পাকিস্তানের ইসলামাবাদে অনুষ্ঠেয় আলোচনায় যুক্তরাষ্ট্র এবং ইরানের মধ্যে কোনো চুক্তি হয়নি। দীর্ঘ বৈঠক ও একাধিক গুরুত্বপূর্ণ ইস্যুতে আলোচনা হলেও, সমঝোতায় আসতে পারেনি কোনো পক্ষ। মধ্যপ্রাচ্যের চলমান যুদ্ধ থামাতে ২১ ঘণ্টার আলোচনার পরও কোনো চুক্তিতে পৌঁছাতে না পেরে পাকিস্তান ছেড়ে গেছে দুই দেশের প্রতিনিধিদল।
আলোচনা ভেস্তে যাওয়ার পর প্রথমে ইসলামাবাদ ছাড়ে মার্কিন প্রতিনিধিদল। এর কয়েক ঘণ্টার পর ইরানের প্রতিনিধিদল।
ফরাসি বার্তা সংস্থা এএফপি জানায়,আলোচনা ব্যর্থ হওয়ার ঘোষণা দেওয়ার পরপরই ইসলামাবাদ ছাড়েন ভ্যান্স।
সংশ্লিষ্ট সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, পাকিস্তান সময় রবিবার সকাল ৭টা ৮ মিনিটে (জিএমটি ২টা ০৮ মিনিট) ভ্যান্স ‘এয়ারফোর্স টু’ উড়োজাহাজে চড়েন।
উড়োজাহাজে ওঠার সময় সিঁড়ির ওপর থেকে তিনি দায়িত্বরত পাকিস্তানি কর্মকর্তাদের উদ্দেশে হাত নেড়ে বিদায় জানান।
ঐতিহাসিক এ শান্তি আলোচনায় যুক্তরাষ্ট্র প্রতিনিধিদলে নেতৃত্ব দেন মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স। যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিনিধিদলে আরও ছিলেন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের দূত স্টিভ উইটকফ ও জ্যারেড কুশনার।
এদিকে, ইরানের আধা-সরকারি সংবাদ সংস্থা মেহর নিউজ জানিয়েছে, পার্লামেন্টের স্পিকার মোহাম্মদ-বাঘের গালিবাফের নেতৃত্বাধীন প্রতিনিধিদলটি স্থানীয় সময় রাত ৯টার কিছু পর ইসলামাবাদ থেকে রওনা দেন।
ইরানের আধা সরকারি বার্তা সংস্থা তাসনিম জানিয়েছে, প্রতিনিধিদলে রয়েছেন ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি, সুপ্রিম ন্যাশনাল কাউন্সিলের সেক্রেটারি মোহাম্মদ বাকের জোলকাদর, ডিফেন্স কাউন্সিলের সেক্রেটারি আলী আকবর আহমাদিয়ান, কেন্দ্রীয় ব্যাংকের গভর্নর আবদোল নাসের হেম্মাতি এবং কয়েকজন আইনপ্রণেতা।
কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল-জাজিরা জানায়, ‘ইসলামাবাদ টকস’ শিরোনামে পাকিস্তানের রাজধানী ইসলামাবাদে শনিবার বিকেল থেকে শুরু হয়ে রবিবার পর্যন্ত এ আলোচনা চলে।
১৯৭৯ সালের ইসলামি বিপ্লবের পর প্রথমবারের মতো সরাসরি সর্বোচ্চ পর্যায়ের বৈঠকে বসে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্র। শনিবার শুরু হওয়া দুই দেশের উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিদলের মধ্যে এই আলোচনা রবিবার পর্যন্ত গড়ায়।
পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ আয়োজক হিসেবে দুই পক্ষের সঙ্গে আলাদা বৈঠক করেন এবং মধ্যস্থতাকারী হিসেবে কাজ করেন। শান্তির জন্য ঐতিহাসিক ‘ইসলামাবাদ সংলাপ’ শেষে সমঝোতায় পৌঁছাতে না পারার জন্য পরস্পরকে দায়ী করেছে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান।
উল্লেখ্য, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল ইরানের ওপর হামলা চালালে তেহরান পাল্টা প্রতিক্রিয়া দেখায়। তারা মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশে মার্কিন ঘাঁটি লক্ষ্য করে হামলা শুরু করে। এ ঘটনায় পুরো মধ্যপ্রাচ্য অঞ্চল সংঘাতে জড়িয়ে পড়ে।