সোমবার, ২৭ জুলাই ২০২৬, ০২:৫০ অপরাহ্ন
সর্বশেষ
‘দেশে উগ্রবাদ মাথাচাড়া দেওয়ার আশঙ্কাজনক লক্ষণ নেই, তবে নজরদারি অব্যাহত’: সিটিটিসি প্রধান সিরাজগঞ্জে চাঁদাবাজি ও মারধরের মামলায় বিএনপির ৬ নেতাকর্মী গ্রেপ্তার পে-স্কেল বাস্তবায়ন নিয়ে কঠিন চাপে সরকার শাপলা চত্বরে হত্যাযজ্ঞ : শেখ হাসিনাসহ ৪১ জনের বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ দাখিল প্রশ্নফাঁসের আন্দোলনে মোদিকে ট্রল করে দেওয়া পোস্ট চিহ্নিত করতে অভিযানে পুলিশ চুল পড়া রোধের ঘরোয়া উপায় মেধাবী প্রজন্ম গড়ে তোলা সরকারের প্রধান অগ্রাধিকার : প্রধানমন্ত্রী দেশের বাজারে স্বর্ণের ভরি কত? যুক্তরাষ্ট্রে ফুড ফেস্টিভ্যালে বন্দুকহামলা, নিহত ২ বিকেলে পর্দা নামছে নতুন কুঁড়ির প্রথম আসরের, পুরস্কার দেবেন প্রধানমন্ত্রী
নোটিশ:
তথ্য ও প্রচার মন্ত্রণালয় নিবন্ধনকৃত অনলাইন নিউজ পোর্টাল দ্য পিপলস্ নিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকে সারা দেশে জেলা প্রতিনিধি নিয়োগ করা হবে। মোবাইল: ০১৭১১-১১৬২৫৭, ০১৭১২-৪০৭২৮২ ' ই-মেইল : thepeopelesnews24@gmail.com

পে-স্কেল বাস্তবায়ন নিয়ে কঠিন চাপে সরকার

অনলাইন ডেস্ক: / ১ বার দেখা হয়েছে
আপডেট : সোমবার, ২৭ জুলাই, ২০২৬
-ফাইল ছবি।

আরও পর্যালোচনার নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর – দুই বছর পেছাতে বলেছে আইএমএফ

আর্থিক সংকটের কারণে সরকারি কর্মচারীদের নবম পে স্কেল বাস্তবায়ন নিয়ে জটিলতা বাড়ছেই। নতুন এই পে স্কেল বাস্তবায়ন অন্তত দুই বছর পিছিয়ে দেওয়ার পরামর্শ দিয়েছে আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (আইএমএফ)। সম্প্রতি সংস্থাটির একটি প্রতিনিধিদল ঢাকা সফরকালে অর্থ বিভাগের সঙ্গে বৈঠকের সময় এমন পরামর্শ দেয়। তবে সংস্থাটির প্রস্তাব আমলে নিচ্ছে না সরকার। এজন্য আগামী অক্টোবরে আইএমএফের বার্ষিক সভার আগেই পে স্কেলের গেজেট প্রকাশ করতে চায় সরকার।

অন্যদিকে, আইএমএফ চায় এটাকে অক্টোবর পর্যন্ত ঝুলিয়ে রাখতে। তাহলে অক্টোবরে থাইল্যান্ডে আয়োজিত আইএমএফের বার্ষিক সভায় এ বিষয়ে আলোচনা ও বিতর্কের সুযোগ তৈরি হবে। পাশাপাশি নভেম্বরে একটি টিম বাংলাদেশ সফরে এসে নতুন ঋণ কর্মসূচি ও পে স্কেল নিয়ে আরও বিস্তারিত আলোচনা করতে চায়। সরকার আইএমএফকে সেই সুযোগ দিতে চায় না। এজন্য অক্টোবরের আগেই পে স্কেলের গেজেট প্রকাশ করে তা বাস্তবায়ন করতে চায়। অর্থ বিভাগ সূত্রে এসব তথ্য জানা গেছে।

