সোমবার, ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৭:৪৫ অপরাহ্ন
সর্বশেষ
রামেকে ডেঙ্গুতে চার বছরের শিশুর মৃত্যু চীনের সঙ্গে বাণিজ্য-বিনিয়োগ বাড়াতে গুরুত্ব আরোপ প্রধানমন্ত্রীর নির্বাচনে প্রার্থীদের ডোপ টেস্ট বাধ্যতামূলক করতে হাইকোর্টের রুল গণভবনের পেছনের মাঠ ঘিরে রেখেছে এসআরবি, ঘটনাস্থলে বোম্ব ডিসপোজাল দল পুঁজিবাজারে সূচকের পতনে সিএসইর কমেছে লেনদেন ঢাকায় গ্রেফতার কুমিল্লা দক্ষিণ জেলা স্বেচ্ছাসেবক লীগ সভাপতি উত্তর কোরীয় যুদ্ধবন্দীদের তথ্য ফাঁস, ইউক্রেনের ওপর ক্ষুব্ধ দক্ষিণ কোরিয়া আলিশান বাড়ি, লাখ লাখ টাকার গাড়ি; লালপুরে ‘অনলাইন প্রতারকদের’ রাজকীয় জীবন কেপটাউনে ওয়ানডে বিশ্বকাপের সময়সূচি ঘোষণা হবে তরুণদের উচ্চ রক্তচাপজনিত হৃদরোগ ঝুঁকি হ্রাসে অর্থ বরাদ্দ বৃদ্ধির আহ্বান
নোটিশ:
তথ্য ও প্রচার মন্ত্রণালয় নিবন্ধনকৃত অনলাইন নিউজ পোর্টাল দ্য পিপলস্ নিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকে সারা দেশে জেলা প্রতিনিধি নিয়োগ করা হবে। মোবাইল: ০১৭১১-১১৬২৫৭, ০১৭১২-৪০৭২৮২ ' ই-মেইল : thepeopelesnews24@gmail.com

আলিশান বাড়ি, লাখ লাখ টাকার গাড়ি; লালপুরে ‘অনলাইন প্রতারকদের’ রাজকীয় জীবন

নাটোর প্রতিনিধি : / ৩৩ বার দেখা হয়েছে
আপডেট : সোমবার, ২৮ সেপ্টেম্বর, ২০২৬

নাটোরের লালপুর উপজেলা এখন ইমো, ফেসবুক ও হোয়াটসঅ্যাপ হ্যাকিংসহ বিভিন্ন ধরনের অনলাইন প্রতারণার একটি ‘ট্রেন্ডিং জোনে’ পরিণত হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। প্রাথমিকের গণ্ডিও পেরোয়নি—এমন অনেক তরুণ ও যুবকও এই প্রতারণার সঙ্গে জড়িয়ে পড়েছেন বলে স্থানীয়দের দাবি।

অনুসন্ধানে জানা গেছে, এই অপরাধচক্রের সঙ্গে জড়িত তরুণদের সিংহভাগেরই দৃশ্যমান কোনো আয়ের উৎস নেই। অথচ তাদের জীবনযাপন দেখলে যে কারও চোখ কপালে উঠবে। গ্রামের মেঠোপথের পাশে তারা তৈরি করেছেন আধুনিক স্থাপত্যের চোখধাঁধানো আলিশান বাড়ি। প্রশাসনের নজরদারি এড়াতে কিংবা নিজেদের নিরাপত্তার জন্য এসব বাড়ির বিভিন্ন স্থানে একাধিক সিসিটিভি ক্যামেরাও বসানো হয়েছে বলে স্থানীয়দের অভিযোগ।

শুধু তাই নয়, এসব তরুণের অনেকের হাতেই দেখা যায় ৫ থেকে ৮ লাখ টাকা দামের নামি ব্র্যান্ডের মোটরসাইকেল। তারা ব্যবহার করেন নামি ব্র্যান্ডের পোশাক ও জুতা। কোনো পরিশ্রম ছাড়াই রাতারাতি ধনী হওয়ার এই অন্ধ প্রতিযোগিতায় স্থানীয় কিশোর ও যুবকদের একটি বড় অংশ জড়িয়ে পড়ছে বলে অভিযোগ রয়েছে।

স্থানীয়দের অভিযোগ, তাদের এই বিলাসবহুল জীবনযাপনের পেছনে অর্থের একটি বড় উৎস মধ্যপ্রাচ্যসহ বিভিন্ন দেশে থাকা প্রবাসী বাংলাদেশিদের রেমিট্যান্স। প্রবাসীদের স্বজনদের কাছ থেকে প্রতারণার মাধ্যমে হাতিয়ে নেয়া অর্থেই এসব বিলাসবহুল বাড়ি ও জীবনযাপন গড়ে উঠছে বলে অভিযোগ।

