সকালে বই-খাতা গুছিয়ে বিদ্যালয়ের পথে ছোট্ট কাশফিয়া। শ্রেণিকক্ষে পড়াশোনার পাশাপাশি বিরতিতে পুষ্টিকর খাবার পাওয়ার আনন্দও আছে তার। একই চিত্র জান্নাতুন ও নুর আব্দুল্লাহর ক্ষেত্রেও। বিদ্যালয়ে খাবার পাওয়ার সুযোগ শিশুদের স্কুলে আসার আগ্রহ বাড়াচ্ছে। ক্ষুধা নিয়ে ক্লাস করার অস্বস্তি কমিয়ে পড়াশোনায় মনোযোগ ধরে রাখতেও সহায়তা করছে এ উদ্যোগ। ঠাকুরগাঁওয়ের বালিয়াডাঙ্গী উপজেলায় সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে চালু হওয়া স্কুল ফিডিং কর্মসূচি ঘিরে এমন আশার কথাই জানাচ্ছেন শিক্ষার্থী, শিক্ষক ও অভিভাবকেরা।
উপজেলার ১৩৮টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ১৪ হাজার ৬৮০ জন শিক্ষার্থী এ কর্মসূচির আওতায় সপ্তাহে পাঁচ দিন পুষ্টিকর খাবার পাচ্ছে। বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা ইএসডিওর বাস্তবায়নে পরিচালিত এ কর্মসূচির খাবারের তালিকায় রয়েছে ডিম, কলা, পাউরুটি। এছাড়াও শিক্ষার্থীরা পাচ্ছে দুধ এবং পুষ্টি সমৃদ্ধ বিস্কুট।
বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী কাশফিয়া জানায়, স্কুলে এসে পুষ্টিকর খাবার পেয়ে সে খুব খুশি। খাবার পাওয়ায় নিয়মিত বিদ্যালয়ে আসার আগ্রহও বেড়েছে তার। বাড়িতে কোনো কারণে রান্না না হলেও বিদ্যালয়ে এসে খাবার পাওয়ায় না খেয়ে থাকার দুশ্চিন্তা কমেছে।
শিক্ষার্থী জান্নাতুনের কাছেও স্কুলের টিফিন আনন্দের বিষয়। বিদ্যালয়ে এসে পুষ্টিকর খাবার খেতে পারছে বলে ভালো লাগে তার। একই কথা জানায় নুর আব্দুল্লাহও। তাদের মতে, বিদ্যালয়ে খাবারের ব্যবস্থা থাকায় স্কুলে আসতে আগ্রহ বাড়ছে। পাশাপাশি ক্ষুধার সমস্যা কমায় ক্লাসে পড়াশোনায় মনোযোগ দিতেও সুবিধা হচ্ছে।
শিশুদের এ অভিজ্ঞতায় খুশি অভিভাবকেরাও। তাঁদের মতে, সরকারের এ উদ্যোগ অত্যন্ত প্রশংসনীয়। পরিবারের পক্ষে প্রতিদিন সন্তানদের ডিম, দুধ, কলা, পাউরুটি ও বিস্কুটের মতো খাবার দেওয়া সম্ভব হয় না। বিদ্যালয়ে এসব খাবার পাওয়ায় শিশুরা পুষ্টিকর খাবার খাওয়ার সুযোগ পাচ্ছে।
এক অভিভাবক রুকাইয়া বলেন, সরকারের এ উদ্যোগ অত্যন্ত মহৎ। প্রতিদিন সন্তানদের পুষ্টিকর খাবার খাওয়ানোর সামর্থ্য সব পরিবারের থাকে না। স্কুলে এসে শিশুরা ডিম, দুধ, কলা ও অন্যান্য খাবার পাচ্ছে। এতে তাদের পুষ্টির চাহিদা পূরণে সহায়তা হচ্ছে।
আরেক অভিভাবকের মতে, আগে রান্না করতে দেরি হলে ছেলেমেয়েরা না খেয়ে বিদ্যালয়ে আসলে যে চিন্তা হতো সেটি এখন আর হয় না। কারন তারা বিদ্যালয়েই পুষ্টিকর খাবার পাচ্ছে। এবং একই সঙ্গে সন্তানদের পুষ্টিকর খাবার পাওয়ার বিষয়টি অভিভাবকদের জন্য স্বস্তির।
ইএসডিওর উপজেলা প্রকল্প সমন্বয়কারী নূর আলম বলেন, শিক্ষার্থীদের নিয়মিত পুষ্টিকর খাবার সরবরাহের মাধ্যমে তাদের পুষ্টির চাহিদা পূরণ, বিদ্যালয়ে উপস্থিতি বৃদ্ধি এবং ঝরে পড়া রোধে কাজ করছে এ কর্মসূচি।
বালিয়াডাঙ্গী উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা অতুল চন্দ্র রায় বলেন, বিদ্যালয়ের বিরতির সময় একবেলা পুষ্টিকর খাবার পাওয়ায় শিক্ষার্থীদের উপস্থিতি ও মনোযোগ বাড়ছে। বর্ষাকালসহ বিভিন্ন প্রতিকূল পরিস্থিতিতেও শিশুদের বিদ্যালয়মুখী হওয়ার প্রবণতা দেখা যাচ্ছে। আগের বছরগুলোর তুলনায় বিভিন্ন বিদ্যালয়ে উপস্থিতির হারেও ইতিবাচক পরিবর্তন লক্ষ করা যাচ্ছে।
শিশুদের পুষ্টি নিশ্চিত করার পাশাপাশি বিদ্যালয়ে নিয়মিত উপস্থিতি বাড়ানো ও ঝরে পড়া রোধে স্কুল ফিডিং কর্মসূচি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে আশা সংশ্লিষ্টদের।