বুধবার, ১০ জুন ২০২৬, ০১:২৮ অপরাহ্ন
নোটিশ:
তথ্য ও প্রচার মন্ত্রণালয় নিবন্ধনকৃত অনলাইন নিউজ পোর্টাল দ্য পিপলস্ নিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকে সারা দেশে জেলা প্রতিনিধি নিয়োগ করা হবে। মোবাইল: ০১৭১১-১১৬২৫৭, ০১৭১২-৪০৭২৮২ ' ই-মেইল : thepeopelesnews24@gmail.com

বাড়ছে পানি-ভাঙ্গন আতঙ্কে নদীতীরবাসী

নিজস্ব প্রতিবেদকঃ / ১৬ বার দেখা হয়েছে
আপডেট : সোমবার, ৮ জুন, ২০২৬

উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢল ও ভারি বর্ষণে যমুনা নদীর পানি সিরাজগঞ্জে পয়েন্টে বাড়ছে। গত ২৪ ঘন্টায় সিরাজগঞ্জ পয়েন্টে ৬ সে.মি পানি বৃদ্ধি পেয়েছে। পানি বাড়ায় যমুনার অরক্ষিত অঞ্চলে ভাঙ্গন দেখা দিয়েছে। গত কয়েকদিনে চৌহালীতে ভাঙ্গনে বসতভিটা ও ফসলী বিলীন হয়ে গেছে। ভাঙ্গন আতঙ্কে নদী তীরবর্তী মানুষ নির্ঘুম রাত কাটাচ্ছে। এ অবস্থায় জরুরীভাবে স্থায়ী বাঁধ নির্মাণের দাবী জানিয়েছেন ভাঙ্গন শঙ্কায় আতঙ্কিত মানুষরা।

জানা যায়,পানি বাড়ার সাথে সাথে যমুনার অরক্ষিত এলাকায় সিরাজগঞ্জের চৌহালী উপজেলার চর সলিমাবাদ, ছোট চোয়াল, মন্ডলভোগ, তেঘরী, কুরাগাছাসহ বেলকুচি ও কাজিপুর উপজেলার চরাঞ্চলে ভাঙ্গন দেখা দিয়েছে। ইতোমধ্যে ভাঙ্গনে বসতভিটাসহ চরাঞ্চলের আখ, পাট ও বাদামসহ বহু ফসলি জমি নদীগর্ভে বিলীন হয়ে গেছে। প্রতিবছর যমুনার ভাঙ্গনে শত শত পরিবার নি:স্ব হয়ে পড়ছে। এক সময়ে জমির মালিক ফসলী জমি হারিয়ে ভুমিহীন হয়ে পড়ছে। গাছপালা নদীগর্ভে চলে যাওয়ায় পরিবেশেও ভারসাম্যহীন হয়ে পড়ছে। স্কুল-কলেজ মাদ্রাসা নদীগর্ভে বিলীন হওয়ায় শিক্ষার পরিবেশও নষ্ট হয়ে পড়ায় অনেক শিশুর লেখাপড়া অকালে ঝড়ে পড়ছে।

চল সলিমাবাদ এলাকার ৬০ বছর বয়সী সাবিনা বেগম জানান, প্রায় ১১বার বসতভিটা নদীগর্ভে বিলীন হয়ে গেছে। নদী এখন ঘরের কাছে। পাঁচমাস আগে স্বামী মারা গেছে। তিন সন্তানও মারা গেছে। আয় রোজগারের কেউ নাই। এর মধ্যে যদি শেষ ভিটে মাটিটুকু নদীগর্ভে বিলীন হয়ে যায় তবে কোথায় গিয়ে দাাঁড়াবো?
আরেক বাসিন্দা রফিক মোল্লা জানান, জমি ও বসতভিটা নদীতে চলে যাবার উপক্রম হয়েছে। রাতে দুশ্চিন্তায় ঘুমাতে পারি না। মনে হয় কখন বুঝি বসতভিটা নদীগর্ভে চলে যাবে।

একই গ্রামের মানিক জানান, বাপ-দাদার প্রায় ৫০ বিঘা জমি ছিল। সময়ের ব্যবধানে সব নদীগর্ভে বিলীন হয়ে গেছে। এখন মাত্র কয়েক শতাংশ জমি আছে। তিনি বলেন, বার বার ঘর করেছি। কিন্তু নদীগর্ভে সব বিলীন হয়ে গেছে।
ভাঙ্গন কবলিত মানুষের অভিযোগ,বিগত সরকার স্থায়ী বাঁধের আশ্বাস দিলেও তা বাস্তবায়ন করেনি। এ অবস্থায় অতি দ্রুত স্থায়ী বাঁধ নির্মাণ করে ভাঙ্গনের হাত থেকে বসতভিটা ও ফসলি জমি রক্ষায় সরকারের কাছে দাবী জানিয়েছেন ভাঙ্গন কবলে থাকা মানুষগুলো।

সিরাজগঞ্জ পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মোখলেসুর রহমান জানান, চৌহালীর সলিমাবাদে ৩ কিলোমিটার এলাকায় স্থায়ী বাঁধ নির্মাণের প্রকল্পটি প্লানিং কমিশনে রয়েছে। অনুমোদন হলে স্থায়ী বাঁধ নির্মাণ করা সম্ভব হবে। এছাড়াও যমুনার অরক্ষিত ও ভাঙ্গন কবলিত স্থানগুলোতে জিওব্যাগ ফেলে ভাঙ্গন নিয়ন্ত্রন করা হচ্ছে।

 

 


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই বিভাগের আরও খবর