আসন্ন ঈদুল আজহাকে কেন্দ্র করে বগুড়ার শেরপুর পৌর শহরের ঐতিহ্যবাহী বারদুয়ারী কোরবানীর পশুর হাটে এখনো জমেনি কেনাবেচা। প্রতি বছর এই সময়ে হাটে চিরচেনা যে উপচে পড়া ভিড় আর কর্মব্যস্ততা থাকে, এবার তার ছিটেফোঁটাও চোখে পড়ছে না। চাহিদার তুলনায় হাটে যেমন গরুর আমদানি কম, তেমনি বাজারে দেখা মিলছে না কাঙ্খিত ক্রেতাদেরও।
বৃহস্পতিবার (২১ মে) সরেজমিনে বারদুয়ারী হাটে গিয়ে ক্রেতা বিক্রেতার একেবারে নগণ্য উপস্থিতি এবং চারদিকে এক হতাশাজনক চিত্র দেখা গেছে। হাটে আসা সাধারণ ব্যবসায়ী ও খামারিরা চরম লোকসানের আশঙ্কা প্রকাশ করছেন। তাদের দাবি, বাজারে গরুর দাম গতবারের চেয়ে অনেক কম। হাটে ৫টি গরু নিয়ে আসা ব্যবসায়ী দেলোয়ার হোসেন ক্ষোভ ও হতাশা প্রকাশ করে বলেন, গত বছর যে আকারের গরু আমরা অনায়াসে ১ লাখ টাকায় বিক্রি করেছি, এবার সেই গরুর দাম সর্বোচ্চ ৯০ হাজার টাকা হাঁকছেন ক্রেতারা।
বাজারের দাম এবার অনেক কম। একই সুর শোনা গেল স্থানীয় খামারি সাখাওয়াত, রফিকুল ও আব্দুল হান্নানের কণ্ঠে। তারা জানান, গো-খাদ্যের অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধির কারণে এবার গরু লালন পালন করতে খরচ অনেক বেশি হয়েছে। কিন্তু সেই তুলনায় বাজারের বর্তমান দর অত্যন্ত কম। ক্রেতা না থাকায় তারা হাটে গরু নিয়ে এসে চরম বিপাকে পড়েছেন। হাটে ক্রেতা বিক্রেতার খরা থাকলেও হাট পরিচালনায় পৌরসভা থেকে দায়িত্ব প্রাপ্তদের তৎপরতা লক্ষ্য করা গেছে। হাটে খাজনা আদায়ের দায়িত্বে থাকা রুবেল ও আক্তারুজ্জামান বলেন, সরকারি নিয়ম ও নির্ধারিত হার অনুসারেই খাজনা আদায় করা হচ্ছে। কোনো কোনো ক্ষেত্রে তার চেয়েও কম নেওয়া হচ্ছে। বর্তমানে ছাগল প্রতি ২০০ থেকে ৩০০ টাকা এবং গরু প্রতি ৪০০ থেকে ৫০০ টাকা হারে খাজনা আদায় করা হচ্ছে। হাটের বর্তমান পরিস্থিতি মলিন হলেও হাল ছাড়ছেন না সংশ্লিষ্টরা। হাটের ইজারাদার ও কর্তৃপক্ষ আশা প্রকাশ করে বলেন, ঈদ কিছুটা সামনে থাকায় হয়তো এখনো বাজার পুরোপুরি জমে ওঠেনি। তবে আগামী হাটগুলোতে পরিস্থিতির দ্রুত উন্নতি হবে এবং ক্রেতা বিক্রেতাদের উপচে পড়া উপস্থিতিতে আবারও প্রাণ ফিরে পাবে ঐতিহাসিক বারদুয়ারী হাট।