এদিকে নতুন পে স্কেলের প্রস্তাবনা মন্ত্রিসভায় অনুমোদনের প্রস্তুতি নিচ্ছে অর্থ বিভাগ। চলতি সপ্তাহের শেষে কিংবা আগামী সপ্তাহের যেকোনো দিন মন্ত্রিসভার বৈঠকে এটি অনুমোদনের জন্য উপস্থাপন করা হতে পারে। তবে এর সূচি এখনো চূড়ান্ত হয়নি। এর অংশ হিসেবে পে স্কেলের সামগ্রিক পরিস্থিতি নিয়ে গতকাল সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রীর দপ্তরে দীর্ঘ পাঁচ ঘণ্টার বৈঠকে চুলচেরা বিশ্লেষণ করা হয়েছে পে স্কেলের প্রস্তাবনা।

বৈঠকে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী, অর্থসচিব ড. খায়েরুজ্জামান মজুমদার ও পে স্কেল সংক্রান্ত ফোকাল পারসনসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা এতে অংশ নেন। এ সময় পে স্কেল বাস্তবায়নের সম্ভাবনা ও সীমাবদ্ধতার নানা দিক তুলে ধরেন অর্থমন্ত্রী। পরে বাস্তবায়নের ব্যাপারে দিকনির্দেশনা দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেছেন, বর্তমান আর্থ-সামাজিক প্রেক্ষাপটে নতুন পে স্কেল বাস্তবায়নের সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। এখান থেকে পিছিয়ে যাওয়ার কোনো সুযোগ নেই। ধাপে ধাপে বাস্তবায়নের বিষয়ে আমরা আরও ভাবতে পারি তা নিয়ে কাজ করার পরামর্শ দিয়েছেন।

সংশ্লিষ্ট একাধিক সূত্র জানিয়েছে, নতুন পে স্কেলের আর্থিক প্রভাব, বাজেট ব্যবস্থাপনা, রাজস্ব সক্ষমতা এবং সামষ্টিক অর্থনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে ধারাবাহিক বৈঠক করছেন অর্থমন্ত্রী। সেখানে আইএমএফের আপত্তির বিষয়গুলো সম্পর্কেও আলোচনা হয়েছে। চলতি বাজেটে নতুন পে স্কেলের জন্য যে বরাদ্দ রাখা হয়েছে সেটা অপ্রতুল কি না তা নিয়েও বিশ্লেষণ করা হয়েছে বৈঠকে।

এর আগে বর্তমানে প্রচলিত অষ্টম পে স্কেল কার্যকর হয় ২০১৫ সালে। এক দশকের বেশি সময় ধরে সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বেতন কাঠামোয় বড় ধরনের পরিবর্তন হয়নি। এর মধ্যে জীবনযাত্রার ব্যয়, বাসাভাড়া, চিকিৎসা, শিক্ষা এবং নিত্যপণ্যের মূল্য উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। ফলে সরকারি কর্মচারীদের মধ্যে নতুন বেতন কাঠামোর দাবি জোরালো হয়েছে।

অর্থ মন্ত্রণালয়ের সূত্র অনুযায়ী, সরকারের অধীনে কর্মরত প্রায় ১৫ লাখ কর্মকর্তা-কর্মচারী এবং কয়েক লাখ পেনশনভোগী নতুন পে স্কেলের আওতায় আসবেন। বেতন বাড়ার পাশাপাশি বৃদ্ধি পেতে পারে বাড়িভাড়া, চিকিৎসা ও অন্যান্য ভাতা। এর ফলে পেনশন ব্যয়ও উল্লেখযোগ্য হারে বাড়বে। সরকারি চাকরিজীবীদের বিভিন্ন সংগঠন দীর্ঘদিন ধরে মূল বেতন পুনর্নির্ধারণ, মহার্ঘ ভাতা সমন্বয় এবং মূল্যস্ফীতির সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নতুন বেতন কাঠামোর দাবি জানিয়ে আসছে।

