জন্মের সময় আর দশটা শিশুর মতোই সুস্থ-স্বাভাবিক ছিল সে। চোখে ছিল সুন্দর এক পৃথিবীর স্বপ্ন। কিন্তু মাত্র এক মাস বয়সে এক কালবৈশাখীর মতো ঝড় এসে এলোমেলো করে দেয় সিরাজগঞ্জের কামারখন্দের নয় বছরের ছোট্ট তাসফিয়ার জীবন। দারিদ্র্য আর অর্থাভাবে প্রয়োজনীয় চিকিৎসা না পেয়ে আজ দীর্ঘ দিন ধরে হুইলচেয়ারে বন্দি জীবন কাটাচ্ছে এই নিষ্পাপ শিশুটি। ভাঙ্গা ভাঙ্গা কন্ঠে তার আকুল আকুতি— সে আবার সবার মতো সুস্থ হয়ে নিজের পায়ে দাঁড়াতে চায়, ফিরে পেতে চায় স্বাভাবিক জীবন। তাসফিয়া কামারখন্দ উপজেলার রায়দৌলিতপুর ইউনিয়নের চরট্যাংরাইল গ্রামের ভ্যানচালক তৈয়ব আলীর মেয়ে।
পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, জন্মের পর প্রথম মাসটি বেশ ভালোই কেটেছিল তাসফিয়ার। কিন্তু এরপরই সে মারাত্মক টাইফয়েড জ্বরে আক্রান্ত হয়। দিনমজুর বাবা সাধ্যমতো স্থানীয় এক চিকিৎসকের কাছে তাকে নিয়ে যান। কিন্তু ভুল চিকিৎসা বা রোগের ভয়াবহতায় তখন থেকেই তার মাথা অস্বাভাবিকভাবে বড় হতে শুরু করে। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে শরীরের অন্যান্য অঙ্গের বৃদ্ধি থমকে গেলেও মাথা বড় হওয়ার এই প্রক্রিয়া তাসফিয়াকে পুরোপুরি পঙ্গুত্বের দিকে ঠেলে দেয়।
তাসফিয়ার মা বলেন, অভাবের সংসারে ভ্যান চালিয়ে যা আয় হয়, তা দিয়ে কোন মতে সংসার চলে, সেখানে উন্নত চিকিৎসার খরচ জোগানো আমাদের পক্ষে আকাশকুসুম কল্পনা। তবে চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, সঠিক সময়ে উন্নত ও দীর্ঘমেয়াদি চিকিৎসা করালে তাসফিয়াকে সুস্থ জীবনে ফিরিয়ে আনা সম্ভব। কিন্তু টাকার অভাবে থমকে আছে তার চিকিৎসা, আর তাসফিয়ার দিন কাটছে চার দেয়ালের মাঝে হুইলচেয়ারের ওপর।
স্থানীয়রা বলেন, একটুখানি সহানুভূতি আর উন্নত চিকিৎসায় পারে এই শিশুটির মুখে হাসি ফোটাতে। সমাজের বিত্তবান, মানবিক সংস্থা এবং সরকারের সুদৃষ্টিই এখন তাসফিয়ার হুইলচেয়ারের বন্দিদশা থেকে মুক্তির একমাত্র উপায়।