অবৈধ দখল ও মারাত্মক দূষণে অস্তিত্ব হারাতে বসেছে মানিকগঞ্জ পৌরসভার মধ্য দিয়ে প্রবাহিত একমাত্র খালটি। প্রায় ছয় কিলোমিটার এই খাল ভৌগোলিকভাবে কালীগঙ্গা নদী থেকে বান্দুটিয়া হয়ে কেওয়ারজানি দিয়ে পুনরায় কালীগঙ্গা নদীতে মিলিত হয়েছে।
অতীতে এই খাল দিয়ে দূর-দূরান্তের জেলাগুলোতে বড় নৌকা ও লঞ্চে মালামাল পরিবহন করা হতো। আয়োজিত হতো নৌকা বাইচ, আর স্থানীয় মানুষজন দৈনন্দিন কাজ ও মাছ ধরার কাজে এটি ব্যবহার করতেন।
তবে বর্তমান চিত্র সম্পূর্ণ ভিন্ন; খালের দুই পাড়ের বাসিন্দারা দখল ও প্রতিদিনের বাসাবাড়ির ময়লা-আবর্জনা ফেলে এটি ভরাট করে ফেলছেন। বর্তমানে পচা বর্জ্যের দুর্গন্ধে খালপাড়ের বসতিগুলোতে বসবাস করা কঠিন হয়ে পড়েছে।
স্থানীয় ৬৫ বছর বয়সি বাসিন্দা আলী হোসেন আফসোস করে জানান, ‘অতীতে শহরের অধিকাংশ মানুষ এই খালে গোসল ও মাছ শিকার করতেন। এখন দুপাশের লোকজন জায়গা দখল করে নিচ্ছে, যা এখনই বন্ধ না করলে খালটির অস্তিত্বই থাকবে না।’
আরেক প্রবীণ বাসিন্দা নিয়ামত আলী (৭৭) ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ‘সবাই মিলে খালটি ধ্বংস করতে নেমেছে। মানুষ মনে করে ময়লা ফেলার জন্যই যেন এই খাল। পৌরসভায় বারবার গিয়ে জানালেও কোনো লাভ হয়নি। মেয়র-কাউন্সিলররা কেবল ভোটের সময় আসেন, কাজের সময় তাদের দেখা মেলে না।’
শহরের ভবিষ্যৎ নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে জেলা নাগরিক কল্যাণ পরিষদের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক কামরুদ্দিন রেজা বলেন, ‘পৌরসভার জল নিষ্কাশন ও পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষায় এই একটিমাত্র খালই প্রধান ভরসা। খালটি রক্ষা করা না গেলে অদূর ভবিষ্যতে পুরো পৌরবাসীকে ভয়াবহ জলাবদ্ধতার শিকার হতে হবে।’
এ বিষয়ে মানিকগঞ্জ পৌরসভার সদ্য যোগ দেওয়া নির্বাহী প্রকৌশলী জহিরুল ইসলাম জানান, তিনি খালটির বর্তমান অবস্থা, দখল ও দূষণের বিষয়ে অবগত আছেন। দ্রুত সময়ের মধ্যে খালটিকে দখলমুক্ত করতে প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।