অর্থ বিভাগের কর্মকর্তারা বলছেন, বর্তমান মূল্যস্ফীতি পরিস্থিতি এবং সরকারি রাজস্ব সক্ষমতার মধ্যে ভারসাম্য রেখে বেতন কাঠামো নির্ধারণের চেষ্টা চলছে। এদিকে বাংলাদেশ বর্তমানে ৫.৫ বিলিয়ন ডলার আইএমএফের ঋণ কর্মসূচির আওতায় রয়েছে। এরই মধ্যে নতুন সাড়ে ছয় বিলিয়ন ডলার ঋণ কর্মসূচির আলোচনা শুরু হয়েছে। সংস্থাটির আশঙ্কা, নতুন পে স্কেল বাস্তবায়ন করলে সরকারের বার্ষিক রাজস্ব ব্যয় বেড়ে যাবে। এতে বাজেট ঘাটতি আরও বাড়বে এবং সামষ্টিক অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতার ওপর চাপ তৈরি হতে পারে। এতে মূল্যস্ফীতির চাপ আরও বাড়ার আশঙ্কা রয়েছে। যা বেসরকারি খাতের চাকরিজীবীদের ওপর বেশি চাপ তৈরি করবে। এ কারণে সংস্থাটি নতুন পে স্কেল কার্যকর করার সিদ্ধান্ত অন্তত দুই বছর পিছিয়ে দেওয়ার সুপারিশ করেছে।

অর্থনীতিবিদদের ধারণা, নতুন পে স্কেল কার্যকর হলে সরকারের বার্ষিক অতিরিক্ত ব্যয় অন্তত ৮২ হাজার কোটি টাকা বাড়তে পারে। বেতন বৃদ্ধির পাশাপাশি পেনশন, উৎসব ভাতা, বাড়িভাড়া ভাতা এবং অন্যান্য সুবিধা বৃদ্ধির কারণে প্রকৃত ব্যয়ের পরিমাণ আরও বেশি হতে পারে।

বর্তমান অর্থবছরে সরকারের পরিচালন ব্যয়ের বড় অংশই বেতন-ভাতা ও পেনশন খাতে ব্যয় হয়। নতুন পে স্কেল বাস্তবায়িত হলে রাজস্ব আয়ের ওপর বাড়তি চাপ তৈরি হবে। ফলে রাজস্ব সংগ্রহ বাড়ানো এবং ব্যয় ব্যবস্থাপনায় অধিক দক্ষতা প্রয়োজন হবে।

সরকারের নীতিনির্ধারকরা মনে করছেন, দীর্ঘ সময় ধরে বেতন কাঠামো অপরিবর্তিত থাকায় সরকারি চাকরিজীবীদের প্রকৃত আয় কমে গেছে। মূল্যস্ফীতির কারণে ক্রয়ক্ষমতাও হ্রাস পেয়েছে। প্রশাসনের দক্ষতা বৃদ্ধি, মেধাবী জনবল আকর্ষণ এবং কর্মীদের জীবনযাত্রার মান উন্নয়নের জন্য নতুন পে স্কেল প্রয়োজন।

নতুন পে স্কেল বাস্তবায়নের জন্য অর্থ বিভাগ বিকল্প কয়েকটি মডেল নিয়েও কাজ করছে। এর মধ্যে রয়েছে ধাপে ধাপে বেতন বৃদ্ধি, নির্দিষ্ট গ্রেডে অগ্রাধিকারভিত্তিক সুবিধা এবং কয়েক ধাপে আর্থিক প্রভাব সমন্বয়ের পরিকল্পনা। এ ধরনের পদ্ধতি অনুসরণ করলে এককালীন আর্থিক চাপ কিছুটা কমবে বলে মনে করছেন নীতিনির্ধারকরা।

বিশ্লেষকদের মতে, নতুন পে স্কেল বাস্তবায়নের সিদ্ধান্ত সরকারের জন্য অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক দুই দিক থেকেই গুরুত্বপূর্ণ। একদিকে সরকারি কর্মচারীদের দীর্ঘদিনের প্রত্যাশা পূরণ হবে, অন্যদিকে আইএমএফের সঙ্গে চলমান সংস্কার কর্মসূচির ভারসাম্যও বজায় রাখতে হবে।

