যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের একটি সংক্ষিপ্ত কিন্তু তীব্র ভাষার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম পোস্ট আবারও যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের কূটনৈতিক টানাপোড়েনকে বিশ্ব রাজনীতির কেন্দ্রবিন্দুতে নিয়ে এসেছে। ট্রাম্প তার নিজস্ব প্ল্যাটফর্ম ট্রুথ সোশালে লেখা এক পোস্টে ঘোষণা দেন, “No more Mr Nice Guy!”—যার অর্থ আর ভদ্রতা নয়। এটি সরাসরি ইরানের প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের ধৈর্য ফুরিয়ে আসার ইঙ্গিত হিসেবে দেখা হচ্ছে।
ওই পোস্টে ট্রাম্প ইরানকে অভিযুক্ত করেন, তারা এখনো তার ভাষ্য অনুযায়ী একটি ‘চুক্তি’র পথে এগোচ্ছে না। একই সঙ্গে তিনি সতর্ক করে বলেন, সময় দ্রুত ফুরিয়ে আসছে। শক্ত বার্তা বহনকারী এই পোস্টের সঙ্গে কিছু চিত্র যুক্ত করা হয়, যা অল্প সময়ের মধ্যেই সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে এবং আন্তর্জাতিক পরিসরে ব্যাপক প্রতিক্রিয়ার জন্ম দেয়।
এটাই প্রথম নয়। চলতি মাসের শুরুতে ট্রাম্প বলেছিলেন, ওয়াশিংটন তেহরানকে একটি ‘ন্যায্য ও যুক্তিসঙ্গত চুক্তি’ প্রস্তাব করেছে। তবে সেটি প্রত্যাখ্যান করা হলে গুরুতর পরিণতি ভোগ করতে হবে বলে তিনি হুঁশিয়ারি দেন। মার্কিন গণমাধ্যম সিবিএস নিউজের বরাতে এসব তথ্য উঠে আসে।
অন্যদিকে বার্তা সংস্থা রয়টার্স জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে আলোচনা এখনো খুবই কঠিন পর্যায়ে রয়েছে। আলোচনার মূল জটিলতা ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি, নিষেধাজ্ঞা শিথিলকরণ এবং আঞ্চলিক নিরাপত্তা ইস্যু ঘিরে। ট্রাম্প সম্প্রতি দাবি করেছেন, ইরান নতুন করে সংলাপের পথ খুঁজছে, তবে তেহরান প্রকাশ্যে ওয়াশিংটনের এই বক্তব্যের কিছু অংশ প্রত্যাখ্যান করেছে।
এই উত্তেজনাপূর্ণ বক্তব্য এমন এক সময়ে এলো, যখন পুরো মধ্যপ্রাচ্য পরিস্থিতি অত্যন্ত সংবেদনশীল। বিশেষ করে হরমুজ প্রণালি উত্তেজনায় বড় ঝুঁকির কেন্দ্র হতে পারে। ফলে উপসাগরীয় দেশগুলো, বৈশ্বিক জ্বালানি বাজার এবং কূটনীতিকরা সতর্ক নজরে পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছেন।
ট্রাম্পের জন্য ট্রুথ সোশাল এখন বিদেশনীতি নিয়ে সরাসরি বার্তা দেওয়ার একটি প্রধান মাধ্যম। তার এই সর্বশেষ ‘আর ভদ্রতা নয়’ মন্তব্য কূটনৈতিক চাপ সৃষ্টি করার কৌশল, নাকি ইরানের বিরুদ্ধে আরও কঠোর নীতির পূর্বাভাস—তা এখনো স্পষ্ট নয়। তবে একটি বিষয় নিশ্চিত, এই পোস্ট যুক্তরাষ্ট্রের ইরান নীতিকে আবারও বৈশ্বিক আলোচনার কেন্দ্রে ফিরিয়ে এনেছে।