পশ্চিমবঙ্গের রাজনীতিতে ফের উত্তেজনার আবহ। এসআইআর (Special Intensive Revision)-এর চূড়ান্ত তালিকা প্রকাশের পর নাম বাদ পড়ার অভিযোগকে কেন্দ্র করে ৬ মার্চ কলকাতার ধর্মতলার মেট্রো চ্যানেলে অনশনে বসার ঘোষণা দিয়েছেন পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। শাসকদল তৃণমূল কংগ্রেস জানিয়েছে, ওই দিন দুপুর ২টা থেকে অবস্থান বিক্ষোভ শুরু হবে এবং তাতে মুখ্যমন্ত্রী নিজে অংশ নেবেন।
শনিবার (২৮ ফেব্রুয়ারি) এসআইআরের চূড়ান্ত তালিকা প্রকাশিত হওয়ার পর থেকেই রাজ্যে রাজনৈতিক উত্তেজনা বাড়তে থাকে। তৃণমূলের অভিযোগ, বিপুল সংখ্যক বৈধ ভোটারের নাম তালিকা থেকে বাদ দেওয়া হয়েছে। যদিও ভারতীয় জনতা পার্টি এই অভিযোগ অস্বীকার করেছে। ফলে শাসক ও বিরোধী শিবিরের মধ্যে সংঘাত আরও তীব্র হয়েছে।
দলীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, এসআইআরে নাম বাদ পড়ার প্রতিবাদেই এই কর্মসূচি নেওয়া হয়েছে। তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় জানিয়েছেন, ৬ মার্চ মেট্রো চ্যানেলেই অনশনে বসবেন মুখ্যমন্ত্রী। দুপুর ২টা থেকে শুরু হওয়া এই অবস্থান কর্মসূচি থেকেই পরবর্তী রাজনৈতিক কর্মসূচির ঘোষণা করা হবে।
অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় আরও জানান, অতীতে যেখানে অনশন করেছিলেন মুখ্যমন্ত্রী, এবারও সেই একই স্থানে কর্মসূচি হবে। দলের তরফে ইতিমধ্যেই প্রশাসনের কাছে অনুমতির জন্য চিঠি দেওয়া হয়েছে। কলকাতা ও পার্শ্ববর্তী জেলার নেতাকর্মীদের ওই কর্মসূচিতে উপস্থিত থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
এসআইআর ইস্যুতে শুরু থেকেই সরব রয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। ফেব্রুয়ারির শুরুতে নির্বাচন কমিশন সংক্রান্ত মামলার শুনানিতে তিনি সুপ্রিম কোর্টে উপস্থিত হয়ে নিজেই বক্তব্য রাখেন। কমিশনের বিরুদ্ধে নির্দেশ অমান্যের অভিযোগ তোলেন। পরে এসআইআরের চূড়ান্ত তালিকা প্রকাশের আগেও তিনি আদালতের দ্বারস্থ হন।
মুখ্যমন্ত্রীর আইনজীবী কপিল সিব্বল অভিযোগ করেন, সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশ থাকা সত্ত্বেও কলকাতা হাইকোর্টের প্রধান বিচারপতিকে না জানিয়ে বিচার বিভাগীয় কর্মকর্তাদের জন্য নির্দেশিকা জারি করেছে নির্বাচন কমিশন। এই পদক্ষেপকে বেআইনি বলেও দাবি করা হয়।
এসআইআর প্রক্রিয়া চলাকালে একাধিক ব্লক লেভেল অফিসারের মৃত্যু, সাধারণ মানুষের হয়রানি এবং নানা অসঙ্গতির অভিযোগ তুলে সরব হয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। তাঁর দাবি, বহু মানুষের নাম যথাযথ যাচাই ছাড়া বাদ দেওয়া হয়েছে।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এই অনশন কর্মসূচির মাধ্যমে অতীতের আন্দোলনের ইমেজকে সামনে এনে নতুন করে জনমত সংগঠনের চেষ্টা করছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। ধর্মতলার মেট্রো চ্যানেল দীর্ঘদিন ধরেই রাজ্যের গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক কর্মসূচির কেন্দ্র। সেখানেই মুখ্যমন্ত্রীর অনশন কর্মসূচি রাজনৈতিকভাবে তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে। যদিও তৃণমূলের দাবি, এটি সাধারণ মানুষের ন্যায্য দাবির পক্ষে শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদ।
এসআইআরের চূড়ান্ত তালিকা প্রকাশের পর রাজ্যের বিভিন্ন জেলায় বিক্ষোভের খবর পাওয়া গেছে। তৃণমূল নেতারা দাবি করেছেন, তালিকায় ব্যাপক অনিয়ম রয়েছে। বিজেপি পাল্টা বলেছে, নির্বাচন কমিশন নিয়ম মেনেই কাজ করেছে।
এদিকে নির্বাচন কমিশনের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছে শাসকদল। কমিশনের সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে আইনি ও রাজনৈতিক দুই পথে লড়াই চালিয়ে যাওয়ার ইঙ্গিত দেওয়া হয়েছে।
৬ মার্চের কর্মসূচিকে ঘিরে কলকাতায় প্রশাসনিক প্রস্তুতি শুরু হয়েছে। ধর্মতলা ও সংলগ্ন এলাকায় নিরাপত্তা জোরদার করা হতে পারে বলে জানা গেছে।এসআইআর ইস্যুতে মুখ্যমন্ত্রীর ধর্না কর্মসূচি রাজ্য রাজনীতিতে নতুন করে উত্তেজনা সৃষ্টি করেছে। ধর্নামঞ্চ থেকে কী বার্তা দেন তিনি এবং পরবর্তী কর্মসূচি কী হয় সেদিকে নজর রয়েছে রাজনৈতিক মহলের।