যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনীতে এখন পর্যন্ত তৈরি হওয়া সবচেয়ে বিধ্বংসী যুদ্ধবিমান ষষ্ঠ প্রজন্মের স্টেলথ ফাইটার জেট F-47। এমনটাই জানিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তিনি বলেন, ‘ওরা এর নাম দিয়েছে 47। যদি আমার এটা পছন্দ না হয়, আমি 47 নাম্বারটা তুলে দেব। ভাবছি, কেন ওরা 47 নাম রেখেছে? কিন্তু যদি আমার পছন্দ না হয়, তাহলে আমি 47 বাদ দেব।’
বুধবার সুইজারল্যান্ডের ডাভোসে বিশ্ব অর্থনৈতিক ফোরামের বার্ষিক সম্মেলনে বক্তব্য দিতে গিয়ে তিনি এ কথা বলেন। একই সঙ্গে তিনি প্রশ্ন তোলেন, কেন এই বিমানের নাম রাখা হয়েছে ‘47’। খবর এনডিটিভির।
জানা গেছে, F-47 উন্নত স্টেলথ প্রযুক্তি ব্যবহার করে, যা রাডারে ধরা পড়ার সম্ভাবনা কমিয়ে দেয়। এতে সমন্বিত সেন্সর সিস্টেম রয়েছে, যা পাইলটকে লক্ষ্যবস্তু শনাক্ত ও আক্রমণে আরও কার্যকর করে তোলে।
বিমানের ককপিটের কাছে ছোট ডানা (ক্যানার্ড ডিজাইন) রয়েছে, যা স্থিতিশীলতা বাড়ায় এবং নিখুঁত বাঁক ও কৌশলী ম্যানুভার সম্ভব করে।
এটি দীর্ঘ-পাল্লার যুদ্ধের জন্য তৈরি এবং উন্নত ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার করে দূর থেকে লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানতে পারে। পাশাপাশি কাছাকাছি ডগফাইটেও সক্ষম। F-47 স্বয়ংক্রিয় ড্রোনের সঙ্গে একসঙ্গে কাজ করতে পারে, যেগুলোকে Collaborative Combat Aircraft বলা হয়।
বিমানের নকশায় বোয়িংয়ের YF-118G Bird of Prey–এর কিছু উপাদান ব্যবহার করা হয়েছে, যেমন স্থিতিশীলতার জন্য কোণাকৃতির ডানা এবং উন্নত বায়ুগতিবিদ্যার জন্য বাঁকানো নাক। আগের প্রজন্মের যুদ্ধবিমানের তুলনায় F-47-এর পাল্লা বেশি, দ্রুত মোতায়েন করা যায় এবং বিভিন্ন যুদ্ধ পরিস্থিতির সঙ্গে মানিয়ে নেওয়ার ক্ষমতা রয়েছে।
F-47 নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের বিমান বাহিনীর পরিকল্পনা
মার্চ ২০২৫ সালে যুক্তরাষ্ট্রের বিমান বাহিনী ঘোষণা করে যে তারা Boeing-কে F-47 নির্মাণের দায়িত্ব দিয়েছে। ভবিষ্যৎ সংঘাতে আকাশে আধিপত্য বজায় রাখতে এই বিমানকে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছে তারা, বিশেষ করে প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলে চীনের সঙ্গে সম্ভাব্য উচ্চমাত্রার সংঘর্ষের ক্ষেত্রে।
বিমান বাহিনী জানিয়েছে, তারা অন্তত ১৮৫টি F-47 সংগ্রহের পরিকল্পনা করেছে এবং দশকের শেষের দিকে প্রথম বিমানগুলো কার্যকরভাবে ব্যবহারে আসবে বলে আশা করা হচ্ছে।
এর আগে, ২০২৫ সালের ২১ মার্চ ওভাল অফিস থেকে ট্রাম্প ঘোষণা দেন যে তিনি বিমান বাহিনীকে ‘বিশ্বের প্রথম ষষ্ঠ প্রজন্মের ফাইটার জেট’ তৈরির নির্দেশ দিয়েছেন—ব্লুমবার্গের এক প্রতিবেদনে এমনটাই বলা হয়।
তিনি বিমানের গতি, চালনক্ষমতা ও অস্ত্র বহনের ক্ষমতা তুলে ধরে বলেন, ‘এটা এমন কিছু, যা আগে কেউ দেখেনি।’ নামের প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘পৃথিবীতে এর কাছাকাছিও কিছু নেই। এর নাম হবে F-47। জেনারেলরাই এই নাম বেছে নিয়েছেন। এটা একটা সুন্দর নাম্বার।”
কেন নাম রাখা হয়েছে F-47
The War Zone–এর এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের বিমান বাহিনী F-47 নামকরণের পেছনের ব্যাখ্যা দিয়েছে। এটি দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময়কার P-47 Thunderbolt যুদ্ধবিমানের প্রতি ইঙ্গিত, যা বহু বছর ধরে যুক্তরাষ্ট্রসহ বিভিন্ন দেশে ব্যবহৃত হয়েছে। পরে “P” (Pursuit) শব্দটি বাদ দেওয়ার পর এর নাম হয় F-47।
‘47’ সংখ্যা আরও নির্দেশ করে ১৯৪৭ সালকে, যে বছরে যুক্তরাষ্ট্রের বিমান বাহিনী সেনাবাহিনী থেকে আলাদা হয়ে স্বাধীন বাহিনী হিসেবে আত্মপ্রকাশ করে। এছাড়া F-47 নামটি ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গেও সম্পর্কিত, কারণ তিনি যুক্তরাষ্ট্রের ৪৫তম এবং বর্তমানে ৪৭তম প্রেসিডেন্ট।