স্থানীয় সচেতন মহলের মতে, রাতারাতি ধনী হওয়ার প্রবল আকাঙ্ক্ষা এবং ইন্টারনেটের সহজলভ্যতাকে ইতিবাচক কাজে ব্যবহার না করে অপরাধমূলক কাজে জড়িয়ে পড়ার মানসিকতাই এর অন্যতম কারণ। অল্প বয়সে বিপুল অর্থের মালিক হয়ে যাওয়ায় এসব প্রতারণার সঙ্গে জড়িতদের অনেকেই মাদক কারবারসহ বিভিন্ন অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িয়ে পড়ছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে এক অনলাইন প্রতারক (ইমো হ্যাকার) জানান, এই ডিজিটাল অপরাধচক্রের মূল টার্গেট প্রবাসীরা। তারা কয়েকটি ধাপে প্রতারণা করে থাকে।

তার ভাষ্য, চক্রের তরুণ সদস্যরা সুন্দর কোনো মেয়ের ছবি ব্যবহার করে ভুয়া ফেসবুক বা ইমো অ্যাকাউন্ট খোলে। এরপর টার্গেট করা প্রবাসীকে ফ্রেন্ড রিকোয়েস্ট পাঠিয়ে শুরু হয় মিষ্টি আলাপ ও প্রেমের অভিনয়। একপর্যায়ে ভিডিও কলে কথা বলার প্রলোভন দেখিয়ে কিংবা কোনো অ্যাপ ইনস্টলের অজুহাতে কৌশলে প্রবাসীর মোবাইলে একটি কোড পাঠানো হয়। ইমো অ্যাকাউন্ট সচল করার ওই ওটিপি কোডটি প্রবাসীর কাছ থেকে কৌশলে জেনে নেয়ার পর তার ইমো অ্যাকাউন্টের নিয়ন্ত্রণ চলে যায় হ্যাকারদের হাতে।

এরপর শুরু হয় অর্থ হাতানোর প্রক্রিয়া। প্রবাসীর ইমো আইডি হ্যাক করার পর হ্যাকাররা বাংলাদেশে থাকা তার মা, বাবা, স্ত্রী বা ভাইয়ের আইডিতে মেসেজ পাঠায়। প্রবাসীর কণ্ঠ বা বাচনভঙ্গি নকল করে তারা বলে, ‘আমি খুব বিপদে পড়েছি, পুলিশ ধরেছে’ অথবা ‘হাসপাতালে আছি, জরুরি অপারেশন লাগবে। এখনই এই বিকাশ নম্বরে টাকা দাও।’ দেশের মাটিতে থাকা স্বজনরা প্রবাসীর বিপদের কথা শুনে মুহূর্তের মধ্যে হ্যাকারদের দেওয়া বিকাশ বা নগদ নম্বরে হাজার হাজার টাকা পাঠিয়ে দেন।বিলমাড়িয়া ইউনিয়নের সাইফুল ইসলাম বলেন, “লালপুর উপজেলার লালপুর সদর, বিলমাড়িয়া, দুড়দুড়িয়া এবং পাশের বাঘা উপজেলার বেশ কয়েকটি এলাকা এসব প্রতারকের ভয়ঙ্কর ‘ট্রেন্ডিং জোনে’ পরিণত হয়েছে।”

দুড়দুড়িয়া ইউনিয়নের লালন আলী বলেন, ‘এসব প্রতারকের সিংহভাগই মাদকাসক্ত। তাদের কেন্দ্র করে এসব এলাকায় মাদক কেনাবেচাসহ বিভিন্ন সামাজিক অপরাধের সিন্ডিকেট গড়ে উঠছে।

উপজেলার নওপাড়া গ্রামের রফিকুল ইসলাম বলেন, ‘যেসব ছেলেদের বাবা কৃষিকাজ বা দিনমজুরি না করলে একবেলা ভাত জুটত না, তাদের এখন রাজকীয় বাড়ি, গাড়ি, খাওয়া-দাওয়া ও চলাফেরা দেখলে চোখ কপালে ওঠে।’

লালপুর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. শফিকুল ইসলাম জানান, গত ছয় মাসে লালপুর থানা পুলিশ ধারাবাহিকভাবে সাইবার অপরাধসংক্রান্ত প্রায় ৫০টি অভিযান চালিয়ে ৭৬ জন হ্যাকার ও প্রতারককে গ্রেফতার করেছে। এ ঘটনায় সাইবার সুরক্ষা আইনে ২৪টি মামলা করা হয়েছে। অভিযানে বিভিন্ন মোবাইল অপারেটরের ডজন ডজন ভুয়া বা বেনামি সিম কার্ড এবং অপরাধে ব্যবহৃত আধুনিক অ্যান্ড্রয়েড ফোন উদ্ধার করা হয়েছে।

তিনি আরও বলেন, কেবল পুলিশি অভিযান চালিয়ে এই সাইবার অপরাধ পুরোপুরি নির্মূল করা সম্ভব নয়। এর জন্য প্রয়োজন পারিবারিক সচেতনতা ও সামাজিক প্রতিরোধ। বিশেষ করে প্রবাসীদের ইমো বা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারের ক্ষেত্রে কোনো অজানা লিংকে ক্লিক না করা এবং ওটিপি কোড বা পাসওয়ার্ড কারও সঙ্গে শেয়ার না করার বিষয়ে অত্যন্ত সতর্ক থাকতে হবে।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই বিভাগের আরও খবর