ব্যারিস্টার নাজির আহমদ দেশের মেধাবী সন্তান। বহুমুখী প্রতিভার অধিকারী সিলেটের কৃতি সন্তান ব্যারিস্টার নাজির আহমদ আন্তর্জাতিক অঙ্গনে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখে চলেছেন। তার মতো মেধাবীদের দেশ গঠনে কাজে লাগালে বাংলাদেশ কাঙ্খিত লক্ষ্যে পৌঁছতে পারবে। বিশিষ্ট লেখক, সংবিধান বিশেষজ্ঞ, বৃটেনের প্রতিথযশা আইনজীবী, বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগের এডভোকেট, নিউহ্যাম বারার টানা তিনবারের সাবেক ডেপুটি স্পীকার ও “ফ্রিম্যান অব দ্য সিটি অব লন্ডন” খেতাবপ্রাপ্ত ব্যারিস্টার নাজির আহমদকে সিলেট-চট্টগ্রাম ফ্রেন্ডশিপ ফাউন্ডেশনের উদ্যোগে দেয়া সম্বর্ধনা অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য প্রফেসর ড. এ এম সারওয়ারউদ্দিন চৌধুরী উপরোক্ত কথাগুলো বলেন।
সোমবার ২৬ জানুয়ারি ২০২৬, রাত ৮ টায় সিলেট সোবহানীঘাটস্থ এক অভিজাত হোটেলে সিলেট-চট্টগ্রাম ফ্রেন্ডশিপ ফাউন্ডেশনের উদ্যোগে ব্যারিস্টার নাজির আহমদকে সংবর্ধনা এবং শিক্ষার্থীদের মধ্যে শিক্ষা উপকরণ বিতরণ করা হয়।
এতে সভাপতিত্ব করেন সিলেট-চট্টগ্রাম ফ্রেন্ডশিপ ফাউন্ডেশন কেন্দ্রীয় কমিটি’র উপদেষ্টা পরিষদের মাননীয় চেয়ারম্যান এবং সিলেট মেট্টোপলিটন চেম্বার অব কমার্স এন্ড ইন্ডাস্ট্রি (এসএমসিসিআই) এর সম্মানিত পরিচালক আলহাজ্ব মোহাম্মদ কাপ্তান হোসেন। সিলেট-চট্টগ্রাম ফ্রেন্ডশিপ ফাউন্ডেশনের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি মোঃ শহিদুল ইসলামের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে কোরআন তেলাওয়াত করেন মোহাম্মদ ছানিম আহমদ। এতে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন লন্ডন বারা অব টাওয়ার হ্যামলেটসের সাবেক ডেপুটি স্পিকার ও কাউন্সিলর জনাব মাদার জেনেত, ফুলকলি ফুড প্রোডাক্ট লিমিটেড, সিলেটের উপ পরিচালক জসিম উদ্দিন খন্দকার।
প্রফেসর ড. এ এম সারওয়ারউদ্দিন চৌধুরী আরো বলেন, স্রষ্টার রহমত থেকে কখনও নিরাশ হওয়া যাবে না। তাঁর উপর ভরসা করেই এগুতে হবে। জুলাই গণঅভ্যূত্থানের পর সুযোগ এসেছে দেশ গড়ার। তরুনরা জীবন দিয়ে বিজয় ছিনিয়ে এনেছে। তরুণদের হাতেই দেশ নিরাপদ। এ সুযোগ আমাদের জীবদ্দশায় হয়তো আর পাব না। আগামী দিনের যোগ্য ও সুনাগরিক হিসেবে তরুনদের গড়ে তুলতে হবে। বৃটেনের আলোকিত ও সমৃদ্ধ ব্যবস্থায় লব্দ জ্ঞান ও অভিজ্ঞতা দিয়ে ব্যারিস্টার নাজির আহমদ বাংলাদেশের আর্থ-সামাজিক উন্নয়নে ও তরুণদের সুনাগরিক হিসেবে গড়ে তুলতে ভূমিকা রাখতে পারেন।
সম্বর্ধিত অতিথি ব্যারিস্টার নাজির আহমদ বলেন, সিলেট ও চট্টগ্রামের মধ্যে এক ঐতিহাসিক বন্ধন আছে। এক সময় আমরা এক বিভাগে ছিলাম। এমন কি যারা বাংলাদেশকে বিভিন্ন প্রদেশে ভাগ করার প্রস্তাব দিয়েছেন তারাও সিলেট ও চট্টগ্রামকে নিয়ে এক প্রদেশ গঠনের কথা বলেছেন। সিলেট ও চট্টগ্রামের মধ্যে সম্পর্ক ও বন্ধন আরো মজবুত করতে সিলেট-চট্টগ্রাম ফ্রেন্ডশিপ ফাউন্ডেশন নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে।
