যাহত হচ্ছে ,পাশাপাশি নিয়মিত পাঠদানেও পড়ছে এর প্রভাব- এমন অভিযোগ মিলেছে শিক্ষক ও অভিভাবকদের পক্ষ থেকে। তবে জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তার দাবি, প্রধান শিক্ষক না থাকলেও বিদ্যালয়গুলোর পাঠদান ও প্রশাসনিক কার্যক্রম চলছে স্বাভাবিকভাবেই ।

সরেজমিন দেখা গেছে, জেলার প্রত্যন্ত অঞ্চলে অবস্থিত নন্দিতগ্রাম সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়। এখানে প্রধান শিক্ষক ও সহকারী শিক্ষক হিসেবে ৭ জনের পদ থাকলেও ১জন ভারপ্রাপ্ত ও ৩ জন সহকারী শিক্ষক দিয়েই চলছে বিদ্যালয়ের পাঠদান কার্যক্রম। ৭ জন শিক্ষকের মধ্যে নেই ৩জনই । এতে একদিকে ব্যাহত হচ্ছে বিদ্যালয়ের পাঠদান, অন্যদিকে ব্যাহত হচ্ছে প্রশাসনিক কার্যক্রম। ফলে এর প্রভাব পড়েছে শিক্ষার্থীদের পড়াশোনায়।

‘‘অল্প কিছুদিনের মধ্যেই সরকার শিক্ষক নিয়োগ দেবে তখন আর এসব সংকট থাকবে না। তবে কিছু স্কুলে শিক্ষক সংকট থাকলেও ছেলে-মেয়েদের পড়াশোনার কোনো ক্ষতি হচ্ছে না। আমরা নিয়মিত এসব বিদ্যালয় পরিদর্শন করে থাকি। যদি কোনো প্রতিষ্ঠানে সমস্যা থাকে সেগুলোও সমাধানের চেষ্টা করছি। আশা করি শিক্ষক সংকট থাকলেও পড়াশোনা কিংবা প্রশাসনিক কাজ ব্যাহত হবে না’’।

সোঁনাকুল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ঠিক একই চিত্র । এখানে প্রধান শিক্ষক সহ ৬জন শিক্ষকের পদ থাকলেও ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক সহ শিক্ষক আছেন ৪জন। নেই ২জন শিক্ষক। শুধু যে নন্দিতগ্রাম বা সোঁনাকুল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় তা নয়, এমন চিত্র রয়েছে জেলাজুড়ে।

জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিস সূত্র বলছেন, জেলায় ২৫১টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের মধ্যে ৮৩টি বিদ্যালয়ে দীর্ঘদিন ধরে প্রধান শিক্ষকের পদ শূন্য রয়েছে। কোথাও সহকারী শিক্ষককে ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষকের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে, আবার কোনো কোনো বিদ্যালয়ে জ্যেষ্ঠ শিক্ষককে পালন করতে হচ্ছে অতিরিক্ত দায়িত্ব ।

‘‘আমরা চেষ্টা করছি যেন ছেলে-মেয়েদের পাঠদানে কোনো ধরনের ক্ষতি না হয়। আমাদের যে জনবল আছে তা দিয়েই সর্বোচ্চ চেষ্টা করে যাচ্ছি। আমরা শিক্ষকরা একাধিক ক্লাস নিচ্ছি। তবে শিক্ষক নিয়োগ হলে সংকট আর থাকবে না’’।

নন্দিতগ্রাম সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ৫ম শ্রেণির শিক্ষার্থী মায়া, সুরভী ও আজেনা বলেন, দীর্ঘদিন ধরে আমাদের বিদ্যালয়ে প্রধান শিক্ষক নেই। এ কারণে মাঝেমধ্যেই ঠিকমতো ক্লাস হয় না। এতে আমাদের পড়ালেখার ক্ষতি হয়। আমরা চাই আমাদের স্কুলে শিক্ষক দেওয়া হোক।

শিক্ষার্থীদের অভিভাবক মো: আমিনুল ইসলাম জানান, স্কুলে শিক্ষক সংকটের কারণে ছেলে-মেয়েদের ঠিকমতো পড়াশোনা হয় না। এ অবস্থায় আমরা অভিভাবকরা খুবি চিন্তিত। শিক্ষক কম থাকায় ১জন শিক্ষককে অনেক ক্লাস নিতে হয়। এতে বাচ্চাদের পড়ালেখায় ঘাটতি থেকে যাচ্ছে।

নন্দিতগ্রাম সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক মো: রাজু মিয়া বলেন, আমাদের বিদ্যালয়ে ৩ জন শিক্ষক সংকট,এ নিয়েই আমরা শতভাগ পড়াশোনার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি।

‘‘আমাদের বিদ্যালয়ে দীর্ঘদিন ধরে প্রধান শিক্ষক নেই। এ কারণে মাঝেমধ্যেই ঠিকমতো ক্লাস হয় না। এতে করে আমাদের পড়াশোনার ক্ষতি হয়। আমাদের স্কুলে শিক্ষক দেওয়া হোক এটাই আমরা চাই’’।

সোঁনাকুল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক মো: রেজাউল করিম বলেন, আমরা চেষ্টা করছি ছেলে-মেয়েদের পড়াশোনায় যেন কোনো ধরনের ক্ষতি না হয়। আমাদের যা জনবল আছে তাই দিয়ে সর্বোচ্চ চেষ্টা করছি। আমরা শিক্ষকরা একাধিক ক্লাস নিচ্ছি। তবে শিক্ষক নিয়োগ হলে এ সংকট আর থাকবে না।

জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো: জেছের আলী বলেন, অল্প কিছুদিনের মধ্যেই সরকার শিক্ষক নিয়োগ দেবে তখন আর কোন সংকট থাকবে না। তবে কিছু স্কুলে শিক্ষক সংকট থাকলেও ছেলে-মেয়েদের পড়াশোনার কোনো ধরনের ক্ষতি হচ্ছে না। আমরা নিয়মিত বিদ্যালয় পরিদর্শন করে থাকি। যদি কোনো প্রতিষ্ঠানের সমস্যা থেকে থাকে সেগুলোও সমাধানের চেষ্টা করছি। আশা করছি শিক্ষক সংকট থাকলেও পড়াশোনায় কিংবা প্রশাসনিক কাজ ব্যাহত হবে না বলেও জানিয়েছেন এই কর্মকর্তা।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই বিভাগের আরও খবর