সবকিছু ঠিক থাকলে আগামী কয়েক সপ্তাহের মধ্যেই প্রস্তাবটি মন্ত্রিসভায় উপস্থাপন করা হতে পারে। অনুমোদন মিললে অক্টোবরে আইএমএফের বার্ষিক সভার আগেই নতুন পে স্কেলের গেজেট প্রকাশের পথ খুলে যাবে।

চা শিল্পের উন্নয়নে প্রধানমন্ত্রীর আশ্বাস সংকট সমাধানে কমিটি গঠনের নির্দেশ :  বাংলাদেশের চা শিল্পের বিকাশ, উৎপাদন সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং দীর্ঘদিনের পুঞ্জীভূত সমস্যা সমাধানে প্রয়োজনীয় সব ধরনের সহযোগিতার আশ্বাস দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। একই সঙ্গে চা শিল্পের বিদ্যমান সমস্যাগুলো চিহ্নিত করে কার্যকর সমাধানে একটি কমিটি গঠনের নির্দেশ দিয়েছেন তিনি। গতকাল সচিবালয়ের মন্ত্রিপরিষদ বিভাগে দেশের চা শিল্পের উন্নয়ন নিয়ে আয়োজিত এক সভায় তিনি এ আশ্বাস দেন।

সভায় দেশের বিভিন্ন চা বাগানের মালিক ও সংশ্লিষ্ট প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন। তারা চা শিল্পের বর্তমান অবস্থা, উৎপাদন ব্যয় বৃদ্ধি, অর্থায়ন সংকট, জ্বালানি ব্যয় এবং আন্তর্জাতিক বাজারে প্রতিযোগিতা ধরে রাখার নানা চ্যালেঞ্জ প্রধানমন্ত্রীর সামনে তুলে ধরেন। পাশাপাশি শিল্পের টেকসই উন্নয়নের লক্ষ্যে তারা কিছু দাবি ও প্রস্তাব উপস্থাপন করেন।

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান চা শিল্পকে দেশের অর্থনীতির অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ খাত হিসেবে উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, এ শিল্পের বিকাশে সরকার প্রয়োজনীয় নীতিগত, আর্থিক ও প্রাতিষ্ঠানিক সহায়তা প্রদান করবে।

সভায় চা বাগান মালিকদের বিদ্যমান ঋণের দায় সহজীকরণ এবং স্বল্প সুদে ঋণ দেওয়ার আশ্বাস দেন প্রধানমন্ত্রী। এ ছাড়া চা বাগানের যেসব জমি চা চাষের অনুপযোগী, সেখানে সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদনের অনুমতি দেওয়ার বিষয়টি সরকার ইতিবাচকভাবে বিবেচনা করবে বলে জানান তিনি। এ ধরনের নবায়নযোগ্য জ্বালানি প্রকল্প বাস্তবায়নে প্রয়োজনীয় অর্থনৈতিক সহযোগিতাও দেওয়া হবে বলে আশ্বস্ত করেন প্রধানমন্ত্রী। পরে চা শিল্পের সার্বিক সমস্যা চিহ্নিত করে দ্রুত ও কার্যকর সমাধান বের করতে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়, বিভাগ এবং চা শিল্প-সংশ্লিষ্ট প্রতিনিধিদের সমন্বয়ে একটি বিশেষ কমিটি গঠনের নির্দেশ দেন সরকারপ্রধান।

সভায় বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদমন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু, ভূমিমন্ত্রী মিজানুর রহমান মিনু, বাণিজ্য, শিল্প এবং বস্ত্র ও পাটমন্ত্রী খন্দকার আবদুল মুক্তাদির, ভূমি প্রতিমন্ত্রী মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দীন, প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব এ বি এম আবদুস সাত্তারসহ সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের সচিব এবং চা বাগান মালিক ও সংগঠনের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই বিভাগের আরও খবর