ছোট ছোট শিক্ষার্থীদের উদ্দেশ্যে ব্যারিস্টার নাজির আহমদ বলেন, আকাশ ছোঁয়ার স্বপ্ন দেখতে হবে। ভিসি মহোদয়ের মতো বড় হতে হবে। কঠোর পরিশ্রম করলে, কমিটেড ও ডিটারমিন্ড হলে, চ্যালেঞ্জ মোকাবেলা করতে পারলে, সেক্রিফাইসিং ও লার্নিং মেন্টালিটি থাকলে তোমরা অবশ্যই ভাল করতে পারবে। নিয়মিত পড়াশুনা, শিক্ষকদের কথা শুনা, কঠোর পরিশ্রম ও অধ্যবসায় নিয়ে যেতে পারে তোমাদেরকে সাফল্যের শীর্ষে। ছাত্র/ছাত্রীদের উৎসাহ ও উদ্দিপনা দিতে বিভিন্ন উপমার মাধ্যমে তিনি বলেন, নিজের সাফল্যে অন্যরা ও স্বজনরা হিংসা ও ঘৃনা করে শুধু মাত্র নিজের পিতামাতা ও শিক্ষক ছাড়া। ছাত্ররা শিক্ষকদের ছাড়িয়ে গেলেও শিক্ষকরা তাতে গর্ববোধ করেন।
ব্যারিস্টার নাজির আহমদ আরও বলেন, বাংলাদেশ অপার সম্ভাবনাময় দেশ। রাজনীতিতে গুনগত পরিবর্তন ও স্থিতিশীলতা আসলে, দুর্নীতি বন্ধ হলে এবং জাতীয় জীবনের সব দিক ও বিভাগে শৃঙ্খলাবোধ জাগ্রত হলে দেশ পত্পত্ করে উঠে যাবে। আয়োজকদের ধন্যবাদ জানিয়ে ব্যারিস্টার নাজির আহমদ বলেন, জীবনে কত সম্বর্ধনা পেয়েছি, নিজ হাতে কত সম্মাননা দিয়েছি। তবে আজকের এটি পাওয়ার অনুভূতি সম্পূর্ণ আলাদা। বিনয়ের সাথে সম্মাননা গ্রহণ করে তিনি বলেন, দায়িত্ববোধ ও কমিটমেন্ট তা আরো বাড়িয়ে দিল। প্রকৃত সম্মান ও পুরস্কার আমি মহান স্রষ্টার কাছে চাই।
বিশেষ অতিথির বক্তব্যে টাওয়ার হ্যামলেটসের সাবেক ডেপুটি মেয়র জ্যানেট রহমান বলেন, ব্যারিস্টার নাজির আহমদ বৃটেনের একজন আলোকিত প্রফেশনাল, হাজারো মানুষের অনুকরণীয় ব্যক্তিত্ব। আমরা তাকে নিয়ে গর্ব করি। বৃটেন ও গোটা ইউরোপের সুপরিচিত ব্যক্তিত্ব ব্যারিস্টার নাজির আহমদের বিচরণ সমাজ ও কমিউনিটির প্রতিটি দিক ও বিভাগে। বাংলাদেশকে নিয়ে তিনি ভাবেন। বিভিন্নভাবে নতুন বাংলাদেশ বিনির্মানে তিনি নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছেন।
অনুষ্ঠান শেষে প্রধান অতিথি উপাচার্য প্রফেসর ড. সারওয়ারউদ্দিন চৌধুরী ব্যারিস্টার নাজির আহমদকে ক্রেস্ট ও মেডেল প্রদান করেন। এরপর ব্যারিস্টার নাজির আহমদের অর্থায়নে শিক্ষার্থীদের মধ্যে শিক্ষা উপকরণ বিতরণ করা হয়। রাতে ডিনারের মাধ্যমে অনুষ্ঠানের সমাপ্তি হয়।
আরোও উপস্থিত ছিলেন ফুলকলি ফুড প্রোডাক্ট লি:, সিলেটের মার্কেটের এজিএম মোঃ সাহাব উদ্দিন। কাজী দিদার মিয়া, সাংবাদিক নুরুদ্দিন রাসেল, সুলতানা জান্নাত, শিপন মিয়া, শ্রিপ্রা রানীসহ প্রমুখ।
উপহার গ্রহনকারী শিক্ষার্থী হলেন রুয়েল আহমদ, মো. ছানিম আহমদ, তানিশা বেগম, উসমান গনি, হুমায়ুন আহমদ, খাদিজা বেগম, ছামিরা বেগম, সুমি বেগম, সারিয়া বেগম, রাফি আহমদ, ইয়ামিন আহমদ, আজান আহমদ, নাজিফা বেগম, রাফিয়া বেগম ও সুচিত্রা রানী দেব।