জয়পুরহাটে পল্লী বিদ্যুতের লঙ্কা কাণ্ড, ৬১ হাজার টাকার বিল ১ হাজারে সারা। জেলার কালাই উপজেলায় পল্লি বিদ্যুতের ‘ভুতুড়ে’ বিলে দিশেহারা সাধারণ গ্রাহকরা। এক মাসের ব্যবধানে কারও বিল দ্বিগুণ, আবার কারও বেড়েছে ৭০ গুণ পর্যন্ত। বিশেষ করে এক প্রবাসী গ্রাহকের ৬১ হাজার টাকার বিল মাত্র ১ হাজার টাকায় নেমে আসার ঘটনায় ওই এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্য ও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।
মঙ্গলবার (২৪ ফেব্রুয়ারি-২০২৬) অভিযোগ নিয়ে ওই প্রবাসী বিদ্যুৎ অফিসে গেলে মুহূর্তেই সেই ৬১ হাজার টাকার বিল সংশোধন করে মাত্র ১ হাজার ৪৭ টাকা করে দেওয়া হয়। অর্থাৎ, নিমিষেই বিলে ৬০ হাজার টাকার গরমিল ধরা পড়ে।
সরেজমিন জানা গেছে, কালাই পৌরশহরের তালুকদার পাড়ার আমেরিকা প্রবাসী মোরশেদ তালুকদারের বাড়িতে ফেব্রুয়ারি-২০২৬ মাসে বিল পাঠানো হয় ৬১ হাজার ১০ টাকা। বিলে বিদ্যুৎ ব্যবহার দেখানো হয় ৪ হাজার ১৫০ ইউনিট। অথচ বাস্তবে মিটারে রিডিং ছিল অনেক কম।
শুধু মাত্র এই প্রবাসীই নন, উপজেলার কয়েক হাজার গ্রাহকের একই অবস্থা। পৌরশহরের কলেজ পাড়ার কাজী তানভিরুল ইসলাম জানান, তার মাসিক বিল ৭০০ থেকে ১ হাজার টাকার মধ্যে থাকে। ডিসেম্বরে-২০২৫ ৮১০ টাকা এলেও জানুয়ারিতে(২০২৬) বিল আসে ৩ হাজার ১১০ টাকা। বিদ্যুৎ অফিসে গেলে তারা আগের বকেয়া যোগ হওয়ার কথা জানায়, অথচ নিয়মিত বিল পরিশোধ করায় তার কোনো বকেয়াই ছিল না।
একই উপজেলার পুনট ইউনিয়নের শিকটা গ্রামের আব্দুল কাফি জানান, আমার প্রতি মাসে ৪৫০-৫৫০ টাকা বিল আসে। কিন্তু ফেব্রুয়ারিতে(২০২৬) এসেছে ১ হাজার ২২৫ টাকা। ওই গ্রামের প্রায় সবারই একই দশা। এছাড়াও সড়াইল, আঁওড়া, ধুনট এবং তেলিহারসহ অনেক গ্রামের গ্রাহকরাও ঠিক একই অভিযোগ করেন।
বিভিন্ন গ্রাহকদের দাবি, মিটার রিডারদের মনগড়া ও অনিয়মিত রিডিংয়ের কারণেই এমন ভুতুড়ে ও ইচ্ছেমতো বিল আসছে। আর এর মধ্যে মিটারের ত্রুটিও একটি বড় কারণ।
উপজেলার চালকল মালিক সমিতির সভাপতি আব্দুল আজিজ বলেন, ভুতুড়ে বিলের এই সমস্যা কয়েক মাস ধরেই চলছে। অফিসে অভিযোগ দিয়েও কোনো কাজ হয়নি। এতে করে সাধারণ মানুষ সহ ব্যবসায়ীরা পড়েছেন চরম আর্থিক চাপে ।
কালাই উপজেলা পল্লী বিদ্যু জোনাল কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, উপজেলার ৫টি ইউনিয়ন ও একটি পৌরসভায় পল্লি বিদ্যুতের মোট গ্রাহক রয়েছেন ৪৭ হাজার ১০ জন । আর এসব গ্রাহকের জন্য ৮৭৭ কি:মি: লাইন নির্মাণ করা হয়েছে।
এ বিষয়ে কালাই জোনাল কার্যালয়ের উপ-মহাব্যবস্থাপক (ডিজিএম) প্রকৌশলী জোবায়ের আলী বসুনিয়া বলেন, ইচ্ছাকৃতভাবে বিল বেশি করার সুযোগ নেই। ভুল রিডিংয়ের কারণে এমনটা হতেই পারে। তবে কোনো ভুল ধরা পড়লে তাৎক্ষণিক আমরা সংশোধন করে দিচ্ছি উল্লেখ করে তিনি আরো বলেন, প্রবাসীর বাড়ির বিলটি ভুলবশত হয়েছিল, তিনি অফিসে আসার পরপরই আমরা সেটি সংশোধন করে দিয়েছি। আর এখন আমরা নির্ভুল হিসাব অনুযায়ী বিল দেওয়ার চেষ্টা করে যাচ্ছি বলেও জানান এই কর্মকর্তা।