উত্তপ্ত পরিস্থিতির মধ্যে এবার ইরানের সঙ্গে ব্যবসা করা দেশগুলোর ওপর ২৫% শুল্কারোপ করলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে এক পোস্টে তাৎক্ষণিক এই হারে শুল্ক কার্যকর হল বলে জানিয়েছেন তিনি। খবর বিবিসি’র।
সরকার বিরোধী আন্দোলনে যখন তপ্ত ইরান, সেই আবহে তেহরানের উপর চাপ সৃষ্টি করতেই নতুন হারে শুল্কের ঘোষণা করা হল বলে মনে করছে আন্তর্জাতিক মহল। পোস্টে ট্রাম্প বলেন, তাৎক্ষণিকভাবে কার্যকর, ইরানের সাথে ব্যবসা করা যেকোনো দেশ মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সাথে করা যেকোনো এবং সমস্ত ব্যবসায়ের উপর ২৫ শতাংশ শুল্ক প্রদান করবে, এই আদেশটি চূড়ান্ত এবং অপরিবর্তনীয় বলে উল্লেখ করেন তিনি।
এদিকে, ইরানে চলমান সরকারবিরোধী আন্দোলনে গত ২৮ ডিসেম্বর থেকে এখন পর্যন্ত প্রায় ৬৫০ জন নিহত হয়েছেন যাদের মধ্যে রয়েছে ১৮ বছরের কমবয়সী ৯ জন। এমন দাবি-নরওয়েভিত্তিক মানবাধিকার সংস্থা ইরান হিউম্যান রাইটস-আইএইচআরএনজিওর। সহিংস এই আন্দোলনকে কেন্দ্র করে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের শীর্ষ নেতাদের মধ্যে তীব্র বাকযুদ্ধও দেখা গেছে।
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছেন, বিক্ষোভকারীদের হত্যা বন্ধ না হলে ইরানে হস্তক্ষেপের জন্য যুক্তরাষ্ট্র ‘খুব শক্ত বিকল্প’ বিবেচনা করছে। এর আগেও তিনি আন্দোলনকারীদের প্রাণহানি ঘটলে ব্যবস্থা নেওয়ার কথা বলেছিলেন।
এর জবাবে ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনি মার্কিন রাজনীতিকদের উদ্দেশে ‘প্রতারণা বন্ধ করার’ আহ্বান জানান। একই সঙ্গে তিনি ইরানে অনুষ্ঠিত রাষ্ট্র-সমর্থিত সরকারপন্থী সমাবেশগুলোর প্রশংসা করেন।
এদিকে, হোয়াইট হাউসের মুখপাত্র কারোলিন লেভিট সাংবাদিকদের জানিয়েছেন, ট্রাম্প প্রশাসনের সামনে এখনো ‘অনেক বিকল্প’ খোলা রয়েছে, যার মধ্যে আকাশপথে হামলাও (এয়ার স্ট্রাইক) একটি সম্ভাব্য অপশন।
বিবিসির কূটনৈতিক সংবাদদাতা পল অ্যাডামস বলছেন, ট্রাম্প এখন এক কঠিন সিদ্ধান্তের মুখে। একদিকে হুমকি বাস্তবায়ন না করলে তিনি রাজনৈতিকভাবে দুর্বল দেখাতে পারেন, অন্যদিকে হস্তক্ষেপ করলে তা অঞ্চলজুড়ে বড় সংঘাতের ঝুঁকি তৈরি করতে পারে।