বুধবার, ১৪ জানুয়ারী ২০২৬, ০৬:১৪ অপরাহ্ন
নোটিশ:
তথ্য ও প্রচার মন্ত্রণালয় নিবন্ধনকৃত অনলাইন নিউজ পোর্টাল দ্য পিপলস্ নিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকে সারা দেশে জেলা প্রতিনিধি নিয়োগ করা হবে। মোবাইল: ০১৭১১-১১৬২৫৭, ০১৭১২-৪০৭২৮২ ' ই-মেইল : thepeopelesnews24@gmail.com

দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর প্রথমবার ফ্রান্সে জন্মের চেয়ে মৃত্যু বেশি

অনলাইন ডেস্ক: / ৫ বার দেখা হয়েছে
আপডেট : বুধবার, ১৪ জানুয়ারী, ২০২৬
-সংগৃহীত ছবি।

দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর এই প্রথমবার ফ্রান্সে এক বছরে জন্মের সংখ্যাকে ছাড়িয়ে গেছে মৃত্যুর সংখ্যা। সরকারি পরিসংখ্যান সংস্থা ইনসির (INSEE) তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালে দেশটিতে মৃত্যু হয়েছে ৬ লাখ ৫১ হাজার মানুষের, আর জন্ম হয়েছে ৬ লাখ ৪৫ হাজার শিশুর। কোভিড-১৯ মহামারির পর থেকে জন্মহার উল্লেখযোগ্যভাবে কমে যাওয়ায় এই পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে।

ইনসি জানিয়েছে, ২০২৫ সালে ফ্রান্সের মোট প্রজনন হার (একজন নারীর গড় সন্তান সংখ্যা) নেমে এসেছে ১.৫৬-এ। এটি প্রথম বিশ্বযুদ্ধের পর সর্বনিম্ন। অথচ পেনশন ব্যবস্থার ভবিষ্যৎ হিসাব করতে ১.৮ হারে জন্ম ধরে নেওয়া হয়েছিল। কিন্তু বাস্তব জন্মহার সেই হিসাবের চেয়ে অনেক কম।

দীর্ঘদিন ধরে ইউরোপের অন্য দেশগুলোর তুলনায় ফ্রান্সের জনসংখ্যাগত অবস্থা তুলনামূলক ভালো ছিল। তবে এখন বয়স্ক মানুষের সংখ্যা বাড়ছে, জন্ম কমছে। ফলে ইউরোপজুড়ে যে জনসংখ্যাগত সংকট চলছে, ফ্রান্সও তার বাইরে থাকছে না। ২০২৩ সালে ইউরোপীয় ইউনিয়নের মধ্যে ফ্রান্সের জন্মহার ছিল দ্বিতীয় সর্বোচ্চ, ১.৬৫। সে বছর কেবল বুলগেরিয়ার জন্মহার বেশি ছিল।

জাতীয় নিরীক্ষা দপ্তর সতর্ক করে বলেছে, এই পরিবর্তনের কারণে আগামী বছরগুলোতে সরকারি ব্যয় আবার মহামারির সময়ের মতো বেড়ে যেতে পারে। একই সঙ্গে করদাতার সংখ্যা কমে যাওয়ায় রাষ্ট্রের আয়ও চাপের মুখে পড়বে।
অর্থনীতিবিদ ফিলিপ ক্রেভেল জানান, ১৯৬০-এর দশকে জন্ম নেওয়া বড় প্রজন্ম অবসরে যাওয়ায় শ্রমবাজারে কর্মীর ঘাটতি বাড়তে পারে। এতে কাজের চাপ ও উৎপাদন সমস্যাও তৈরি হবে।

তবে জন্মের চেয়ে মৃত্যু বেশি হলেও ২০২৫ সালে ফ্রান্সের মোট জনসংখ্যা সামান্য বেড়েছে। ইনসির হিসাবে, নিট অভিবাসন (দেশে আসা ও যাওয়া মানুষের পার্থক্য) ছিল ১ লাখ ৭৬ হাজার। এর ফলে মোট জনসংখ্যা দাঁড়িয়েছে প্রায় ৬ কোটি ৯১ লাখে।

এদিকে গড় আয়ু নতুন রেকর্ডে পৌঁছেছে। নারীদের গড় আয়ু ৮৫.৯ বছর এবং পুরুষদের ৮০.৩ বছর। বর্তমানে ফ্রান্সে ৬৫ বছর বা তার বেশি বয়সি মানুষের হার বেড়ে ২২ শতাংশে দাঁড়িয়েছে।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই বিভাগের আরও খবর